৩২ কিলোমিটারের জলকদর খাল, মাত্র ২৫শ মিটার সংস্কার

আপডেট : ০৩ জুলাই ২০২৬, ০৬:৩৭ পিএম

প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ অগ্রাধিকার খাল খনন প্রকল্পের আওতায় চট্টগ্রামের বাঁশখালীর ‘জলকদর খাল’ পুনঃখনন কাজ চলমান রয়েছে। তবে বাঁশখালীর বুক চিরে প্রবাহিত দীর্ঘ ৩২ কিলোমিটারের এই খালের মাত্র ২৫শত মিটার (২ দশমিক ৫ কিলোমিটার) খনন কাজ শুরু হওয়ায় হতাশা বিরাজ করছে স্থানীয়দের মাঝে।

তাই খালের প্রায় ১০ হাজার মিটার অংশ সম্পূর্ণ সংস্কারহীন থাকায় পুরো খালটি দ্রুত সংস্কারের দাবি জানিয়েছে উপকূলীয়বাসী।

জলকদর খালের পাশে বসবাসরত বাসিন্দারা জানায়, দীর্ঘদিন ধরে জলকদর খালটি ভরাট হয়ে যাওয়ায় বর্ষা মৌসুমে তীব্র জলাবদ্ধতা, কৃষি জমিতে লবণাক্ত পানির অনুপ্রবেশ এবং শুষ্ক মৌসুমে সেচ সংকটের মতো নানামুখী সমস্যায় ভুগছেন তারা। তাদের দীর্ঘদিনের দাবির প্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ অগ্রাধিকার খাল খনন প্রকল্পের আওতায় এ খালের মাত্র ২৫ শত মিটার (২ দশমিক ৫ কিলোমিটার) খনন কাজ শুরু হয়। যা জুনের মধ্যে শেষ করে খালের দুইপাড়ে গাছ লাগানোর নির্দেশনা ছিল।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের প্রায় ৬২ লাখ টাকা ব্যয়ে চলমান এই প্রকল্পের আওতায় খানখানাবাদ ইউনিয়নে ১১০০ মিটার, বাহারছড়া ইউনিয়নে ১১০০ মিটার এবং সাধনপুর ইউনিয়নে ৩০০ মিটার খাল খনন করা হচ্ছে।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, খালের মুখের প্রস্থ ৩৬ ফুট, মধ্যভাগের প্রস্থ ২২ ফুট, তলার প্রস্থ ৯ ফুট এবং গভীরতা ১২ ফুট রাখা হচ্ছে। প্রকল্প বাস্তবায়নে খানখানাবাদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান শহিদ উল্লাহ সিকদারকে সভাপতি এবং বাহারছড়ার চেয়ারম্যান রেজাউল করিম চৌধুরী ইউনুসকে সচিব ও সাধনপুরের চেয়ারম্যান কেএম সালাহ উদ্দিন কামাল, ইউপি সদস্য ফরিদা আক্তার ও শওকত ওসমানকে সদস্য করে ৫ সদস্যের একটি প্রকল্প কমিটি গঠন করে।

এদিকে খালখনন চলমান কাজে এস্কেভেটর (খননযন্ত্র) দিয়ে খালের মাটি দুইপাশে স্তূপ করে ফেলে রাখা হচ্ছে, যা সামান্য বৃষ্টিতেই ধসে আবারও খালে গিয়ে পড়বে। কাজটি যথাযথ টেকসই উপায়ে করার দাবি জানান তারা।

উপকূলীয় বাহারছড়া এলাকার বাসিন্দা ও বাঁশখালী উপজেলা বিএনপির সাবেক বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক মুহাম্মদ জালাল উদ্দিন চৌধুরী বলেন, সাঙ্গু নদী ও বঙ্গোপসাগরের সঙ্গে সংযুক্ত জলকদর খাল একসময় প্রায় ১৫০ ফুট প্রশস্ত ছিল। যা পানি প্রবাহ, মৎস্যসম্পদ ও যোগাযোগের প্রধান মাধ্যম। কিন্তু দীর্ঘদিনের দখল ও অবহেলায় এটি এখন সরু নালায় পরিণত হয়েছে। খালের উত্তরাংশে মাত্র ২ দশমিক ৪ কিলোমিটার অংশ খনন করা খালের অস্তিত্ব রক্ষার জন্য যথেষ্ট নয়। এতে অবৈধ দখলদাররা পার পেয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

তিনি খালের প্রকৃত সীমানা নির্ধারণ, অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ ও পূর্ণাঙ্গ খননের জোর দাবি জানান।

বাঁশখালী উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা শরীফ মো. রুবেল জানান, জলকদর খালের খনন করার যে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে তার কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। টার্গেটের চেয়ে আরও ৫০ মিটার বেশি কাটা হয়েছে। এবার ১৪৩ শ্রমিকের মাধ্যমে খালের দুইপাড়ে মজবুতকরণ ও বৃক্ষরোপণ করা হবে। শ্রমিকেরা দৈনিক ৫৫০ টাকা মজুরি সরাসরি নিজস্ব অ্যাকাউন্টে পাবেন। কাজের মান নিয়ে আমরা সন্তুষ্ট।

তবে তিনি স্বীকার করে বলেন, খালটির আরও ৮ থেকে ১০ হাজার মিটার খনন করতে পারলে এটি বঙ্গোপসাগরের সঙ্গে সরাসরি সংযুক্ত হতো। আমরা যে পরিমাণ বরাদ্দ চেয়েছিলাম, তা না পাওয়ায় পুরোটা করা সম্ভব হচ্ছে না। তবে পুরো জলকদর খালটি সংস্কার করা অত্যন্ত জরুরি।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী অনুপম পাল জানান, বাঁশখালীর অভ্যন্তর দিয়ে প্রবাহিত জলকদর খালটির মোট দৈর্ঘ্য ৩২ কিলোমিটার। এর মধ্যে খানখানাবাদের ঈশ্বরবাবুর হাট থেকে কাথারিয়া চুনতি বাজার পর্যন্ত ১৬ কিলোমিটার অংশ খননের জন্য একটি প্রস্তাবনা তৈরি করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে পুরো জলকদর খাল সংস্কার ও খননের আওতায় আসবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত