ছয় বছরেও শেষ হয়নি ১৫ মাসের নির্মাণকাজ 

আপডেট : ০৬ জুলাই ২০২৬, ০৪:৩০ এএম

নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার লাহুড়িয়া ইউনিয়নে ১০ শয্যাবিশিষ্ট মা ও শিশু হাসপাতালের কাজ ৬ বছরেও শেষ করতে পারেনি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। নির্মাণাধীন হাসপাতালটি চালু না হওয়ায় নড়াইল, মাগুরা ও ফরিদপুর জেলার সীমানাবর্তী এলাকার মানুষ স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। হাসপাতালটি চালুর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় লোকজন।

নড়াইল স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর (এইচইডি) সূত্রে জানা গেছে, বিগত ২০২০ সালে ৪ কোটি ৭২ লাখ টাকা ব্যয়ে তিনতলা বিশিষ্ট দুটি ভবন, সীমানাপ্রাচীর, গার্ডরুমসহ বিভিন্ন অবকাঠামো নির্মাণের কার্যাদেশ পায় ফরিদপুরের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান শ্রাবণী কনস্ট্রাকশন। চুক্তি অনুযায়ী, ১৫ মাসের মধ্যে কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও নির্ধারিত সময়ে নির্মাণকাজ সম্ভব হয়নি। এরপর বিভিন্ন কারণ দেখিয়ে সাত দফা সময় বাড়ানো হলেও নির্মাণকাজ শেষ করতে ব্যর্থ হয় প্রতিষ্ঠানটি। একপর্যায়ে তাদের সঙ্গে চুক্তি বাতিল করা হয়। অবশিষ্ট কাজ শেষ করতে পুনরায় ১ কোটি ৫৫ লাখ টাকা ব্যয়ে নতুন করে দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে।

গত শনিবার বিকেলে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, লাহুড়িয়ায় ৬০ শতাংশ জমির ওপর নির্মাণাধীন ১০ শয্যাবিশিষ্ট তিনতলা হাসপাতাল ভবন। পাশেই রয়েছে স্টাফদের বসবাস উপযোগী তিনতলা আবাসিক ভবন। সীমানাপ্রাচীর নির্মাণ করা হলেও মূল ফটকে এখনো গেট বসানো হয়নি।

লাহুড়িয়া ফাজিল মাদ্রাসা শিক্ষক ওজিফা খানম বলেন, এলাকার মানুষের চিকিৎসাসেবা নিতে লোহাগড়া উপজেলা সদরে যেতে প্রায় ২৫ কিলোমিটার এবং নড়াইল জেলা সদর হাসপাতালে যেতে ৩৫ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করতে হয়। জরুরি স্বাস্থ্যসেবা পেতে গর্ভবতী নারী, নবজাতক ও শিশুদের পেতে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়। 

লাহুড়িয়া ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান দাউদ হোসেন বলেন, বেশ কয়েক বছর ধরে হাসপাতালের নির্মাণকাজ অসম্পূর্ণ অবস্থায় পড়ে রয়েছে। এলাকাবাসীর প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে দ্রুত কাজটি শেষ করা অতি জরুরি।

নড়াইল স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর (এইচইডি) সহকারী প্রকৌশলী অশোক কুমার দত্ত বলেন, ‘প্রকল্পের প্রায় ৮৬ ভাগ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। এ পর্যন্ত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে ৩ কোটি ১৩ লাখ ৮০ হাজার টাকা পরিশোধ করা হয়েছে। পর পর সাতবার সময় বাড়ানোর পরও গত ২০২৪ সালের জুন মাসে প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হয়ে যায়। সেই সঙ্গে পুরনো ঠিকাদারের কার্যাদেশ বাতিল হয়েছে। অবশিষ্ট কাজ শেষ করতে নতুন করে দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে। বর্তমানে ঠিকাদার যাচাই-বাছাই চলছে। নতুন ঠিকাদার পেলে দ্রুত কাজ শেষ করা হবে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত