বাংলাদেশে ক্ষুদ্র, কুটির ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের (সিএমএসএমই) অর্থায়নে পথিকৃৎ হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছে ব্র্যাক ব্যাংক। গত ২৫ বছরে ব্যাংকটি ২০ লাখের বেশি উদ্যোক্তাকে প্রায় ২ লাখ কোটি টাকার ঋণ দিয়েছে, যার ৮৫ শতাংশেরও বেশি ছিল জামানতবিহীন। একই সঙ্গে ডিজিটাল ব্যাংকিং, উদ্ভাবনী ঋণপণ্য এবং উদ্যোক্তা উন্নয়ন কর্মসূচির মাধ্যমে দেশের সিএমএসএমই খাতের বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে প্রতিষ্ঠানটি। বর্তমান অর্জন, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা এবং এসএমই খাতের ডিজিটাল বিস্তার নিয়ে দেশ রূপান্তরের সঙ্গে কথা বলেছেন ব্র্যাক ব্যাংকের অ্যাডিশনাল ম্যানেজিং ডিরেক্টর অ্যান্ড হেড অব এসএমই ব্যাংকিং সৈয়দ আব্দুল মোমেন।
দেশ রূপান্তর : সিএমএসএমই খাতে ব্র্যাক ব্যাংকের সবচেয়ে বড় সাফল্য কী?
সৈয়দ আব্দুল মোমেন : ব্র্যাক ব্যাংক দেশের সবচেয়ে বড় জামানতবিহীন সিএমএসএমই ঋণদাতা প্রতিষ্ঠান। ব্যাংকটির প্রতিষ্ঠাতা ফজলে হাসান আবেদের সু-দীর্ঘ চিন্তার ধারাবাহিকতায় ২০০১ সালে ব্র্যাক ব্যাংকের জন্ম হয়। প্রতিষ্ঠার পর থেকে দীর্ঘ ২৫ বছরে আমরা ২০ লাখের বেশি উদ্যোক্তাকে প্রায় ২ লাখ কোটি টাকার ঋণ বিতরণ করেছি। এসব ঋণের ৮৫ শতাংশের বেশি কোনো মর্টগেজ ছাড়াই দেওয়া হয়েছে। শুধু অর্থায়ন নয়, উদ্যোক্তাদের দক্ষতা উন্নয়ন, বাজার সম্প্রসারণ এবং ডিজিটাল সেবা প্রদানের মাধ্যমেও আমরা তাদের পাশে রয়েছি।
দেশ রূপান্তর : আগামী পাঁচ বছরে এসএমই খাতে ব্র্যাক ব্যাংকের লক্ষ্য কী?
সৈয়দ আব্দুল মোমেন : ব্র্যাক ব্যাংক সবসময় তৃণমূল পর্যায়ে সিএমএসএমই উদ্যোক্তাদের সহজে অর্থায়নের সুযোগ দিতে চায়। আমাদের লক্ষ্য দেশের সবচেয়ে প্রভাবশালী ব্যাংক হিসেবে নিজেদের অবস্থান আরও শক্তিশালী করা। বর্তমানে ব্র্যাক ব্যাংকের মোট ঋণের প্রায় ৪৭ শতাংশ এসএমই খাতে বিতরণ করা হয়েছে। আগামী পাঁচ বছরে এই খাতে আরও বেশি উদ্যোক্তার কাছে পৌঁছানো, ঋণ বিতরণ বাড়ানো এবং বাজারে নেতৃত্বের অবস্থান আরও সুসংহত করাই আমাদের লক্ষ্য।
দেশ রূপান্তর : এসএমই খাতের ডিজিটাল রূপান্তরে ব্র্যাক ব্যাংক কী করছে?
সৈয়দ আব্দুল মোমেন : এসএমই খাতের ডিজিটালাইজেশনকে আমরা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছি। গত এক বছরে ৫০ হাজারের বেশি এসএমই হিসাব ডিজিটালি খোলা হয়েছে। ‘আস্থা’ অ্যাপের মাধ্যমে গ্রাহকেরা সহজে ব্যাংকিং সেবা নিচ্ছেন। এ ছাড়া ইরুচধু, ই-ল্যাপ এবং ডিজিটাল ঋণ প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে ঋণ ও লেনদেন প্রক্রিয়া আরও দ্রুত ও সহজ করা হয়েছে। বাংলা কিউআর সেবাও উদ্যোক্তাদের মধ্যে সম্প্রসারণ করা হচ্ছে।
দেশ রূপান্তর : গত এক বছরে নতুন কী কী পণ্য বা সেবা চালু করেছেন?
সৈয়দ আব্দুল মোমেন : গত এক বছরে আমরা বেশ কয়েকটি উদ্ভাবনী পণ্য চালু করেছি। এর মধ্যে রয়েছে কাগজবিহীন ডিজিটাল ঋণ ‘সাফল্য’ ও ‘জীবিকা’, রেমিট্যান্সভিত্তিক ঋণসেবা ‘স্বাবলম্বী’ এবং নৌপরিবহন খাতের জন্য ‘তরঙ্গ ’। পাশাপাশি ডিজিটাল অনবোর্ডিং ও ই-চালান, ইউটিলিটি বিল প্ল্যাটফর্ম চালুর মাধ্যমে উদ্যোক্তাদের ব্যাংকিং সেবা আরও সহজ ও গতিশীল করা হয়েছে। যা আগে কখনো ছিল না।
দেশ রূপান্তর : আগামী দিনে প্রোডাক্ট ইনোভেশনে আপনাদের পরিকল্পনা কী?
সৈয়দ আব্দুল মোমেন : আগামী দিনে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও ডেটাভিত্তিক ক্রেডিট স্কোরিংয়ের মাধ্যমে আরও দ্রুত ও সহজ ঋণসেবা নিশ্চিত করতে চাই। পাশাপাশি নারী উদ্যোক্তা, গ্রিন ফিন্যান্সিং, সাপ্লাই চেইন ফাইন্যান্সিং এবং নতুন ডিজিটাল সমাধান নিয়ে কাজ চলছে। সম্প্রতি চালু হওয়া ‘এসএমই ইনোভেশন ল্যাব’ থেকে উদ্যোক্তাদের জন্য আরও নতুন ও কার্যকর সেবা নিয়ে আসার পরিকল্পনা রয়েছে।