ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন করে আন্দোলনে শিক্ষার্থীরা

আপডেট : ০৬ জুলাই ২০২৬, ০৪:৩৫ এএম

বিসিএসে কম্বাইন্ড ডিগ্রির স্বতন্ত্র কোড চালুসহ চার দফা দাবিতে অনির্দিষ্টকালের জন্য ক্লাস ও পরীক্ষা বর্জন করে আন্দোলনে নেমেছেন শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শেকৃবি) অ্যানিম্যাল সায়েন্স অ্যান্ড ভেটেরিনারি মেডিসিন (এএসভিএম) অনুষদের শিক্ষার্থীরা।

গতকাল রবিবার সকাল ১০টা থেকে অনুষদের বিভিন্ন বর্ষের শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের এম মহবুবউজ্জামান ভবনের নিচে ব্যানার-ফেস্টুন নিয়ে জড়ো হন এবং মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেন।

৪৭তম বিসিএসে শেকৃবি থেকে ৪০ জনেরও বেশি  শিক্ষার্থী বিভিন্ন ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত হন। তবে এএসভিএম অনুষদের ১৮ জন শিক্ষার্থী প্রিলিমিনারি ও লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে চূড়ান্ত ভাইভায় অংশ নিলেও ৭১টি টেকনিক্যাল ক্যাডার পদের মধ্যে তাদের কেউই সুপারিশপ্রাপ্ত হননি। এতে এএসভিএম অনুষদের শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ ও হতাশা দেখা দিয়েছে। ভাইভায় অংশ নেওয়া একাধিক শিক্ষার্থী জানান তাদের ধারণা, আবেদন কোড বা সংশ্লিষ্ট কোনো কারিগরি (টেকনিক্যাল) জটিলতার কারণে এমনটি হয়ে থাকতে পারে। আগের কোনো বিসিএসে এমন ফল বিপর্যয় ঘটেনি।

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও সুস্পষ্ট ব্যাখ্যার পাশাপাশি ৪ দফা দাবি ঘোষণা করেন। দাবিগুলো হলো কম্বাইন্ড ডিগ্রির জন্য বিসিএস প্রিলিমিনারি ও লিখিত পরীক্ষায় স্বতন্ত্র সাবজেক্ট কোড চালু করতে হবে, প্রাণিসম্পদ খাতের বিভিন্ন সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের নিয়োগবিধিতে কম্বাইন্ড ডিগ্রি অন্তর্ভুক্ত করে নিয়োগসংক্রান্ত চলমান জটিলতার স্থায়ী সমাধান করা এবং ইন্টার্ন ভেটেরিনারি চিকিৎসকদের মাসিক ভাতা এমবিবিএস ইন্টার্ন চিকিৎসকদের ভাতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করা এবং ভ্রমণ ও দৈনিক ভাতা (টিএ-ডিএ) চালু করা।

মানববন্ধনে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, অতীতে প্রশাসনের নানা মৌখিক আশ্বাসে সাময়িকভাবে আন্দোলন স্থগিত করলেও এবার দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত তারা ক্লাসে ফিরবেন না।

শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের প্রতি একাত্মতা প্রকাশ করে এএসভিএম অনুষদের ডিন অধ্যাপক জাহাঙ্গীর আলম বলেন, শিক্ষার্থীদের দাবিগুলো অত্যন্ত যৌক্তিক। আমরা তাদের দাবির সঙ্গে সম্পূর্ণ একমত এবং বিষয়টি নিয়ে কাজ করছি। ইতিমধ্যে সংশ্লিষ্ট বিভাগীয় ও রাষ্ট্রীয় দপ্তরগুলোকে এই বিষয়ে অবহিত করা হয়েছে। আশা করছি, খুব দ্রুতই এর একটি ফলপ্রসূ সমাধান আসবে।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য (ভিসি) অধ্যাপক আব্দুল লতিফ বলেন, ‘আমি শিক্ষার্থীদের স্বার্থ রক্ষায় সর্বোচ্চ উদ্যোগ গ্রহণ করছি। কম্বাইন্ড ডিগ্রির এই জটিলতা নিরসনে আমি নিজে সরকারি কর্ম কমিশনে (পিএসসি) যাব এবং সংশ্লিষ্ট চেয়ারম্যান ও কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলব।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত