বাংলাদেশের অর্থনীতি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও উদ্যোক্তা বিকাশে ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি শিল্প (এসএমই) খাত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। এই খাতকে আরও গতিশীল করতে সহজ শর্তে অর্থায়ন, নারী উদ্যোক্তা উন্নয়ন, কৃষিভিত্তিক শিল্পে সহায়তা এবং প্রযুক্তি নির্ভর সেবা সম্প্রসারণে কাজ করছে বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংক লিমিটেড। চলতি বছরে ব্যাংকটির মোট ঋণের ২৫ দশমিক ৫০ শতাংশ এসএমই খাতে বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এসএমই খাতের সম্ভাবনা, চ্যালেঞ্জ ও ব্যাংকের বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়ে দেশ রূপান্তরের সঙ্গে কথা বলেছেন ব্যাংকটির এমডি মো. ওবায়দুল হক।
দেশ রূপান্তর : চলতি বছরে এসএমই খাতে কত ঋণ বিতরণের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংক?
মো. ওবায়দুল হক : ২০২৬ সালে আমাদের ব্যাংক মোট ঋণের ২৫ দশমিক ৫০ শতাংশ এসএমই খাতে বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। এর আর্থিক পরিমাণ ৬৫৩ কোটি টাকা।
দেশ রূপান্তর : এসএমই উদ্যোক্তাদের সহজ শর্তে ঋণ দেওয়ার আপনাদের ব্যাংকের বিশেষ কোনো নীতি রয়েছে কি?
মো. ওবায়দুল হক : ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের সহজ শর্তে ঋণ প্রদানের জন্য আমাদের কয়েকটি বিশেষ ঋণপণ্য রয়েছে। স্মল বিজনেস লোন (এসবিএল)-এর আওতায় সর্বোচ্চ ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত ৪২ মাস মেয়াদে জামানতবিহীন ঋণ দেওয়া হয়। মৌসুমি ঋণ কর্মসূচির আওতায় সর্বোচ্চ ৩ লাখ টাকা পর্যন্ত ৬ মাস মেয়াদে জামানতবিহীন ঋণ দেওয়া হয়। কৃষি উন্নয়ন ঋণ কর্মসূচির আওতায় সর্বোচ্চ ৪ লাখ টাকা পর্যন্ত ৩৬ মাস মেয়াদে জামানতবিহীন ঋণ দেওয়া হয়।
দেশ রূপান্তর : বাংলাদেশ ব্যাংকের পুনঃঅর্থায়ন তহবিলের সুবিধা সাধারণ এসএমই উদ্যোক্তাদের কাছে পৌঁছাতে আপনারা কী ধরনের পদক্ষেপ নিচ্ছেন?
মো. ওবায়দুল হক : বাংলাদেশ ব্যাংকের নিয়ম অনুযায়ী শ্রেণিকৃত ঋণের হার ২০ শতাংশের বেশি হওয়ায় এসএমই খাতে পুনঃঅর্থায়ন তহবিলের সুবিধা পাওয়া যায়নি। তবে ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক গ্রাহকদের জন্য বিশেষ উদ্যোগ রয়েছে। ১০, ৫০ ও ১০০ টাকার হিসাবধারী ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষক, নিম্ন আয়ের পেশাজীবী, স্কুল ব্যাংকিং হিসাবধারী এবং ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জন্য গঠিত পুনঃঅর্থায়ন কর্মসূচির আওতায় আমরা ৭ শতাংশ সুদে ঋণ সুবিধা দিয়ে থাকি। গত বছর বাংলাদেশ ব্যাংক নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার শতভাগ অর্জন করেছি। এ ছাড়া কৃষি খাতের পুনঃঅর্থায়ন কর্মসূচির আওতায় কৃষি রেয়াতি ঋণ ৪ শতাংশ সুদে বিতরণ করা হচ্ছে।
দেশ রূপান্তর : এসএমই ঋণ প্রক্রিয়া সহজ ও দ্রুত করতে আপনারা কী পদক্ষেপ গ্রহণ করছেন?
মো. ওবায়দুল হক : আমরা অনলাইনে ঋণের আবেদন ও প্রয়োজনীয় নথিপত্র গ্রহণের ব্যবস্থা চালু করেছি। পাশাপাশি গ্রাহকের পরিচিতি তথ্য, ঋণ তথ্য ব্যুরোর প্রতিবেদন এবং অন্য প্রয়োজনীয় তথ্য অনলাইনে সংগ্রহ করে দ্রুত সিদ্ধান্ত প্রদান করা হচ্ছে। এর ফলে ঋণ অনুমোদন প্রক্রিয়া আরও সহজ ও সময়সাশ্রয়ী হয়েছে।
দেশ রূপান্তর : নারী উদ্যোক্তাদের উৎসাহিত করতে আপনাদের ব্যাংকে কোনো বিশেষ ঋণ কর্মসূচি রয়েছে কি?
মো. ওবায়দুল হক : নারী উদ্যোক্তাদের জন্য আমাদের ‘বিসিবি উইমেন এন্টারপ্রেনার ঋণ’ নামে বিশেষ কর্মসূচি রয়েছে। এর আওতায় ৫ লাখ থেকে ২৫ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ সুবিধা দেওয়া হয়। গ্রেস পিরিয়ডসহ সহজ শর্তে এই ঋণ প্রদান করা হয়। প্রয়োজন অনুযায়ী জামানতবিহীন ঋণের সুবিধাও রয়েছে।