জার্মানির বিদায়: 'চরম লজ্জার'- ক্লিনসমান, ম্যাথেউস দিলেন কোন্দলের খবর

আপডেট : ৩০ জুন ২০২৬, ০৭:০১ পিএম

বিশ্বকাপের রাউন্ড অব ৩২-এর ম্যাচে প্যারাগুয়ের কাছে টাইব্রেকারে হেরে জার্মানির বিদায়কে ‘চরম লজ্জাজনক’ বলে আখ্যা দিয়েছেন দেশটির ফুটবল কিংবদন্তি ইয়ুর্গেন ক্লিন্সম্যান। নির্ধারিত ও অতিরিক্ত সময়ের খেলা ১-১ গোলে সমতায় থাকার পর, পেনাল্টি শুটআউটে ৪-৩ ব্যবধানে জয় ছিনিয়ে নেয় দক্ষিণ আমেরিকার দেশ প্যারাগুয়ে।

জার্মানির হয়ে ১০৮টি ম্যাচ খেলা এবং ২০০৬ সালের ঘরের মাঠের বিশ্বকাপে দলটিকে কোচ হিসেবে তৃতীয় স্থান এনে দেওয়া ক্লিন্সম্যান সোমবারের এই হারের পর দলের প্রস্তুতি নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন তুলেছেন, 

“নিশ্চিতভাবেই জার্মানির আমাদের সবার জন্য এটি একটি অত্যন্ত দুঃখের দিন, কারণ রাউন্ড অব ৩২ থেকেই আমরা বিদায় নেব—তা কেউ ভাবেনি। আর যেভাবে আমরা হেরেছি, তা ভীষণ, ভীষণ হতাশাজনক।”

“মাঠে দেখে মনে হচ্ছিল, ১২০ মিনিটের খেলায় ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নেওয়ার জন্য দল মানসিকভাবে মোটেও প্রস্তুত ছিল না। প্যারাগুয়ে যে একটি অত্যন্ত শক্তিশালী দল এবং ম্যাচটি যে কঠিন হতে যাচ্ছে—তা আমরা জানতাম। অথচ সেই লড়াই জেতার জন্য আমাদের খেলোয়াড়দের মধ্যে কোনো গতি, দৃঢ়তা বা আক্রমণাত্মক মনোভাব দেখা যায়নি।”

বিশ্বকাপের ইতিহাসে এই প্রথম জার্মানি কোনো ম্যাচ টাইব্রেকারে হারল। এই ঐতিহাসিক ব্যর্থতা নিয়ে ক্লিন্সম্যান বলেন:

“একেবারে শেষ মুহূর্তে দেখে মনে হচ্ছিল তারা পেনাল্টি শুটআউটের জন্য কোনো প্রস্তুতিই নেয়নি; যা আমাদের জন্য এককথায় পাগলামি! কারণ সাধারণত আমরা জার্মানরা পেনাল্টি শুটআউট পছন্দ করি এবং এতে আমাদের দারুণ রেকর্ড আছে। আজকের এই বিদায়টা এককথায় হৃদয়বিদারক, চরম লজ্জাজনক এবং এমন কিছু যা কেউ কখনো আশাই করেনি।”

হতাশা ব্যক্ত করে ক্লিন্সম্যান বলেনম “এই হার চার বছর আগে কাতারে কিংবা আট বছর আগে রাশিয়ায় গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায় নেওয়ার মতোই ভয়াবহ। এই পরাজয় জার্মান ফুটবলকে এক বিশাল, বিশাল গর্তের মধ্যে ফেলে দিল।”

 জার্মানির অন্দরের কোন্দল ফাঁস করলেন ম্যাথিউস

দেশটির রেকর্ড ম্যাচ খেলা কিংবদন্তি ফুটবলার লোথার ম্যাথিউস দাবি করেছেন, মাঠের ফুটবলের চেয়ে খেলোয়াড়দের পরিবার, হোটেল বুকিং আর বিমান টিকিট নিয়ে দলের ভেতরে চলা চরম কোন্দলই জার্মানির এই বিদায়ের অন্যতম বড় কারণ।

ম্যাথিউস বলেন:

“মাঠ এবং মাঠের বাইরে—সব জায়গাতেই এখন অনেক কিছু খতিয়ে দেখার আছে। খেলোয়াড়দের স্ত্রী, পরিবার, সবাই এর সাথে জড়িয়ে পড়েছিল। এগুলো নিয়ে প্রচুর হেডলাইনও হয়েছে। আমি বুঝতে পারি না কেন টুর্নামেন্টের একদম শুরু থেকেই সব পরিবারকে দলের সাথে জড়াতে হবে!”

ম্যাথিউসের কাছে থাকা তথ্য অনুযায়ী, এই পারিবারিক সুযোগ-সুবিধা নিয়ে খেলোয়াড়দের নিজেদের মধ্যেই গ্রুপিং ও আলোচনা তৈরি হয়েছিল:

“কারা কীভাবে ভ্রমণ করবে, কার হোটেল বুকিং কেমন হবে—এসব নিয়েই দলের ভেতর সারাক্ষণ আলোচনা চলত। এই খবরগুলো কখনোই গণমাধ্যমে আসেনি, কিন্তু আমি নিশ্চিতভাবে জানি যে এটি দলের ভেতরে আলোচনার মূল বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছিল।”

ম্যাথিউস দলের ভেতরের সুনির্দিষ্ট কিছু ক্ষোভের উদাহরণ দিয়ে বলেন:

“দলের এক খেলোয়াড় আরেক খেলোয়াড়ের ওপর ক্ষুব্ধ ছিল। কারণ, একজনের মাকে [চার্টার্ড ফ্লাইটে] সাথে ওড়ার অনুমতি দেওয়া হয়েছিল, আবার অন্য আরেকজনের স্ত্রী ও সন্তানদের সেই ফ্লাইটে আসার সুযোগ দেওয়া হয়েছিল। অথচ বাকি খেলোয়াড়দের পরিবারকে সাধারণ বাণিজ্যিক ফ্লাইটে  আসতে হয়েছিল!”

তার মতে, এই ধরনের বৈষম্য দলের ভেতর অপ্রয়োজনীয় অশান্তি এবং হিংসার জন্ম দিয়েছে। তাই ভবিষ্যতে বড় টুর্নামেন্টগুলোতে পরিবার সামলানোর এই নিয়মটি নতুন করে ভেবে দেখার দাবি তুলেছেন তিনি।

ভবিষ্যতের জন্য একটি কড়া পরামর্শ দিয়ে এই জার্মান কিংবদন্তি বলেন:

“তারা আমেরিকাতে আসার পর দুই সপ্তাহও পার হয়নি, এর মধ্যেই আবার তাদের পুরো পরিবার সেখানে হাজির! আমার পরামর্শ হলো—দল যদি মাঠে ভালো কিছু করে দেখাতে পারে, তবে কোয়ার্টার ফাইনাল থেকে তাদের পরিবারকে উড়িয়ে আনা যেতে পারে, তার আগে নয়।”

 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত