গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলায় নাতির হামলায় দাদি নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় গুরুতর আহত দাদাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। পুলিশ অভিযুক্ত নাতিকে আটক করেছে।
বুধবার (১ জুলাই) দুপুরে উপজেলার ঘুড়িদহ ইউনিয়নের খামার পবন তাইড় গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত বৃদ্ধার নাম ফেরেজা বেগম (৬৫)। তিনি ওই গ্রামের আব্দুল করিম মিয়ার স্ত্রী। ঘটনার পর স্থানীয়রা অভিযুক্ত নাতি শাকিল মিয়াকে আটক করে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শাকিল মিয়ার মা-বাবা দীর্ঘদিন ধরে ঢাকায় চাকরি করেন। তিনি গ্রামের বাড়িতে দাদা-দাদির সঙ্গে বসবাস করতেন। সম্প্রতি পারিবারিকভাবে পাশের একটি গ্রামে তার বিয়ে হয়। গত সোমবার পারিবারিক কলহের জেরে শাকিলের স্ত্রী বাবার বাড়িতে চলে যান।
বুধবার দুপুরে দাদা-দাদি বাড়ির পাশের জমিতে কাজ করছিলেন। সেখানে গিয়ে শাকিল তার স্ত্রীকে শ্বশুরবাড়ি থেকে এনে দেওয়ার জন্য দাদা-দাদিকে বলেন। এ নিয়ে দাদা ও নাতির মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে শাকিল জমিতে ব্যবহৃত একটি কাচি দিয়ে দাদি ফেরেজা বেগমকে আঘাত করেন। এ সময় স্ত্রীকে রক্ষা করতে গেলে দাদা আব্দুল করিম মিয়াকেও কাচি দিয়ে আঘাত করেন তিনি।
পরে স্থানীয়রা আহত দুজনকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়ার পথে ফেরেজা বেগম মারা যান। গুরুতর আহত আব্দুল করিমকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
এদিকে স্থানীয়রা শাকিল মিয়াকে আটক করে পুলিশে খবর দেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে গাইবান্ধার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (বি-সার্কেল) শেখ মুত্তাজুল ইসলাম জানান, কয়েক দিন আগে শাকিলের স্ত্রী ঝগড়ার জেরে বাবার বাড়িতে চলে যান। পরে স্ত্রীকে শ্বশুরবাড়ি থেকে এনে দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে দাদা-দাদির সঙ্গে তার বিরোধ সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে শাকিল কাচি দিয়ে দাদা-দাদিকে আঘাত করেন। ঘটনার পর তাকে আটক করা হয়েছে। এ ঘটনায় পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।