সরকারি কর্মচারীদের জন্য নতুন বেতনকাঠামো বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া চূড়ান্ত ধাপে পৌঁছেছে। নবম বেতন কমিশনের সুপারিশ পর্যালোচনা কমিটির চূড়ান্ত প্রতিবেদন আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে মন্ত্রিসভায় উপস্থাপন করা হতে পারে। গতকাল সোমবার (৬ জুলাই) সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত কমিটির শেষ বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে কমিটির প্রায় সব সদস্যই অংশ নেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, নতুন বেতনকাঠামোটি চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের ১ জুলাই থেকেই কার্যকর করা হবে। প্রথম ধাপে সরকারি কর্মচারীরা নতুন কাঠামো অনুযায়ী মূল বেতন পাবেন। এর পরের অর্থবছরের ১ জুলাই থেকে কার্যকর হবে নতুন ভাতা। বেসামরিক সরকারি কর্মচারীদের পাশাপাশি বিচার বিভাগ এবং সশস্ত্র বাহিনীর জন্যও আলাদা প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে বলে জানা গেছে।
এর আগে জাতীয় বেতন কমিশন বিদ্যমান ২০টি গ্রেড বহাল রেখে বেতন-ভাতা ১০০ থেকে ১৪০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর সুপারিশ করেছিল। এই সুপারিশ অনুযায়ী সর্বনিম্ন মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ মূল বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা করার প্রস্তাব করা হয়। নতুন এই বেতনকাঠামো পুরোপুরি বাস্তবায়ন করতে সরকারের বাড়তি ১ লাখ ৬ হাজার কোটি টাকার প্রয়োজন হবে।
চলতি অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে জনপ্রশাসন খাতে ১ লাখ ৪১ হাজার ৪৩৪ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে, যা গত অর্থবছরের সংশোধিত বরাদ্দের চেয়ে ৫৪ হাজার ৫৭২ কোটি টাকা বেশি। অর্থ বিভাগের কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, এই অতিরিক্ত বরাদ্দের একটি বড় অংশ সরকারি কর্মচারী, এমপিওভুক্ত শিক্ষক ও পেনশনভোগীদের নতুন বেতন-ভাতা দেওয়ার জন্য রাখা হয়েছে।
পর্যালোচনা কমিটির প্রতিবেদনটি অর্থমন্ত্রীর সম্মতি পাওয়ার পর মন্ত্রিসভার বৈঠকে অনুমোদনের জন্য পাঠানো হবে। মন্ত্রিসভায় এটি পাস হওয়ার পর আইনি পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য আইন মন্ত্রণালয়ে যাবে এবং সব প্রক্রিয়া শেষ করে চূড়ান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে। এর ফলে দীর্ঘ প্রায় ১১ বছর পর সরকারি কর্মচারীরা নতুন স্কেলে বেতন পেতে যাচ্ছেন।