নিজের জন্য দেশের জন্য গড়ে উঠুন 

আপডেট : ২৮ জুন ২০২৬, ০৪:২৪ এএম

অর্থনীতিতে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প খাতের অপরিসীম অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ২৭ জুন পালিত হলো জাতিসংঘ ঘোষিত অতিক্ষুদ্র, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প (এমএসএমই) দিবস বা আন্তর্জাতিক এসএমই দিবস। দিবসটির এ বছরের প্রতিপাদ্য বিষয় ‘কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ভবিষ্যতে মানবকেন্দ্রিক উদ্যোগ : মাইক্রো, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের আগামী প্রজন্মের অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন’। এ উপলক্ষে দেশ রূপান্তরের সঙ্গে কথা বলেছেন, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প ফাউন্ডেশনের (এসএমই ফাউন্ডেশন) ব্যবস্থাপনা পরিচালক সাবেক অতিরিক্ত সচিব আনোয়ার হোসেন চৌধুরী।

দেশ রূপান্তর : এসএমই দিবসের তাৎপর্য আপনি কীভাবে মূল্যায়ন করেন?

আনোয়ার হোসেন চৌধুরী: জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ ২০১৭ সালের ৬ এপ্রিল এক প্রস্তাবনায় ২৭ জুন অতিক্ষুদ্র, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প (এমএসএমই) দিবস হিসেবে ঘোষণা করে। জাতিসংঘের সদস্য দেশগুলো দিবসটি যথাযথ মর্যাদার সঙ্গে পালন করে আসছে। বাংলাদেশও পিছিয়ে নেই। এ বছর সেদিন সরকারি ছুটি থাকায় দিবসের মূল অনুষ্ঠান আমরা ২৮ জুন পালন করছি। বর্তমান সরকার অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনীতির কথা বলছে। সে লক্ষ্যে অর্থনৈতিক উন্নয়নে অর্থাৎ দেশের প্রান্তিক অঞ্চলে যারা বসবাস করছেন ক্ষুদ্র, তরুণ ও নারী উদ্যোক্তা, তাদের সবাইকে নিয়ে আমরা সামনের দিকে যেতে চাই। দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন করতে চাই। বিশেষ করে এসডিজি (টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা) লক্ষ্য অর্জন করতে চাই। বিশেষ করে বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারে যেসব বিষয় এসএমই সম্পৃক্ত, তা অর্জন করতে চাই।

দেশ রূপান্তর : বাংলাদেশের অর্থনীতিতে এসএমই খাতের অবদান কেমন?

আনোয়ার হোসেন চৌধুরী: দারিদ্র্য  হ্রাস, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, নারী উদ্যোক্তা উন্নয়ন ও আঞ্চলিক ভারসাম্যপূর্ণ উন্নয়নে এ খাতের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সার্বিকভাবে এসএমই খাত শিল্পায়ন, রপ্তানি বৈচিত্র্য ও টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির অন্যতম চালিকাশক্তি। অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশের অর্থনীতিরও প্রাণশক্তি কুটির, অতিক্ষুদ্র, ক্ষুদ্র ও মাঝারি (সিএমএসএমই) খাত।

তবে বাংলাদেশের জিডিপিতে সিএমএসএমই খাতের অবদান উন্নত দেশগুলো, এমনকি প্রতিবেশী দেশগুলোর তুলনায়ও অনেক কম। এসএমই খাত বাংলাদেশে জিডিপির প্রায় ৩০ শতাংশ অবদান রাখে। এ হার চীনে ৬০ শতাংশ, শ্রীলঙ্কায় ৫২ শতাংশ, জাপানে ৫০ শতাংশ, ভিয়েতনামে ৪৫ শতাংশ, পাকিস্তানে ৪০ শতাংশ এবং ভারতে ৩৭ শতাংশ। তবে আশার কথা হচ্ছে, শিল্প মন্ত্রণালয়ের দিকনির্দেশনায় এ বিদ্যমান পরিস্থিতির উন্নয়নে কাজ করছে এসএমই ফাউন্ডেশন।

এছাড়াও এসএমই খাত দেশের অর্থনৈতিক অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত করার অন্যতম প্রধান মাধ্যম। বিশেষ করে নারী, যুব এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নে এ খাতের অবদান ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে। টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জন এবং জলবায়ু সহনশীল অর্থনীতি গঠনের ক্ষেত্রেও এসএমই খাত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। একই সঙ্গে রপ্তানি বহুমুখীকরণ এবং বৈশ্বিক মূল্য শৃঙ্খলে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ বৃদ্ধিতেও এ খাতের সম্ভাবনা অত্যন্ত উজ্জ্বল।

অতএব, দেশের দীর্ঘমেয়াদি শিল্পায়ন ও টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির জন্য এসএমই খাতকে আরও শক্তিশালী করা প্রয়োজন। বিশেষ করে নারী, যুব এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নে এ খাতের অবদান ক্রমশ বাড়ছে। অতএব, দেশের দীর্ঘমেয়াদি শিল্পায়ন ও টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির জন্য এসএমই খাতকে আরও শক্তিশালী করা প্রয়োজন।

দেশ রূপান্তর : এ খাতে বর্তমান কী চ্যালেঞ্জ আছে?

আনোয়ার হোসেন চৌধুরী: অনেক চ্যালেঞ্জ আছে। মোটা দাগে অর্থায়ন অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ। আমাদের যে সিএমএসএমই উদ্যোক্তারা আছেন, অধিকাংশই প্রতিষ্ঠান চালানো বা ব্যবসা পরিচালনায় অর্থ সংকটে থাকে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে তারা বেসরকারি প্রতিষ্ঠান তথা এনজিওর ঋণনির্ভর। উচ্চসুদের কারণে তারা লাভের মুখ দেখতে পারেন না। ফলে স্বল্পসুদে ঋণের ব্যবস্থা করা গেলে ব্যবসা ও উৎপাদন প্রক্রিয়াটা সহজ হবে। উদ্যেক্তরা টিকে থাকতে পারবে। বিশেষ করে প্রান্তিক উদ্যোক্তারা বেশি সমস্যাগ্রস্ত। দেশের ১ কোটি ১৭ লাখের বেশি সিএমএসএমই উদ্যোক্তার ৭০ ভাগ ঢাকার বাইরে। তাদের পাশে আমাদের দাঁড়ানো খুবই প্রয়োজন। এখন বলতে পারেন- অনেক ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান এসএমই নিয়ে কাজ করছে। হ্যাঁ, সত্য। এক্ষেত্রে যেসব উদ্যোক্তা শহর-কেন্দ্রিক, বা যারা কিছুটা দক্ষ, তারা এ সুবিধা পাচ্ছে। প্রান্তিক পর্যায়ের উদ্যোক্তারা পিছিয়ে আছেন। ওই অংশটাই বড়। ওই বড় অংশটা কিন্তু পাচ্ছে না। এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার জন্য সহজ শর্তে, ক্ষেত্রবিশেষে বিনা জামানতে এবং স্বল্পসুদে ঝামেলামুক্ত অর্থায়নের ব্যবস্থা করতে হবে। এটি করতে না পারলে অর্থনীতির মেরুদ- শক্ত হবে না।

দেশ রূপান্তর : ঢাকার বাইরের উদ্যোক্তাদের নীতিগত সহায়তা ও দক্ষতা উন্নয়নে সরকার কী করছে? বিশেষ করে এসএমই ফাউন্ডেশন কী কী কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে?

আনোয়ার হোসেন চৌধুরী : সিএমএসএমই খাতের বিকাশ ত্বরান্বিত করতে সরকারি নীতিমালা, কৌশলপত্র ও নির্দেশনা বাস্তবায়নে বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করছে এসএমই ফাউন্ডেশন। শিল্প মন্ত্রণালয় ২০০৬ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে এ যাবৎ সারা দেশে এসএমই ফাউন্ডেশনের বিভিন্ন কর্মসূচির সুবিধাভোগী প্রায় ২২ লাখ উদ্যোক্তা। ২০১৯ সালে প্রথমবারের মতো এসএমই নীতিমালা অনুমোদন হলেও তা বাস্তবায়নে কোনো অর্থ বরাদ্দ না হওয়ায় নিজস্ব অর্থায়নে বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করে ফাউন্ডেশন। এই নীতিমালার মেয়াদ ২০২৪ সালে জুনে শেষ হওয়ার পর এসএমই ফাউন্ডেশনের সহায়তায় এসএমই নীতিমালা ২০২৬ তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে শিল্প মন্ত্রণালয়। তবে এই নীতিমালা বাস্তবায়নসহ এসএমই খাতের উন্নয়নে সরকারের পক্ষ থেকে নিয়মিত অর্থ বরাদ্দ প্রয়োজন।

এসএমই ফাউন্ডেশন ১০টি কৌশলগত লক্ষ্য স্থির করে কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে দারিদ্র্য বিমোচন ও সর্বোপরি দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন কার্যক্রম শুরু করে। ফাউন্ডেশনের কৌশলগত লক্ষ্যগুলো হলো ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পোদ্যোক্তাদের আইনি কাঠামোগত সুরক্ষা প্রদান করা; ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পোদ্যোক্তা, সেক্টর, ক্লাস্টারের সমস্যা চিহ্নিতকরণ ও উন্নয়ন পরিকল্পনা প্রণয়ন; এসএমইদের ব্যবসায়িক পরামর্শ প্রদান; তাদের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থায়নের ব্যবস্থা করা; প্রযুক্তি ও আইসিটি উন্নয়নে কাজ করা; সক্ষমতা বাড়ানো; নারী-উদ্যোক্তাদের প্রতি বিশেষ সহায়তা; ক্লাস্টারভিত্তিক শিল্পোন্নয়ন জোরদার করা এবং এসএমইদের প্রাতিষ্ঠানিক সংযোগ ও সুযোগ সৃষ্টিকরণ।

দেশ রূপান্তর : প্রযুক্তি প্রতিনিয়ত পরিবর্তন হচ্ছে। এ অবস্থায় প্রতিযোগিতায় টিকে থাকার সক্ষমতা কতটুকু গুরুত্বপূর্ণ? 

আনোয়ার হোসেন চৌধুরী : সনাতনী পদ্ধতিতে উৎপাদন, বাজারজাতকরণ এবং রপ্তানি কোনোটাই সম্ভব নয়। সাময়িকভাবে কিছুদিন হয়তো চলতে পারে। কিন্তু প্রযুক্তির সংযোগ ছাড়া টিকে থাকা সম্ভব হবে না। এখন প্রযুক্তির যুগ। বিশেষ করে এআই (কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা) আধিপত্য বিরাজ করছে। ফলে উদ্যোক্তাদের জন্য প্রযুক্তিগত দক্ষতা অর্জন একটি বড় চ্যালেঞ্জ। আমাদের অধিকাংশ উদ্যোক্তাই চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের প্রধান হাতিয়ার প্রযুক্তিকে ধারণ করতে পারেনি। কিন্তু টিকে থাকতে হলে এই চ্যালেঞ্জকে অবশ্যই মোকাবিলা করতে হবে। বিশেষ করে মুক্তবাজার অর্থনীতিতে অনেকগুলো নিয়মতান্ত্রিকতা (কমপ্লায়েন্স) রয়েছে; এগুলো ঠিক করতে না পারলে, প্রতিযোগিতার বাজারে টিকে থাকা সম্ভব হবে না। এসএমই ফাউন্ডেশন এসব বিষয়ে প্রশিক্ষণ ও সচেতনতা তৈরিতে কাজ করে যাচ্ছে।

প্রতিষ্ঠার পর থেকে ফাউন্ডেশন এসএমইদের জন্য যুগোপযোগী আইসিটি বিষয়ক কার্যক্রম গ্রহণ করে যাচ্ছে। জেলা-উপজেলায় উদ্যোক্তাদের জন্য প্রযুক্তি বিষয়ে সময়োপযোগী সেমিনার, ওয়ার্কশপ ও প্রশিক্ষণ আয়োজন করা হয়। ফাউন্ডেশনের সহায়তায় বিভিন্ন জেলায় ৭০টি এসএমই প্রতিষ্ঠানে প্রযুক্তি সহজীকরণ ও দক্ষতা উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়নের মাধ্যমে কারখানাসমূহ আধুনিক প্রযুক্তি সহজে আত্তীকরণ করতে পেরেছে। এ পর্যন্ত ৩১টি এসএমই প্রতিষ্ঠান আইএসও সনদ অর্জন করেছে। উদ্যোক্তাদের নীতি সহায়তার অংশ হিসেবে এ পর্যন্ত এসএমই ফাউন্ডেশনের ৬৯৭টি প্রস্তাবনার মধ্যে ১২৬টি প্রস্তাবনা সরকার তথা এনবিআর কর্তৃক গৃহীত হয়েছে এবং বাজেটে প্রতিফলিত হয়েছে।

দেশ রূপান্তর : এসএমই ফাউন্ডেশনের সহায়তায় খসড়া এসএমই নীতিমালা ২০২৬ করেছে শিল্প মন্ত্রণালয়। এ খাতের উন্নয়নে ফাউন্ডেশন সরকারের কাছ থেকে কী ধরনের সহায়তা আশা করছে?

আনোয়ার হোসেন চৌধুরী : তহবিল সংকটে এসএমই নীতিমালা ২০১৯ পুরোপুরি বাস্তবায়ন করা যায়নি। তাই আমাদের অনুরোধ থাকবে, এসএমই নীতিমালা ২০২৬ বাস্তবায়নে আর্থিক বরাদ্দ নিশ্চিত করা। এছাড়া নীতিমালা বাস্তবায়নে সরকারের কমিটি, দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রণালয়, দপ্তর, উন্নয়ন সংস্থা ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সমন্বয় নিশ্চিত করা জরুরি। পাশাপাশি, ক্লাস্টার উন্নয়নে স্থানীয় সরকারের মাধ্যমে রাস্তা, বিদ্যুৎ, গ্যাস, ইন্টারনেটসহ প্রয়োজনীয় সুবিধা সহজে দেওয়া; আইএলও, ইউএনআইডিও, জেআইসিএ, জিআইজেড, এশিয়া ফাউন্ডেশনসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের প্রশিক্ষণ ও সহযোগিতা সহজে প্রদান করা দরকার।

এসএমই নীতিমালা ২০২৬ বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে প্রচলিত অর্থায়নের পাশাপাশি ক্রেডিট গ্যারান্টি, মুভেবল অ্যাসেট ফাইন্যান্স, ব্লেন্ডেড ফাইন্যান্স এবং বীমাভিত্তিক ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার মতো উদ্ভাবনী আর্থিক উপকরণ চালু করা দরকার। পাশাপাশি, একটি শক্তিশালী পর্যবেক্ষণ ও মূল্যায়ন ব্যবস্থা গড়ে তোলা হলে নীতিমালার বাস্তবায়ন আরও ফলপ্রসূ হবে।

দেশ রূপান্তর : এসএমই উন্নয়নে সরকার ও বেসরকারি খাত কীভাবে একত্রে কাজ করতে পারে? 

আনোয়ার হোসেন চৌধুরী : শ্রম খাতে ৮৫ শতাংশ কর্মসংস্থানের সুযোগ এসএমই খাত তৈরি করেছে। পরিসংখ্যান বলছে, এসএমই খাতেই এককভাবে সবচেয়ে বেশি কর্মসংস্থান সম্ভব। তাই সরকারের নীতি সহায়তা ও নিয়মিত অর্থ বরাদ্দ পেলে বেকারত্ব দূরীকরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে এই খাত। মূল চ্যালেঞ্জসমূহের মধ্যে রয়েছে নিয়মিত বাজেট বরাদ্দ না পাওয়া। কারণ পর্যাপ্ত অর্থায়নের অভাবে উদ্যোক্তাদের ঋণ প্রদান করা যাচ্ছে না। এছাড়া এসএমই ফাউন্ডেশনের নিজস্ব জমি ও ভবন নেই। যেখানে ট্রেনিং ইনস্টিটিউট করা যাবে, উদ্যোক্তাদের পণ্য ডিসপ্লে করা যাবে।

২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে প্রথমবারের মতো সিএমএসএমই উদ্যোক্তোদের জন্য দুটি সংস্থা ইডকল, বিআইএফএফএল-এর সঙ্গে এসএমই ফাউন্ডেশনের অনুকূলে ২ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়ায় সরকারের প্রতি আমরা কৃতজ্ঞ। তবে এ খাতের উন্নয়নে এসএমই ফাউন্ডেশনকে শক্তিশালী করতে ফাউন্ডেশনের কর্মসূচি তৃণমূল উদ্যোক্তাদের কাছে পৌঁছে দিতে প্রতি বছরের বাজেটে নিয়মিত অর্থ বরাদ্দ প্রয়োজন।

ফাউন্ডেশন এসএমই খাত ও উদ্যোক্তাদের উন্নয়নে সারা দেশের এসএমই অ্যাসোসিয়েশন, চেম্বার, ক্লাস্টারগুলোর সঙ্গে বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে।

ভবিষ্যতের এসএমই খাত হবে প্রযুক্তিনির্ভর, উদ্ভাবনমুখী এবং মানবকেন্দ্রিক। তবে ডিজিটাল দক্ষতার সীমাবদ্ধতা, আন্তর্জাতিক মানদ- অনুসরণ, জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ঝুঁকি এবং বৈশ্বিক প্রতিযোগিতা মোকাবিলা আগামী দিনের গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ হিসেবে বিবেচিত হবে। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সরকার, বেসরকারি খাত, আর্থিক প্রতিষ্ঠান, বিশ্ববিদ্যালয়, গবেষণা প্রতিষ্ঠান এবং উন্নয়ন সহযোগীদের সমন্বিত অংশীদারত্ব অপরিহার্য।

আন্তর্জাতিক এমএসএমই দিবস ২০২৬-এর প্রতিপাদ্যের আলোকে বলা যায়, ভবিষ্যতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা-চালিত মানবকেন্দ্রিক উদ্যোক্তা উন্নয়নই আগামী প্রজন্মের ক্ষুদ্র, কুটির ও মাঝারি উদ্যোগ অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নের অন্যতম ভিত্তি হিসেবে কাজ করবে। 

দেশ রূপান্তর : নতুন উদ্যোক্তাদের জন্য এসএমই দিবসে কী বার্তা দেবেন?

আনোয়ার হোসেন চৌধুরী : আমাদের বার্তা হলো উদ্যোক্তা হওয়ার সময় এখনই। যারা উদ্যোক্তা হতে চান, তাদের জন্য পর্যাপ্ত সুযোগ আসছে। সরকার বিভিন্ন কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। এখনই সময় নিজের উদ্ভাবনী সক্ষমতা তুলে ধরার। যারা বেকার আছেন, তারা এখনই সামনে আসুন। পরিকল্পনা তৈরি করুন। আত্মবিশ্বাসে ঝাঁপিয়ে পড়–ন। কারণ সরকারের পরিকল্পনা ইতিবাচক। বিশেষ করে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে, শিল্পায়নের ক্ষেত্রে, কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে, তরুণ উদ্যোক্তাদের অর্থায়নের ক্ষেত্রে। এই কর্মসূচিগুলোর সুযোগ গ্রহণে তাদের মনোযোগী হওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি।

তবে, এগিয়ে এলেই হবে না। ধৈর্য সহকারে আসতে হবে। সফল হতে হলে ধৈর্যের কোনো বিকল্প নেই। রাতারাতি কোনো কিছু হলে তা টেকসই হয় না। আর ক্ষুদ্র উদ্যোগ হলো অন্তর্ভুক্তিমূলক। যদি উদ্যোক্তা নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে চায়, সেক্ষেত্রে সময় নিয়ে আসতে হবে। সময় দিতে হবে। ধৈর্য ধারণ করতে হবে। বর্তমানে বৈশি^ক বাস্তবতার সঙ্গে তাল মিলিয়ে দক্ষতা অর্জন করে টিকে থাকতে হবে। সে জন্য আমি বলব সরকারের সুযোগ-সুবিধা আপনার অধিকার। সংশ্লিষ্ট দপ্তর থেকে তা আদায় করে নিন। নিজের জন্য, দেশের জন্য গড়ে উঠুন। 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত