মাধবপুরে মাদকের অপবাদে হামলা, ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ, আহত ১৫

আপডেট : ২৯ জুন ২০২৬, ০৬:৫২ পিএম

হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার বাঘাসুরা ইউনিয়নের নোয়াগাঁও দক্ষিণ মহল্লায় রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করতে মাদকের অপবাদ দিয়ে দুই দফা হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় নারী-পুরুষসহ অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে ছয়জনকে হবিগঞ্জ ২৫০ শয্যা জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, গত ১৩ জুন বাঘাসুরা ইউনিয়ন কৃষক দলের সাধারণ সম্পাদক শামসুল হক ফসলের ক্ষেত থেকে বাড়ি ফেরার পথে হামলার শিকার হন। তার পরিবারের অভিযোগ, অ্যাডভোকেট সাজেদুর রহমান সজলের নেতৃত্বে কালিকাপুর-নোয়াগাঁও গ্রামের একদল যুবক তাকে মারধর করে গুরুতর আহত করে।

এ ঘটনার পর নিরাপত্তাহীনতার আশঙ্কায় নোয়াগাঁও দক্ষিণ মহল্লার সর্দার জাকির হোসেন রবিবার (২৮ জুন)  দুপুরে মাধবপুর থানায় নিজের ও এলাকাবাসীর নিরাপত্তা চেয়ে একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, জিডি করার ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে বিএনপির একটি গ্রুপের নেতা ও এপিপি অ্যাডভোকেট সাজেদুর রহমান সজল এবং আওয়ালের নেতৃত্বে একদল লোক দেশীয় অস্ত্র নিয়ে নোয়াগাঁও দক্ষিণ মহল্লায় হামলা চালায়। হামলাকারীরা জহুর আলীর বাড়িতে ভাঙচুর ও লুটপাট চালানোর পাশাপাশি কাইয়ুম মিয়ার মুদি দোকান ও রাইস মিলে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট করে।

পরে জাকির হোসেনের বাড়িতে হামলা চালিয়ে একটি ধান কাটার হারভেস্টার মেশিনে আগুন দেওয়া হয়। এছাড়া আরও কয়েকটি বাড়িঘর ভাঙচুর এবং কৃষক দলের সাধারণ সম্পাদক শামসুল হকের বাড়িতেও হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

স্থানীয়দের দাবি, হামলার খবর পুলিশকে জানানো হলেও সোমবার (২৯ জুন)  সকালে একই পক্ষ আবারও এলাকায় হামলা চালিয়ে কয়েকটি বাড়িঘর ও দোকানপাটে অগ্নিসংযোগ করে।

হামলায় আহত ব্যক্তিরা হলেন মনিরুল ইসলাম (৩৫), নজরুল ইসলাম (৩৮), সামছুল ইসলাম (৪০), কাইয়ুম মিয়া (৩৫), সবুজ মিয়া (৩০), স্বপ্না বেগম (৩৫), সালেমা খাতুন (৬০), ছফিয়া খাতুন (৪০) ও ফরিদ মিয়াসহ (৩২) অন্তত ১৫ জন।

জিডির বাদী ও নোয়াগাঁও দক্ষিণ মহল্লার সর্দার জাকির হোসেন বলেন, নিরাপত্তা চেয়ে থানায় জিডি করার পরও আমরা নিরাপদ নই। আমাদের বাড়িঘর ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে। আমরা এখন চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।

তবে অভিযুক্ত অ্যাডভোকেট সাজেদুর রহমান সজল এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, মাদক ব্যবসায়ীদের সঙ্গে স্থানীয় লোকজনের সংঘর্ষ হয়েছে। আমি হামলার সঙ্গে জড়িত নই বরং এলাকার মুরব্বিদের নিয়ে রাতে ও সকালে সংঘর্ষ থামানোর চেষ্টা করেছি। মাদক ব্যবসায়ীরা নিজেরাই নিজেদের বাড়িতে আগুন দিয়েছে। তবে প্রতিপক্ষের কারও বিরুদ্ধে মাদকের মামলা রয়েছে কি না, সে বিষয়ে তিনি নিশ্চিত করে কিছু বলতে পারেননি।

এ বিষয়ে মাধবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সোহেল রানা বলেন, রাতে ও সকালে পুলিশ ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। ভুক্তভোগীরা লিখিত অভিযোগ দিলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

 

 

 

 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত