৭৬ শতাংশ নারী অনলাইনে হয়রানির শিকার

আপডেট : ০৭ জুলাই ২০২৬, ০৭:১৭ এএম

ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে নারীদের বিরুদ্ধে অনলাইন হয়রানি উদ্বেগজনক মাত্রায় পৌঁছেছে। সাতক্ষীরায় পরিচালিত এক জরিপে এ তথ্য উঠে এসেছে। জরিপে অংশ নেওয়া ৬২ জনের মধ্যে ৪৭ জন, অর্থাৎ প্রায় ৭৬ শতাংশ জানিয়েছেন, জীবনের কোনো না কোনো সময়ে তারা অনলাইন হয়রানি বা ডিজিটাল সহিংসতার অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয়েছেন। একই সঙ্গে ৪৮ জন উত্তরদাতা বলেছেন, এ ধরনের ঘটনার প্রতিকার পেতে কোথায় অভিযোগ করতে হয়, সে সম্পর্কেও তাদের কোনো ধারণা নেই।

প্রতিবেদনটি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করেন ইয়ুথ রিসার্চার সাকিব হোসেন। গতকাল সোমবার বিকেলে সাতক্ষীরা সদর উপজেলা পরিষদের হলরুমে ‘যুব নেতৃত্বে ডিজিটাল নিরাপত্তা, লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা, সুরক্ষা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিতকরণে বিভিন্ন স্টেকহোল্ডারের সঙ্গে অ্যাডভোকেসি সভায়’ এ জরিপের ফলাফল উপস্থাপন করা হয়। অ্যাকশন ফর ট্রান্সফরমেশন প্রকল্পের আওতায় সাতক্ষীরার উন্নয়ন সংস্থা সিডো জরিপটি পরিচালনা করে। এতে সহযোগিতা করে অ্যাকশনএইড বাংলাদেশ।

সিডোর নির্বাহী পরিচালক শ্যামল কুমার বিশ্বাস জানান, জরিপে সাতক্ষীরার তালা উপজেলার ধানদিয়া ও নগরঘাটা ইউনিয়ন এবং সাতক্ষীরা সদর উপজেলার পৌরসভা, ফিংড়ী ও ব্রহ্মরাজপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মতামত নেওয়া হয়। এতে ৬২টি কি ইনফরমেন্ট ইন্টারভিউ এবং ৪৬ জনের অংশগ্রহণে চারটি ফোকাস গ্রুপ ডিসকাশন অনুষ্ঠিত হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ভুয়া আইডি খুলে হয়রানি, ব্যক্তিগত ছবি বা ভিডিও অপব্যবহার, অশালীন বার্তা, সাইবার বুলিং, ব্ল্যাকমেইল, কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে ভুয়া ছবি ও ভিডিও তৈরি করে হয়রানির প্রবণতা বাড়ছে। সবচেয়ে বেশি হয়রানির মাধ্যম হিসেবে উঠে এসেছে ফেসবুক। জরিপে ১৯ জনের নামে ভুয়া আইডি খোলা, ১৬ জনকে অশালীন বার্তা পাঠানো এবং ১১ জনের ছবি বা ভিডিও অপব্যবহারের তথ্য উঠে এসেছে। ডিজিটাল সহিংসতার কারণে ২৯ জন মানসিক চাপে, ২২ জন ভয় ও নিরাপত্তাহীনতায় এবং ১৩ জন শিক্ষা বা কর্মজীবনে ক্ষতির শিকার হওয়ার কথা জানিয়েছেন। হয়রানির পর মাত্র একজন পুলিশ এবং একজন ইউনিয়ন পরিষদের সদস্যের কাছে অভিযোগ করেন। প্রতিকার না পাওয়ার আশঙ্কা, ভয়, সামাজিক লজ্জা ও অভিযোগের স্থান সম্পর্কে অজ্ঞতাকে অভিযোগ না করার প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

উন্নয়ন সংস্থা সিডোর নির্বাহী পরিচালক শ্যামল কুমার বিশ্বাসের সভাপতিত্বে সভায় বক্তব্য দেন সাতক্ষীরা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অর্ণব দত্ত, জেলা তথ্য কর্মকর্তা মো. জাহারুল ইসলাম, সদর উপজেলা ভারপ্রাপ্ত মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আবুল হোসেন, স্বদেশের নির্বাহী পরিচালক মাধব চন্দ্র দত্ত, সদর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মমতাজ পারভীন, সাতক্ষীরা পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর শফিক উদ দৌলা সাগর এবং সমাজকর্মী অ্যাডভোকেট এস এম বিপ্লব হোসেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত