শেষ আট: ইউরোপের আধিপত্যে 'চ্যালেঞ্জার' আর্জেন্টিনা-মরক্কো

আপডেট : ০৯ জুলাই ২০২৬, ০৯:৫৬ এএম

২০২৬ বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালের মঞ্চ এখন পুরোপুরি প্রস্তুত। এই পর্যায় থেকেই মূলত আসল চ্যাম্পিয়নদের রূপ প্রকাশ পেতে শুরু করে। এবারের শেষ আটের সমীকরণটি বেশ অদ্ভুত ও রোমাঞ্চকর—লড়াইটি মূলত ইউরোপের আধিপত্য বনাম দুই ‘প্রতিবাদী’ শক্তির। কোয়ার্টার ফাইনালের ৮টি দলের মধ্যে ৬টিই ইউরোপের, আর বাকি দুটি দল হলো বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা এবং আফ্রিকার পরাশক্তি মরক্কো।

শুরুর দিকে ইউরোপের বড় দলগুলো (যেমন স্পেন, ইংল্যান্ড বা পর্তুগাল) কিছুটা হোঁচট খেলেও আসল সময়ে তারা ভুল করেনি। ফলে কোয়ার্টার ফাইনালে ইউরোপীয় দলগুলোরই একচ্ছত্র আধিপত্য। তবে এই আধিপত্য ভাঙার জন্য প্রস্তুত লাতিন আমেরিকা ও আফ্রিকার দুই প্রতিনিধি।

ফ্রান্স: টুর্নামেন্টের এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি গোল করা দল ফ্রান্স। আক্রমণভাগের ধার এবং ব্যক্তিগত নৈপুণ্যের কারণে তারাই এই বিশ্বকাপের প্রধান দাবিদার।

স্পেন ও বেলজিয়াম: পর্তুগালকে বিদায় করে নিজেদের ফেভারিট তকমা ধরে রেখেছে স্পেন। তবে সেমিফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে তাদের প্রতিপক্ষ বেলজিয়াম, যারা স্বাগতিক যুক্তরাষ্ট্রকে বিদায় করে দারুণ আত্মবিশ্বাসী।

ইংল্যান্ড বনাম নরওয়ে: এই ম্যাচটি হতে যাচ্ছে টুর্নামেন্টের অন্যতম সেরা আকর্ষন। একদিকে ব্রাজিলের বিপক্ষে ঐতিহাসিক জয় এনে দেওয়া আর্লিং হালান্ডের নরওয়ে, অন্যদিকে জুড বেলিংহাম ও হ্যারি কেইনের ইংল্যান্ড। দুই ভিন্ন ঘরানার ফুটবল শৈলীর এই লড়াইয়ে জয়ীদের জন্য অপেক্ষা করছে এক ঐতিহাসিক সেমিফাইনাল।

সুইজারল্যান্ড: ইউরোপের তথাকথিত 'দ্বিতীয় স্তরের' দল হলেও মুরাত ইয়াকিনের অধীনে সুইসরা এখন পর্যন্ত অপরাজিত এবং টুর্নামেন্টের সবচেয়ে সুশৃঙ্খল দল। কোনো রকম কোলাহল ছাড়াই তারা নিজেদের শক্তিমত্তা দিয়ে প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করতে প্রস্তুত।

ইউরোপের আধিপত্য ভাঙার দুই সারথি: আর্জেন্টিনা ও মরক্কো

২০০৬ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত টানা চারটি বিশ্বকাপ জিতেছিল ইউরোপের দলগুলো। এমনকি এই শতাব্দীর ফাইনালিস্টদের দিকে তাকালে দেখা যাবে ৮-এর মধ্যে ৭ দলই ছিল ইউরোপীয়। কিন্তু ২০২২ সালে কাতার বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার হাত ধরে সেই চক্র ভেঙেছিল।

বিশ্বকাপের ফিকশ্চার

চলতি বিশ্বকাপেও ইউরোপের রাজত্বে হানা দেওয়ার মূল কাণ্ডারি বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। দলে আছেন এক অনবদ্য, আবেগপ্রবণ লিওনেল মেসি। এই দলটির বৈশিষ্ট্য হলো—সহজে মরেও তারা মরে না, যেকোনো পরিস্থিতি থেকে ঘুরে দাঁড়ানোর অবিশ্বাস্য ক্ষমতা তাদের আছে। তবে সেমিফাইনালে যেতে হলে তাদের পার হতে হবে সুশৃঙ্খল সুইস দেয়াল।

অন্যদিকে রয়েছে মরক্কো। ২০২২ কাতার বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে যে দুই দল ইউরোপের বাইরে থেকে লড়েছিল, তারা এবারও কোয়ার্টার ফাইনালে আছে। মরক্কো কেবল অঘটন ঘটানোর জন্য আসেনি, তারা যেকোনো পরাশক্তিকে হারানোর মতো সামর্থ্য নিয়েই খেলছে। যদিও ফরাসিবাহিনীর বিপক্ষে তারা আন্ডারডগ, তবে ফ্রান্সকে আজ জয় পেতে হলে প্রতিটি ইঞ্চির জন্য লড়াই করতে হবে।

যেহেতু ছকের একপাশে স্পেন-বেলজিয়াম এবং অন্যপাশে ইংল্যান্ড-নরওয়ে রয়েছে, তাই সেমিফাইনালে ইউরোপের দুটি দল থাকা ইতিমধ্যে নিশ্চিত। বাকি দুটি স্পটের জন্য ইউরোপের মুখোমুখি হবে আর্জেন্টিনা ও মরক্কো।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত