পাল্টাপাল্টি হামলার পর ফের আলোচনায় তেহরান-ওয়াশিংটন

আপডেট : ২৯ জুন ২০২৬, ০৮:১৬ এএম

পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে চলমান উত্তেজনা ও সংঘাত থামাতে একমত হয়েছে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র। হরমুজ প্রণালী নিয়ে সৃষ্ট বিরোধ নিরসনে পুনরায় আলোচনা শুরুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে দেশ দুটি। রবিবার (২৮ জুন) মার্কিন এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম এ তথ্য জানিয়েছে। এর মাধ্যমে গত কয়েকদিনের ধারাবাহিক হামলা ও পাল্টা হামলায় ভেঙে পড়া অন্তর্বর্তীকালীন শান্তি চুক্তিটি পুনরুজ্জীবিত হওয়ার আশা তৈরি হয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ১৭ জুন স্বাক্ষরিত ১৪ দফা সমঝোতা স্মারকের সব বিষয়ে প্রযুক্তিগত আলোচনা চালিয়ে যেতে উভয় পক্ষ সম্মত হয়েছে। আপাতত উভয় দেশই সামরিক কার্যক্রম থেকে সরে দাঁড়াবে এবং জাহাজ চলাচলের পথ উন্মুক্ত থাকবে। অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, আগামী মঙ্গলবার কাতারে এই আলোচনা পুনরায় শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।

গত বৃহস্পতিবার হরমুজ প্রণালীতে একটি কার্গো জাহাজে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর উভয় দেশ একে অপরকে ১৭ জুনের যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের দায়ে অভিযুক্ত করে। এরপর থেকে পাল্টাপাল্টি হামলায় পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। রবিবার ভোরে ইরানের ভূখণ্ড থেকে কুয়েত ও বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্য করে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়। এর ঠিক আগেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছিলেন, ইরান যদি শান্তি চুক্তি মেনে না চলে, তবে দেশটির অস্তিত্ব মুছে দেওয়া হবে।

এদিকে, লেবাননে ইরান সমর্থিত হিজবুল্লাহ যোদ্ধাদের ওপর আবারও বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। দেশটির দাবি, দক্ষিণ লেবাননের একটি গ্রামে হিজবুল্লাহর ভূগর্ভস্থ অবকাঠামো ধ্বংস করা হয়েছে। ইরান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, বৃহত্তর শান্তি চুক্তি টিকে থাকতে হলে লেবাননে চলমান এই লড়াই বন্ধ করতে হবে।

এর আগে, মার্কিন সামরিক বাহিনী জানায়, হরমুজ প্রণালীতে ট্যাংকারে হামলার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তারা ইরানে পাল্টা হামলা চালায়। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের শুরু করা এই লড়াই বন্ধ এবং ইরান ও বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহের প্রধান রুট হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়াই ছিল ১৪ দফা শান্তি চুক্তির মূল লক্ষ্য।

এক সপ্তাহ আগে সুইজারল্যান্ডে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবং ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের কলিবফের মধ্যে এক দফা আলোচনা হয় এবং ওয়াশিংটন তেহরানের ওপর থেকে কিছু নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়। তবে এরপর থেকেই সংঘাত আরও তীব্রতর হয়।

রবিবার ট্রাম্পের কড়া বার্তার পর কুয়েতের সেনাবাহিনী জানায়, তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা মোকাবিলায় সক্রিয় ছিল। অন্যদিকে, বাহরাইনেও সতর্ক সংকেত বেজে ওঠে। ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) এক বিবৃতিতে কুয়েত ও বাহরাইনে মার্কিন সামরিক স্থাপনায় হামলার দায় স্বীকার করে। তারা দাবি করে, যুক্তরাষ্ট্রই আগে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করেছে এবং এর পরিণতিতে সব কূটনৈতিক প্রক্রিয়া বন্ধ হয়ে যেতে পারে। আইআরজিসির নৌ কমান্ড হুঁশিয়ারি দেয় যে, সামনের দিনগুলোতে মার্কিন ঘাঁটিগুলো ‌‘নরক যন্ত্রণার’ মুখোমুখি হবে।

যদিও মার্কিন এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, মধ্যপ্রাচ্যে তাদের স্থাপনায় কোনো বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। তবে পরিস্থিতি এখনো পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। পরে বাহরাইনে দ্বিতীয়বারের মতো সাইরেন বেজে ওঠে, যেখানে একটি আবাসিক ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানা গেছে। ঘটনার পর বাহরাইন ইরানকে জবাবদিহিতার আওতায় আনতে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে জরুরি অধিবেশন ডাকার আহ্বান জানিয়েছে। এছাড়া কুয়েত জানিয়েছে, তারা দুটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করেছে।

এদিকে কাতারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সামরিক অভিযানের ফলে সৃষ্ট গোলার আঘাতে তাদের একজন নাগরিক নিহত ও একজন আহত হয়েছেন। তবে তারা নির্দিষ্ট কোনো দেশকে দায়ী করেনি।

সূত্র: রয়টার্স

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত