সংসদে আলোচনায় ওঠা মাদকের চালান নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ব্যাখ্যা চান জামায়াত নেতা সেলিম 

আপডেট : ২৮ জুন ২০২৬, ০৫:৩২ পিএম

জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগর উত্তরের আমির সেলিম উদ্দিন বলেছেন, জাতীয় সংসদে আলোচনায় উঠেছে, ‘দেশের সবচেয়ে বড় মাদকের চালানগুলো স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বাড়ির আশপাশ দিয়েই আসে।’ এই মাদক আমদানি বন্ধে কি পদক্ষেপ নিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে স্পষ্ট ব্যাখ্যা দিতে হবে।

তিনি বলেন, মাদক নির্মূলে রাজনৈতিক বিভাজনের ঊর্ধ্বে উঠে সরকার ও বিরোধী দলসহ সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।

রবিবার (২৮ জুন) আন্তর্জাতিক মাদকবিরোধী দিবস উপলক্ষে রাজধানীর মোহাম্মদপুর এলাকায় জামায়াত ঢাকা মহানগর উত্তরের চারদিনব্যাপী মাদকবিরোধী গণসচেতনতামূলক কর্মসূচির দ্বিতীয় দিনের অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

সেলিম উদ্দিন বলেন, মাদকাসক্তদের ঘৃণা নয়, বরং তাদের চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের জন্য রাষ্ট্রীয় উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। একজন মাদকাসক্তকে সুস্থ জীবনে ফিরিয়ে আনতে পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।

তিনি বলেন, প্রতিটি ওয়ার্ডে খেলাধুলার মাঠ ও সুস্থ বিনোদনকেন্দ্র গড়ে তুলতে হবে, যাতে তরুণরা ইতিবাচক কর্মকাণ্ডে যুক্ত হতে পারে। পাশাপাশি বেকার যুবকদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা এবং প্রতিটি ওয়ার্ডে রিমোট জবের সুযোগ সৃষ্টির উদ্যোগ নেওয়ার কথাও তুলে ধরেন তিনি।

সেলিম উদ্দিন বলেন, যুবসমাজকে কর্মমুখী ও ব্যস্ত রাখার মাধ্যমে মাদকাসক্তি থেকে দূরে রাখা সম্ভব। মাদকাসক্তির বিস্তারের পেছনে ব্যক্তি, পরিবার ও রাষ্ট্রের কিছু না কিছু ব্যর্থতা রয়েছে। তাই একটি দায়িত্বশীল সমাজ প্রতিষ্ঠায় ঘৃণা নয়, প্রয়োজন স্নেহ, সচেতনতা ও সহযোগিতার হাত। 

তিনি আরও বলেন, সুন্দর, সুস্থ ও মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে জামায়াতে ইসলামী ধারাবাহিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন এলাকা যতক্ষণ মাদকমুক্ত না হবে, ততক্ষণ পর্যন্ত জামায়াতের এই আন্দোলন চলমান থাকবে। আমরা একটি মানবিক, নিরাপদ ও শান্তির নগরী গড়তে কাজ করে যাচ্ছি।

অনুষ্ঠান শেষে জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে উপস্থিত মানুষের মাঝে মাদকবিরোধী লিফলেট ও বিশেষ সচেতনতামূলক বাক্স বিতরণ করেন মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন দলটির ঢাকা উত্তরের মজলিসে শূরা সদস্য মশিউর রহমান, যুব বিভাগের সেক্রেটারি ড.মোস্তফা ফয়সাল পারভেজ প্রমুখ।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত