হাশরের ময়দানে যে ৫ প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে

আপডেট : ৩০ জুন ২০২৬, ০৭:০৪ এএম

পরকালে সব মানুষকে জবাবদিহি করতে হবে। এ কথা স্মরণ হলে অন্তর কেঁপে ওঠে। আমরা যা বলি, যা করি, কোনো কিছুই মহান আল্লাহর জ্ঞানের বাইরে নয়। দুনিয়ায় অনেক কাজই মানুষের দৃষ্টির আড়ালে থেকে যায়, কিন্তু আখেরাতের আদালতে সবকিছুই স্পষ্ট হয়ে উঠবে। সেদিন প্রত্যেক মানুষকে পাঁচটি বিষয় সম্পর্কে জবাবদিহি করতে হবে। তাই একজন মুমিনের জন্য সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি হলো, সেই মহাসমাবেশের প্রশ্নগুলোর উত্তর দেওয়ার প্রস্তুতি এই দুনিয়াতেই সম্পন্ন করা।

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘কেয়ামতের দিন কোনো বান্দার পা তার রবের সামনে থেকে নড়বে না, যতক্ষণ না তাকে পাঁচটি বিষয়ে জিজ্ঞাসা করা হবে। তা হলো- এক. জীবন কীভাবে কাটিয়েছে? দুই. যৌবন কোন কাজে ব্যয় করেছে? তিন. সম্পদ কোথা থেকে উপার্জন করেছে? চার. কোথায় ব্যয় করেছে? পাঁচ. যে জ্ঞান অর্জন করেছে সে অনুযায়ী আমল করেছে কি না? (সুনানে তিরমিজি)

প্রথম প্রশ্ন হবে জীবন সম্পর্কে। মানুষের প্রতিটি মুহূর্ত আল্লাহর দেওয়া অমূল্য নেয়ামত। এই সময় ইবাদত, সৎকাজ ও মানবকল্যাণে ব্যয় করা হয়েছে, নাকি গুনাহ ও অবহেলায় নষ্ট করা হয়েছে, তার হিসাব দিতে হবে।

দ্বিতীয় প্রশ্ন হবে যৌবন নিয়ে। যৌবন মানুষের শক্তি, সামর্থ্য ও উদ্যমের সময়। এ সময়কে আল্লাহর আনুগত্যে ব্যয় করা হয়েছে, নাকি প্রবৃত্তির অনুসরণে নষ্ট করা হয়েছে, সে বিষয়ে জবাব দিতে হবে।

তৃতীয় প্রশ্ন হবে সম্পদ অর্জনের পথ সম্পর্কে। উপার্জন হালাল ছিল, নাকি হারাম উপায়ে অর্জিত হয়েছিল? ব্যবসা-বাণিজ্য, চাকরি কিংবা অন্য যেকোনো মাধ্যমে উপার্জনের ক্ষেত্রে সততা ও ন্যায়পরায়ণতা বজায় রাখা হয়েছিল কি না, তা জানতে চাওয়া হবে।

চতুর্থ প্রশ্ন হবে সম্পদের ব্যয় নিয়ে। মানুষ তার অর্থ কোথায় খরচ করেছে, সেটাও হিসাবের আওতায় আসবে। আল্লাহর সন্তুষ্টির কাজে ব্যয় করা হয়েছে, নাকি অপচয়, বিলাসিতা ও গুনাহের পথে নষ্ট করা হয়েছে, সে বিষয়ে জবাবদিহি করতে হবে।

পঞ্চম প্রশ্ন হবে জ্ঞান সম্পর্কে। ইসলাম শুধু জ্ঞান অর্জনের শিক্ষা দেয় না, সেই জ্ঞান অনুযায়ী আমল করারও নির্দেশ দেয়। একজন মানুষ যা শিখেছে, তা নিজের জীবনে কতটুকু বাস্তবায়ন করেছে, সেটিই হবে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন।

এই পাঁচটি প্রশ্ন আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয়, দুনিয়ার জীবন দায়িত্বহীন নয়। প্রতিটি দিন, প্রতিটি কাজ এবং প্রতিটি সিদ্ধান্তের হিসাব একদিন দিতে হবে। তাই বুদ্ধিমানের কাজ হলো, আখেরাতের সেই কঠিন জবাবদিহির দিনের জন্য আজ থেকেই নিজেকে প্রস্তুত করা। যে ব্যক্তি এই প্রস্তুতি গ্রহণ করবে, আল্লাহর রহমতে সেদিন তার জন্য মুক্তি ও সফলতার পথ সুগম হবে।

লেখক : মাদ্রাসাশিক্ষক ও ইসলামি গবেষক

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত