মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে গত কয়েক দিনের তীব্র সংঘাত ও বিমান হামলার পর কক্সবাজারের টেকনাফ সীমান্তে নতুন করে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়নি। সীমান্তের ওপারে গোলাগুলি সাময়িক বন্ধ থাকলেও এপারের বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। এদিকে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে নতুন করে রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ ঠেকাতে নাফ নদসহ পুরো সীমান্তজুড়ে টহল ও নজরদারি জোরদার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) এবং কোস্ট গার্ড।
স্থানীয় প্রশাসন ও সীমান্তের বাসিন্দাদের সূত্রে জানা গেছে, গত ১ ও ২ জুলাই রাত থেকে মিয়ানমারের মংডু ও বুথিডং টাউনশিপে জান্তা বাহিনী ও বিদ্রোহী আরাকান আর্মির (এএ) মধ্যে তীব্র লড়াই শুরু হয়। জান্তা বাহিনীর যুদ্ধবিমান থেকে ছিটকে আসা একের পর এক শক্তিশালী বোমার বিকট শব্দ এবং ভারী গোলার আওয়াজে প্রকম্পিত হয়ে ওঠে টেকনাফ পৌরসভা, সাবরাং, হ্নীলা, হোয়াইক্যং ও শাহপরীর দ্বীপের সীমান্ত এলাকা। বিস্ফোরণের তীব্রতায় বাংলাদেশের ভেতরের ঘরবাড়ি ও স্থাপনা কেঁপে ওঠায় স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয়রা জানান, গত তিন দিনে নতুন করে কোনো বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়নি।
নাফ নদ-সংলগ্ন শাহপরীর দ্বীপের জালিয়াপাড়ার বাসিন্দা মো. বেলাল জানান, গত বুধবার রাতে হঠাৎ এমন ভয়াবহ ঝাঁকুনি অনুভব করি যে প্রথমে মনে হয়েছিল বড় ভূমিকম্প। পুরো এলাকা থরথর করে কেঁপে ওঠে। ওই সময় পরপর চার-পাঁচটি বড় ধরনের বিস্ফোরণের শব্দ শুনি। প্রথম বিস্ফোরণের সময় নাফ নদের ওপারে আগুনের লেলিহান শিখাও দেখা গেছে। এখন শব্দ বন্ধ থাকলেও আতঙ্কে রাতে ঘুমাতে পারছি না।’
নাফ নদে মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করেন হ্নীলা এলাকার মৎস্যজীবী মুজিবুর রহমান। তিনি বলেন, ‘গত দিন ভোরে নাফ নদে মাছ ধরতে গিয়ে একের পর এক বোমার আওয়াজ শুনতে পাই। বিস্ফোরণের তীব্রতা এত বেশি ছিল যে নাফ নদে টিকে থাকাও মুশকিল হয়ে পড়ে। ভয়ে জাল গুটিয়ে দ্রুত কূলে ফিরে আসি। এখন গোলাগুলি বন্ধ থাকলেও নাফ নদে যেতে ভয় লাগছে।’
সীমান্তের টেকনাফ পৌরসভার নাইট্যং পাড়া এলাকার বাসিন্দা আজিজুর রহমান বলেন, ‘প্রায় সাত মাস পর আবারও মিয়ানমারের দিক থেকে এমন ভয়াবহ গোলার শব্দ শুনলাম। ওপারে লড়াই বাড়লে রোহিঙ্গারা নাফ নদ পার হয়ে বাংলাদেশে ঢোকার চেষ্টা করে। আমরা চাই সীমান্তে নিরাপত্তা বাড়ানো হোক, নতুন করে যেন কোনো রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ করতে না পারে।’
সাবরাং ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য আবুল ফয়েজ বলেন, ‘ওপারে সংঘাতের প্রভাব আমাদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা, জীবিকা এবং নাফ নদকেন্দ্রিক কার্যক্রমে বিরূপ প্রভাব ফেলছে।’ এ বিষয়ে ২ বিজিবি অধিনায়ক লে. কর্নেল মো. হানিফুর রহমান ভূঁইয়া বলেন, ‘মিয়ানমারের অভ্যন্তরে সংঘাতের কারণে বাংলাদেশ অংশে সরাসরি কোনো নিরাপত্তা ঝুঁকি নেই। সীমান্তে আমাদের কড়া নজরদারি রয়েছে।’