কাতারে নিহত সিলেটের ৫ যুবকের লাশ ফিরল

আপডেট : ০১ জুলাই ২০২৬, ০৫:২৪ এএম

কাতারে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত সিলেটের কানাইঘাট উপজেলার পাঁচ যুবকের কফিনবন্দি লাশ দেশে ফিরেছে। গতকাল মঙ্গলবার লাশগুলো তাদের গ্রামের বাড়িতে পৌঁছালে পরিবার ও আত্মীয়স্বজনের কান্না আর আহাজারিতে শোকাবহ পরিবেশের সৃষ্টি হয়। প্রতিবেশীসহ আশপাশের শত শত মানুষও সেখানে ভিড় করেন। জোহরের নামাজের পর জানাজা শেষে তাদের লাশ দাফন করা হয়।

মঙ্গলবার সকাল পৌনে ৭টার দিকে বিমান বাংলাদেশের একটি ফ্লাইটে নিহতদের লাশ সিলেট এমএজি ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছে বলে জানান বিমানবন্দরের পরিচালক হাফিজ আহমদ। তিনি বলেন, ‘মরদেহগুলো যথা নিয়মে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।’

গত ২১ জুন সকালে কাতারের আল-শাহানিয়া এলাকায় মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় এ পাঁচ বাংলাদেশির মর্মান্তিক মৃত্যু হয়। নিহতরা হলেন সিলেটের কানাইঘাট উপজেলার গাছবাড়ী গ্রামের আব্দুল কাদির, মাঝতালুক গ্রামের মুস্তাক আহমেদ আফনান, একই গ্রামের জুবায়ের আহমেদ, আগাতালুক গ্রামের জসিম উদ্দিন এবং আমরপুর গ্রামের জিবাল আহমেদ।

সংশ্লিষ্টসূত্র জানায়, নিহতদের মরদেহ গত সোমবার কাতারের স্থানীয় সময় রাত ১০টা ১৫ মিনিটে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের বিজি-২২৬ নম্বর ফ্লাইটে হামাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে বাংলাদেশের উদ্দেশে পাঠানো হয়। ফ্লাইটটি মঙ্গলবার সকাল ৬টা ৫০ মিনিটে সিলেট এমএজি ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এসে পৌঁছায়। দূতাবাস জানায়, বাংলাদেশ ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের অর্থায়নে নিহতদের মরদেহ দেশে পাঠানোর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। স্থানীয় সূত্র জানায়, প্রবাস থেকে যাদের বাড়িতে হাসিমুখে ফেরার কথা ছিল, সেই যুবকদের কফিনবন্দি লাশ দেখে পরিবারের সবাই কান্নায় ভেঙে পড়েন। নিজ নিজ বাড়িতে লাশ পৌঁছার পর শোকাবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।

হাজার হাজার মানুষের উপস্থিতিতে নিহত পাঁচ প্রবাসীর জানাজা বিকেল ২টায় কানাইঘাটের মহাজিরুল উলুম আকুনি মাদ্রাসা মাঠে অনুষ্ঠিত হয়। এর আগে সকালে লাশগুলো সিলেট এমএজি ওসমানী বিমানবন্দরে এসে পৌঁছালে সেখানে উপস্থিত ছিলেন সিলেট-৫ আসনের সংসদ সদস্য মুফতি আবুল হাসান ও প্রবাসীকল্যাণ, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রেজাউল হাসান কয়েস লোদী, কানাইঘাট উপজেলা বিএনপি ও জামায়াতের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ। সেখানে প্রবাসী পরিবারের সদস্যদের কাছে মরদেহ হস্তান্তর করা হয়। নিহত প্রবাসীদের লাশ পাঁচটি অ্যাম্বুলেন্সে করে যার যার বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়। স্বজনরা বারবার কফিনবন্দি লাশ আঁকড়ে ধরে কান্নায় ভেঙে পড়েন। জানাজার পর পাঁচ প্রবাসীর লাশ তাদের নিজ নিজ গ্রামের কবরস্থানে সমাহিত করা হয়। 

নিহত প্রবাসীদের লাশ দেশে আনতে সরকারের পক্ষ থেকে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয় এবং আনুষ্ঠানিকতা শেষে কাতার থেকে মঙ্গলবার তাদের লাশ দেশে আসে। প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী নিহত প্রবাসীদের পরিবারকে সরকারের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দেন। দ্রুত লাশ দেশে আসায় নিহতদের স্বজনরা সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত