প্রতিষ্ঠার দশ বছর পরও চট্টগ্রামের কর্ণফুলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স গড়ে ওঠেনি। এতে উপজেলার আড়াই লাখের বেশি মানুষ স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। এরই মধ্যে বহুল প্রত্যাশিত ২৫০ শয্যার জেনারেল হাসপাতাল নির্মাণের পরিকল্পনা থেকে সরে এসে ১০০ শয্যার হাসপাতাল নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
বিগত সরকারের শাসনামলে নবগঠিত কর্ণফুলী উপজেলায় ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতাল নির্মাণের যে প্রকল্প নেওয়া হয়েছিল তা বাতিল করা হয়েছে। সরকার পরিবর্তনের পর প্রকল্পটি আর না এগোনোর ফলে বর্তমানে ১০০ শয্যাবিশিষ্ট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নির্মাণের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে কর্তৃপক্ষ।
কর্ণফুলী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোছাম্মৎ জেবুন্নেসা বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন,২৫০ শয্যার পরিবর্তে ১০০ শয্যার হাসপাতাল নির্মাণের প্রস্তাবনা নিয়ে বর্তমানে কার্যক্রম চলছে। পরিকল্পনা ঘোষণার মাত্র এক বছরের মাথায় শয্যাসংখ্যা কমিয়ে আনার সিদ্ধান্তে স্থানীয়দের মধ্যে অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে।
জানা গেছে,২০১৬ সালের ৯ মে চট্টগ্রাম জেলার পটিয়া উপজেলার ৫টি ইউনিয়ন (চরলক্ষ্যা, জুলধা, চরপাথরঘাটা, শিকলবাহা ও বড়উঠান) নিয়ে গঠিত হয় কর্ণফুলী উপজেলা। শিল্পসমৃদ্ধ এ উপজেলায় গার্মেন্টস, সিমেন্ট, সয়াবিন তেল, চিনি, ইস্পাত কারখানাসহ রয়েছে ডকইয়ার্ড ও সরকারি-বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্র। দেশের বিভিন্ন জেলার বিপুলসংখ্যক মানুষ এখানে কর্মরত থাকলেও পূর্ণাঙ্গ সরকারি কোনো হাসপাতাল এখানে প্রতিষ্ঠিত হয়নি।
২০২৫ সালের ১ জুলাই কর্ণফুলী উপজেলার শিকলবাহা ক্রসিং এলাকায় প্রস্তাবিত ২৫০ শয্যার জেনারেল হাসপাতালের জন্য নির্ধারিত জমির সার্ভে ও চিহ্নিতকরণের কাজ শুরু হয়। চট্টগ্রামের তৎকালীন সিভিল সার্জন ডা. মো. জাহাঙ্গীর হোসেনের উপস্থিতিতে জমি পরিমাপ ও প্রাথমিক দখল কার্যক্রম সম্পন্ন হয়। এ সময় গণপূর্ত বিভাগের কর্মকর্তা এবং কর্ণফুলী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন। পরবর্তীতে ২০২৫ সালের ২১ জুলাই গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের প্রকৌশলী ও স্থপতিরা প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন করে কর্মপরিকল্পনা নির্ধারণ করেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় নতুন উপজেলা পরিষদ ভবনের পাশে প্রায় ৪ দশমিক ৭ একর জমিতে ২৫০ শয্যার হাসপাতাল নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। তবে এক বছর পার হলেও প্রকল্পটির ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট প্রপোজাল (ডিপিপি) অনুমোদন না পাওয়ায় প্রকল্পটি অনিশ্চয়তার মুখে পড়ে। বর্তমানে ২৫০ শয্যার পরিবর্তে ১০০ শয্যার হাসপাতালের প্রস্তাবনা নিয়ে কার্যক্রম চলছে।
সরেজমিনে ঘুরে ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বিপুলসংখ্যক মানুষের চিকিৎসার ভরসা হয়ে আছে একটি মাত্র কমিউনিটি ক্লিনিক। যা বর্তমানে অস্থায়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স হিসেবে সেখানে অর্ধবেলা চিকিৎসা সেবা দিচ্ছেন। বিকেল গড়াতেই চিকিৎসকরা অস্থায়ী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স বন্ধ করে চলে যান। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অ্যাম্বুলেন্স সেবা থাকলেও কখনও এ সেবা পাননি উপজেলার বাসিন্দারা এমনটায় অভিযোগ স্থানীয়দের।
কর্ণফুলী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোছাম্মৎ জেবুন্নেসা বলেন, উপজেলা পরিষদের পাশে ৪ দশমিক ৭ একর জমিতে ১০০ শয্যার হাসপাতাল নির্মাণ প্রস্তাবের একটি চিঠি আমরা পেয়েছি। প্রায় দশ বছরের কাছাকাছি হয়ে গেছে এখনও পর্যন্ত পূর্ণাঙ্গ হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা হয়নি এখানে। বছর দুয়েক আগে সিদ্ধান্ত হয়েছিল ২৫০ শয্যার হাসপাতাল গড়ে তোলা হবে। পরবর্তী সিদ্ধান্তে ১০০ শয্যার হাসপাতাল নির্মিত হবে। তবে ৫০ শয্যা হাসপাতাল নির্মাণের কথা শুনা গেলেও আমরা এ বিষয়ে দাপ্তরিক কোনো চিঠি এখনও পাইনি।
চট্টগ্রামে চালু হলো নগর গবেষণা কেন্দ্র