ফারসি বিভাগে ‘গণিত বিশেষজ্ঞ’ নিয়োগের তোড়জোড়

আপডেট : ৩০ জুন ২০২৬, ০৭:৪২ এএম

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আধুনিক ভাষা ইনস্টিটিউটের ফারসি বিভাগে খন্ডকালীন শিক্ষক পদে একজন ‘গণিত বিশেষজ্ঞ’কে নিয়োগের তোড়জোড় চলছে। ভাষা ও সাহিত্য বিষয়ে অধিক যোগ্য ও অভিজ্ঞ শিক্ষকদের বাদ দিয়ে বিজ্ঞপ্তি ছাড়াই গণিতে পিএইচডিধারী ড. মাঈন উদ্দিনকে নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে তাকে নিয়োগ দিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রভাবশালী এক শিক্ষক সুপারিশও করেছেন। বিতর্কিত এই নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন উঠছে বিশ্ববিদ্যালয়ে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ড. মাঈন উদ্দিন আল জামিয়া আল মুস্তাফা ইউনিভার্সিটির পরিচালক। তিনি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে গণিতে এমফিল ও পিএইচডি সম্পন্ন করেছেন। এ ছাড়া ইরানের কওম থেকে ধর্মীয় শাস্ত্রে পড়াশোনা করলেও ভাষা ও সাহিত্যে তার উল্লেখযোগ্য কোনো ডিগ্রি নেই। এদিকে বাংলাদেশে দীর্ঘদিন ধরে কার্যক্রম পরিচালনা করে আসা আল মুস্তাফা ইউনিভার্সিটির বিরুদ্ধে নারী পাচারসহ নানা অভিযোগ রয়েছে। ২০২২ সালের জুনে ‘শিয়া বানিয়ে নারী পাঠাচ্ছে ইরানি বিশ্ববিদ্যালয়ের অবৈধ শাখা’ শীর্ষক খবর প্রকাশ হয়েছে। ইউজিসি থেকে অনুমোদন না থাকলেও বিশ্ববিদ্যালয়টি ১৯৯৪ সাল থেকে কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। বিশ্ববিদ্যালয়টির বাংলাদেশ শাখা বন্ধের দাবিতে এর আগে ইউজিসির কাছে উকিল নোটিস পাঠান প্রতারণার শিকার দাবি করা ড. সামিউল হক সরকার।

অভিযোগে ড. সামিউল হক বলেন, তিনি ২০১৯ সালে প্রতিষ্ঠানটি থেকে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জনের পর বাংলাদেশে ফিরে ওই শাখায় খ-কালীন অধ্যাপক হিসেবে যোগ দেন। পরে তিনি দেখতে পান, প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষকদের শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে প্রচারিত তথ্যের সঙ্গে বাস্তবতার মিল নেই। তার দাবি, গত ১৪ বছর ধরে প্রতিষ্ঠানটি বাংলাদেশ সরকারের কাছে তথ্য গোপন করে কার্যক্রম চালিয়ে আসছে। এই শাখা থেকে বেছে বেছে নারী শিক্ষার্থীদের ইরানে পাঠানো হয় এবং জঙ্গি সংগঠনকে মদদ দেওয়ার মতো স্পর্শকাতর বিষয়েও তার সন্দেহ রয়েছে। উকিল নোটিসে প্রতিষ্ঠানটিকে নারী পাচারকারী চক্র হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এটি একটি নারী পাচারকারী চক্র তাতে কোনো সন্দেহ নেই। এ ছাড়া প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে যুক্ত কয়েকজন ব্যক্তির বিরুদ্ধে ‘মোতা-বিবাহ’কেন্দ্রিক অনৈতিক কর্মকা-ের অভিযোগও করেন তিনি। 

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ড. মাঈন উদ্দিন। তিনি বলেন, এসব আজেবাজে কথা। আমরা ২০০৮-০৯ সাল থেকে এখানে আছি। এ ধরনের কোনো ইস্যুই নেই। নিজের যোগ্যতা সম্পর্কে তিনি বলেন, আমি ইরান থেকে ৯ মাসের ফারসি কোর্স করেছি। ৪০টির মতো বই অনুবাদ করেছি এবং বহু প্রবন্ধ লিখেছি। আমার কোনো ঘাটতি নেই। ভাষা ও সাহিত্যসহ বিভিন্ন বিষয়ে অনুবাদ করার কথাও জানান তিনি।

জানা গেছে, এই পদে শিক্ষক নিয়োগে কোনো বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেনি আধুনিক ভাষা ইনস্টিটিউট। অথচ, ঢাবিতে বিজ্ঞপ্তি ছাড়া শিক্ষক নিয়োগের কোনো আইনি সুযোগ নেই। জানা গেছে, ড. মাঈন উদ্দিনকে নিয়োগ দিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শীর্ষ পদস্থ প্রভাবশালী শিক্ষক আধুনিক ভাষা ইনস্টিটিউটে বিশেষ সুপারিশপত্র পাঠিয়েছেন। যদিও তার চেয়ে অধিক যোগ্য শিক্ষক ফারসি বিভাগে ইতিমধ্যেই পড়াচ্ছেন। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন অধ্যাপক ড. আবু মুসা মোহাম্মদ আরিফ বিল্লাহর খ-কালীন শিক্ষক হিসেবে নিয়োগের মেয়াদ বাড়ানোর আবেদন গ্রহণে অনীহার অভিযোগ উঠেছে ইনস্টিটিউটের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক অধ্যাপক ড. আবছার কামালের বিরুদ্ধে।

জানা যায়, অধ্যাপক আরিফ বিল্লাহ ২০২৫ সালে ৬ মাসের চুক্তিতে খন্ডকালীন শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ পেয়েছিলেন।  কিন্তু এখন তার নিয়োগ বাদ দিয়ে ফারসি ভাষায় দক্ষতা না থাকার পরও অন্যজনকে নিয়োগের তোড়জোড় চলছে।

এই পদে আবেদনকারী ঢাবির ফারসি ও উর্দু ভাষা বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. আবু মুসা মোহাম্মদ আরিফ বিল্লাহ বলেন, সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমেদ খানের হস্তক্ষেপে আমি ছয় মাসের জন্য নিয়োগ পেয়েছিলাম। কিন্তু বর্তমানে নিয়োগ নবায়ন করা হচ্ছে না। তার অভিযোগ, আগের একটি সিন্ডিকেট এখনো তার বিরুদ্ধে সক্রিয় রয়েছে।অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে আধুনিক ভাষা ইনস্টিটিউটের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক অধ্যাপক ড. আবছার কামাল বলেন, আবেদন তো যে কেউই করতে পারে। আমরা কাউকে বাধা দিতে পারি না। উত্থাপিত অভিযোগগুলো খতিয়ে দেখা হবে। ড. আরিফ বিল্লাহর বিষয়ে তিনি বলেন, তিনি ওভার কোয়ালিফায়েড। তাকে দিয়ে আরও উচ্চতর পর্যায়ের কোর্স পড়ানো উচিত বলে মনে করি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত