সুখবর পাচ্ছেন প্রাথমিকের ১৪৩৮৪ হাজার শিক্ষক

আপডেট : ২৭ জুন ২০২৬, ০৪:৩২ পিএম

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পদে চূড়ান্তভাবে সুপারিশ পেয়েও দীর্ঘ পাঁচ মাস ধরে ঝুলে থাকা ১৪ হাজার ৩৮৪ জন প্রার্থীর প্রতীক্ষার অবসান ঘটতে যাচ্ছে। অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে তড়িঘড়ি করে নেওয়া এই নিয়োগ পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগ ওঠায় নতুন সরকার কয়েক ধাপে পুরো বিষয়টি যাচাই-বাছাই করেছে। অবশেষে সব জটিলতা কাটিয়ে যোগদানের বিষয়ে বড় ধরনের অগ্রগতির ইঙ্গিত মিলেছে।

আগামী রবিবার (২৮ জুন) নবনিযুক্ত প্রাথমিক শিক্ষকদের যোগদান ও পদায়নের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে সভায় বসছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়।

বিকেল ৩টায় সচিবালয়ে অনুষ্ঠিতব্য এই সভায় সভাপতিত্ব করবেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. সাখাওয়াত হোসেন। সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নবনিযুক্ত সহকারী শিক্ষকদের পদায়ন, কর্মরত শিক্ষকদের বদলি এবং সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম পর্যালোচনা ও নিষ্পত্তির লক্ষ্যে গঠিত 'জাতীয় কমিটি'র এটিই প্রথম সভা।

গত বুধবার (২৪ জুন) জারি করা এক চিঠিতে জানানো হয়, সারা দেশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক পদায়ন ও বদলি কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য গঠিত এই কমিটি রবিবারের সভায় প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেবে। এর আগে, গত ২২ জুন এই জাতীয় কমিটি গঠনের প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছিল।

তবে সচিব মো. সাখাওয়াত হোসেন জানিয়েছেন, সভায় বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হলেও এই বৈঠকেই যোগদানের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে কি না, তা এখনই নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।

উল্লেখ্য, গত ৯ জানুয়ারি পার্বত্য তিন জেলা বাদে দেশের ৬১টি জেলায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগের লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। এতে উত্তীর্ণ ৬৯ হাজার ২৬৫ জন প্রার্থী মৌখিক পরীক্ষায় অংশ নেন। পরবর্তীতে ৮ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত চূড়ান্ত ফলাফলে ১৪ হাজার ৩৮৪ জনকে নিয়োগের জন্য প্রাথমিকভাবে নির্বাচিত করা হয়।

লিখিত, মৌখিকসহ নিয়োগের সব আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলেও এতদিন তারা যোগদান করতে পারেননি। ফলে নির্বাচিত প্রার্থীদের মধ্যে তীব্র অনিশ্চয়তা তৈরি হয় এবং নিয়োগ দ্রুত কার্যকরের দাবিতে গত এপ্রিলের শেষ দিকে তারা রাজধানীতে আন্দোলনও করেন। পরবর্তীতে সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়, প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ শেষেই তাদের নিয়োগ কার্যক্রম সম্পন্ন করা হবে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, রবিবারের এই বৈঠকটি ভুক্তভোগী শিক্ষকদের দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসানের পথে একটি বড় ও ইতিবাচক পদক্ষেপ।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত