অপহরণ ও মুক্তিপণ দাবি ৫ এনসিপি নেতা গ্রেপ্তার

আপডেট : ০৮ জুলাই ২০২৬, ০৮:০৪ এএম

দিনাজপুরে অপহরণ ও মুক্তিপণ দাবির অভিযোগে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) রংপুর বিভাগীয় নেতা মো. আরিফ মুনসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গতকাল তাদের গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে হাজির করা হলে বিচারক কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। এর আগে গত সোমবার সন্ধ্যায় দিনাজপুর গোর-এ শহীদ ময়দান থেকে একটি সাদা প্রাইভেটকারসহ তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। পরে রাত ১টায় দিনাজপুর কোতোয়ালি থানায় সদর উপজেলার সুন্দরবন ইউনিয়নের খোশালপুর পুকুরপাড়া গ্রামের বাসিন্দা মো. মামুন বাদী হয়ে তাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন।

গ্রেপ্তাররা হলেন জাতীয় যুব নাগরিক শক্তির রংপুর বিভাগীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আরিফ মুন, সংগঠনের নেতা হাসিন ইশরাক মিম, আজমির হোসেন, সাজিদুল মিনহাজ ও হৃদয় হোসেন।

মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয় আরিফ মুন, মো. হাসিন ইশরাক মিম, মো. আজমির হোসেন, মো. সাজিদুল মিনহাজ, মো. হৃদয়সহ অজ্ঞাতনামা ১০-১২ জন গত রবিবার রাত ৯টার দিকে দিনাজপুর সদর উপজেলার পল্লীবিদ্যুৎ ৫ মাইল এলাকায় মো. আব্দুস সামাদের শ^শুরবাড়ি যান। সেখানে আব্দুস সামাদ ও তার নাতি মো. রিফাত ইসলামকে আসামি হাসিন ইশরাক মিমসহ অন্যরা মারধর করে।

এ সময় তারা আব্দুস সামাদকে অপহরণ করে নিয়ে যায়। পরে সোমবার দুপুর দেড়টার দিকে আব্দুস সামাদের মোবাইল থেকে ছেলে মামুনের মোবাইলে কল দিয়ে জানানো হয় তারা শহরের আশপাশে অবস্থান করছে। আব্দুস সামাদকে অজ্ঞাত স্থানে আটক করে রাখা হয়েছে। এ সময় তারা মুক্তিপণ বাবদ ১২ লাখ টাকা দাবি করে। টাকা দিনাজপুর গোর-এ শহীদ ময়দানে পৌঁছে দিলে আব্দুস সামাদকে ছেড়ে দেওয়া হবে। টাকা না দিলে তাকে খুন করার হুমকি দেওয়া হয়। বিষয়টি পরিবারের পক্ষ থেকে পুলিশকে অবগত করা হলে সোমবার সন্ধ্যায় কোতোয়ালি থানা পুলিশ গোর-এ শহীদ বড় ময়দানে একটি সাদা প্রাইভেটকারসহ অপহৃত আব্দুস সামাদকে উদ্ধার এবং অভিযুক্ত পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করে।

এদিকে নেতাদের গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে সন্ধ্যা থেকে দিনাজপুর কোতোয়ালি থানা ঘেরাও করে এনসিপি নেতাকর্মীরা। এ সময় তারা থানার ভেতরে ঢুকে পুলিশের সঙ্গে হট্টগোল করে গ্রেপ্তারকৃতদের ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। অন্যদিকে তাদের যেন ছেড়ে দেওয়া না হয় সে জন্য ছাত্রদলসহ বিএনপির নেতাকর্মীরা থানায় গিয়ে অবস্থান নেয়। এ সময় এনসিপির কয়েকজন নেতাকর্মী সংবাদকর্মীদের ওপর চড়াও হয়। পরে ছাত্রদল ও বিএনপির নেতাকর্মীদের বাধায় তারা থানা ত্যাগ করে। কোতোয়ালি থানার ওসি নুরনবী জানান, সোমবার রাতেই গ্রেপ্তার পাঁচজনের নাম উল্লেখসহ আরও ১০-১২ জনকে অজ্ঞাত আসামি করে মামলা রেকর্ড করা হয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত