বিশ্বকাপের শেষ ১৬-র ম্যাচে মিশরের বিপক্ষে ২-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়েও শেষ পর্যন্ত ৩-২ গোলের মহাকাব্যিক জয় পেয়েছে আর্জেন্টিনা। ম্যাচে পেনাল্টি মিস করার পরও লিওনেল মেসি একটি গোল করেন এবং সতীর্থকে দিয়ে একটি গোল করান।
ম্যাচের প্রথমার্ধে একটি পেনাল্টি মিস করেছিলেন মেসি. সেই ক্ষোভ ও হতাশা থেকেই একপর্যায়ে তাকে মাঠে কাঁদতে দেখা যায়। এই বিষয়ে মেসি বলেছেন, "সত্যি বলতে, পেনাল্টিটা মিস করে আমি নিজের ওপর খুব রেগে গিয়েছিলাম এবং চরম মানসিক যন্ত্রণায় ভুগছিলাম। খারাপ শট নেওয়ার কারণে খুব খারাপ লাগছিল, কারণ আমার মনে হচ্ছিল ওই সময়ে গোলটা করতে পারলে ম্যাচের চিত্র পুরোপুরি বদলে যেত; কারণ আমরা তখন ভালো খেলছিলাম।"
তিনি আরও যোগ করেন, "পেনাল্টি মিসের পরও আমরা কিছু স্পষ্ট সুযোগ পেয়েছিলাম, কিন্তু ওদের গোলরক্ষক অসাধারণ কিছু সেভ করে. ভাগ্য ভালো যে শেষ পর্যন্ত আমি গোল করতে পেরেছি. দলের ভেতরে ঘটে যাওয়া এতসব নাটকীয়তার পর গোল করে দলকে সাহায্য করতে পারাটা সত্যিই বিশেষ কিছু।"
মিশরের বিপক্ষে করা এই গোল চলতি বিশ্বকাপে মেসির অষ্টম গোল, যার মাধ্যমে তিনি কিলিয়ান এমবাপ্পে ও আর্লিং হালান্ডকে পেছনে ফেলে আপাতত এই আসরের সর্বোচ্চ গোলদাতার আসনে বসেছেন.
‘এই দল কখনো হাল ছাড়ে না’
২-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ার পর যেভাবে আর্জেন্টিনা ঘুরে দাঁড়িয়েছে, সেটিকে দলের চরিত্র ও গর্বের বহিঃপ্রকাশ হিসেবে দেখছেন মেসি, "আমি মনেপ্রাণে বিশ্বাস করি এবং জানি যে এই গ্রুপটি কখনো হাল ছেড়ে দেয় না, যা তারা ম্যাচ বাই ম্যাচ প্রমাণ করছে. ওরা কখনো লড়াই করা থামায় না। বিশ্বকাপের নকআউট ম্যাচে ২-০ গোলে পিছিয়ে পড়ার পর এভাবে ঘুরে দাঁড়ানো আমাদের আত্মমর্যাদা, চরিত্র, বিশ্বাস এবং শেষ পর্যন্ত লড়াই করার মানসিকতাকেই ফুটিয়ে তোলে।"
মেসি আরও বলেন, "আমরা এত তাড়াতাড়ি বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিতে চাইনি, তাই শেষ পর্যন্ত চেষ্টা চালিয়ে গেছি. ঈশ্বরকে ধন্যবাদ যে আমরা শেষ পর্যন্ত উদযাপন করতে পেরেছি. ২-০ হওয়ার পর পরিস্থিতি খুবই খারাপ দেখাচ্ছিল, তাই ম্যাচ শেষে সবাই এক চরম স্বস্তি ও মানসিক চাপ থেকে মুক্তি পেয়েছে।"
কুটি রোমেরোর সেই গোলই বদলে দেয় ম্যাচের মোড়
দলের ভেতরের লড়াকু মানসিকতার প্রশংসা করে অধিনায়ক বলেন, "আমি অনেক দিন ধরেই বলছি যে এই ছেলেরা ভেতর থেকে কেমন. আমি বছরের পর বছর ওদের সাথে কাটিয়েছি, এরা শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত নিজেদের উজাড় করে দেয়. আজ ২-০ তে পিছিয়ে থাকার পরও আমরা বিশ্বাস হারাইনি এবং কুটি (ক্রিস্টিয়ান রোমেরো)-র গোলটি ম্যাচের পুরো মোড় বদলে দেয়. আমরা বিশ্বাস করতে শুরু করি যে ম্যাচটি ঘোরানো সম্ভব।"
কোয়ার্টার ফাইনালে আর্জেন্টিনার পরবর্তী প্রতিপক্ষ সুইজারল্যান্ড। আগামী ১২ জুলাই কানসাস সিটিতে সেমিফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে সুইজারল্যান্ডের মুখোমুখি হবে লিওনেল স্কালোনির দল।
আর্জেন্টিনার শেষ আটের প্রতিপক্ষ ঠিক হলো টাইব্রেকারের জুয়ায়