আসন্ন চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নানামুখী বিতর্কে জড়িয়েছেন চিত্রনায়ক জয় চৌধুরী। এবারের নির্বাচনে সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থী এই অভিনেতার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার কথোপকথনের দুটি অডিও ছড়িয়ে পড়েছে। এরপর সেটি নিয়ে চলচ্চিত্রাঙ্গনে শুরু হয়েছে আলোচনা-সমালোচনা।
অভিযোগ উঠেছে, গণঅভ্যুত্থানের আগে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সরব থাকলেও বর্তমানে নিজেকে এই দলের সক্রিয় কর্মী হিসেবে পরিচয় দিতে অনাগ্রহী চিত্রনায়ক জয় চৌধুরী। খালেদা জিয়ার গাড়িবহরে হামলা করে হত্যাচেষ্টার মামলায় অভিযুক্ত ফেরারি আসামি এবং আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সংস্কৃতি বিষয়ক উপ-কমিটির সদস্য বিতর্কিত চিত্রনায়ক জায়েদ খানের ছোট ভাই হিসেবে চলচ্চিত্রপাড়ায় পরিচিত এই জয়।
হঠাৎ করেই জয়ের কথোপকথনের দুটি অডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। প্রকাশিত একটি অডিওতে জয়কে বলতে শোনা যায়, ভাই মহিলা এমপি হতে কেউ চায় কিনা দেইখেন। আমার কাছে দুটি কোটা আছে। আরেকটি অডিওতে শোনা যায়, ভাই আমাদের এক লিডারের জাস্ট খরচের টাকা। আহামরি কিছুই না৷ ২ লাখ ইউরো ইতালি থেকে বাংলাদেশে আসবে। আপনার পরিচিত খুব কমে হুন্ডির যে রেট থাকে কমের ভেতরে ঢাকায় কে দিতে পারবে আমাকে জানিয়েন। ২০ হাজার করে আনবে।
সাংবাদিকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে ভিডিও শেয়ার করে চিত্রনায়ক সাইফ খান লিখেছেন, এরা আওয়ামী লীগ আমলে আওয়ামী লীগ ছিল, ইউনুস আমলে পিনাকী ভট্টাচার্যকে আদর্শ বলতো, এখন বিএনপি আমলে জাতীয়তাবাদী আদর্শের একজন সৈনিক হয়ে গেছে! আরে ভাই প্রতিটা মানুষের একটা আদর্শ থাকা চাই। এরা ধান্দাবাজ, দালাল, আদর্শহীন। আওয়ামী লীগ আমলেও বিনোদন সাংবাদিক ভাইদের গায়ে হাত তোলার রেকর্ড তার আছে। আমার সাথে তার বা কারো কোন ব্যাক্তিগত আক্রোশ নেই। কিন্তু আমাদের চলচ্চিত্রের মানুষদের উচিত এ ধরনের গিরগিটিকে চিনে রাখা।
হুন্ডির মাধ্যমে বিদেশের টাকা দেশে আনা সম্পূর্ণ অবৈধ এবং বাংলাদেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী একটি দণ্ডনীয় অপরাধ। তবে প্রশ্ন উঠেছে শিল্পী সমিতির নির্বাচনের আগে হঠাৎ কোন নেতার টাকা দেশে আনতে মরিয়া হলেন জয়? এমনকি সংরক্ষিত নারী আসনের দুটি কোটা দেওয়ার দায়িত্বে জয়? এমন কথোপকথনের অডিও প্রকাশ্যে আসতেই ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে।
সাংবাদিকদের কাছে অডিওটির সত্যতা স্বীকার করলেও জয় দাবি করেন, এটিকে অন্যভাবে সামনে আনা হয়েছে। তিনি বলেন, ‘গুলশান-বনানীতে বিভিন্ন ব্যবসায়ীর সঙ্গে আমাদের প্রায়ই মিটিং করতে হয়। এরকম একটা মিটিংয়ে আমাকে জানানো হয় চাইলে সুপারিশ (মহিলা এমপি) করা যাবে। সেটাই আমি কাছের একজনকে জানিয়েছি। এর বেশি কিছু না। এ বিষয়ে আমি কোনো আর্থিক লেনদেন করি নাই। এমনকি কেউ চাইলে আমার ব্যাংক একাউন্ট চেক করতে পারেন।’
এদিকে পটপরিবর্তনের পর ভোল পাল্টে নিজেকে বিএনপি বলে দাবি করেন জয়। তাকে আওয়ামী লীগের বিভিন্ন নেতা–কর্মীর সঙ্গে এমনকি বিভিন্ন অনুষ্ঠানেও দেখা গেছে। নির্বাচনী প্রচারণা থেকে শুরু করে, বিভিন্ন সময় মুজিব কোট পরিহিত অবস্থায় আওয়ামী লীগের র্যালিসহ নানা আয়োজনে তিনি অংশগ্রহণ করেছেন। সেই জয় চৌধুরী হঠাৎ করেই নিজেকে বিএনপি দাবি করছেন। জয়ের মুজিব কোট পরিহিত ছবি এবং আওয়ামী লীগের নির্বাচনে প্রচারণায় অংশ নেওয়ার ছবি এই প্রতিবেদকের হাতে রয়েছে। হঠাৎ করে জয় চৌধুরীর সুর বদলে তার সমসাময়িক অনেকেই বিভ্রান্ত। জয় চৌধুরীর চলাফেরা ও ওঠাবসাও ছিল আওয়ামী ঘরানার সবার সঙ্গে।
‘প্রেম প্রীতির বন্ধন’, ‘অমানুষ হলো মানুষ’, ‘আজব প্রেম’সহ বেশ কয়েকটি সিনেমায় অভিনয় করেছেন জয়। শেষবার চিত্রনায়িকা অপু বিশ্বাসের সঙ্গে পর্দায় দেখা গেছে তাকে। কিন্তু সেই সিনেমাও বক্স অফিসে মুখ থুবড়ে পড়ে। ক্যারিয়ারে সিনেমা দিয়ে আলোচনায় না এলেও শিল্পী সমিতির নির্বাচন এবং পরবর্তী সময়ে সাংবাদিকের গায়ে হাত তোলার কারণে আলোচনায় আসেন জয়।
শিল্পী সমিতির সাবেক এই সাংগঠনিক সম্পাদক ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণের জন্য তুমুল সমালোচিত। ২০২৪ সালে চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির নির্বাচন পরবর্তী এফডিসিতে সাংবাদিক-শিল্পীদের মধ্যে ঘটে যাওয়া এক অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় জয় চৌধুরীর মারমুখী ভূমিকা ছিল চোখে পড়ার মতো। সাংবাদিকদের ওপর ফিল্মি কায়দায় ঝাঁপিয়ে পড়ে আঘাত করেন এ অভিনেতা। যার ভিডিও প্রকাশ্যে এলে সমালোচনার মুখে পড়েন। এর জন্য গণমাধ্যমে নিষিদ্ধও হন তিনি।
সাংবাদিকদের প্রাণনাশের হুমকি, এফডিসিতে মানববন্ধন আজ
মুন্সীগঞ্জে হ্যান্ডকাফসহ পালানো আ. লীগ নেতা ফের গ্রেপ্তার
ঢাকার হাসপাতালের ভিড় কমাতে জেলা হাসপাতালকে পূর্ণাঙ্গ করা হবে
আজই শুরু হচ্ছে নকআউট, কাল ব্রাজিলের খেলা
জিনিয়াসদের হাত ধরেই গড়ে উঠবে আলোকিত বাংলাদেশ
“বাংলাদেশে আর্জেন্টিনার সমর্থক দেখে অবাক বিদেশি নাগরিক”
দেশ রূপান্তর স্ট্রাইকার
গ্যাস সংকট সমাধানে সরকার কাজ করছে: বাণিজ্যমন্ত্রী