আগৈলঝাড়া থানায় উত্তেজনা: গুজবের জেরে সংঘর্ষ, আহত ১২

আপডেট : ০৯ জুলাই ২০২৬, ০৯:১২ পিএম

বরিশালের আগৈলঝাড়া থানায় আটক এক আসামিকে কেন্দ্র করে মৃত্যুর গুজব ছড়িয়ে পড়ার পর থানায় উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। এ সময় পুলিশ ও বিক্ষোভকারীদের মধ্যে সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ১২ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে ছয়জন পুলিশ সদস্য রয়েছেন।

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) বিকেলে এ ঘটনা ঘটে। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার বাকাল ইউনিয়নের ফুল্লশ্রী গ্রামের মো. সিদ্দিক ফকিরের ছেলে রিয়াজ ফকির (২৬) একটি চুরির মামলায় বুধবার সন্ধ্যায় গ্রেপ্তার হন। 

পুলিশের দাবি, থানার হাজতে থাকা অবস্থায় তিনি নিজেই মাথায় আঘাত করে অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে রাত ১১টার দিকে তাকে আগৈলঝাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে গভীর রাতে তাকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

বৃহস্পতিবার দুপুরের পর রিয়াজ ফকিরের মৃত্যুর গুজব এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে তার স্বজন ও এলাকাবাসীর মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়। পরে শতাধিক মানুষ মিছিল নিয়ে থানার সামনে জড়ো হন। 

একপর্যায়ে পুলিশ ও বিক্ষোভকারীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে থানার ডিউটি অফিসারসহ ছয়জন পুলিশ সদস্য এবং অন্তত ছয়জন বিক্ষোভকারী আহত হন।

আহত পুলিশ সদস্যরা হলেন, এএসআই আ. হালিম, কনস্টেবল লিমন মিয়া, ফরহাদ হোসেন, মনির হোসেন, আল-আমিন হোসেন ও মেহেদী হাসান। গুরুতর আহত এএসআই আ. হালিমকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

অপরদিকে আহত বিক্ষোভকারীদের মধ্যে রিয়াজের মা নাছরিন বেগম (৫০), বোন শারমিন আক্তার (২৮) ও স্থানীয় বাসিন্দা মমতাজ বেগম (৪৭) উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিয়েছেন। স্থানীয়দের দাবি, আরও কয়েকজন আহত ব্যক্তি গ্রেপ্তারের আশঙ্কায় অন্যত্র চিকিৎসা নিয়েছেন।

রিয়াজ ফকিরের মা নাছরিন বেগম ও বাবা সিদ্দিক ফকির অভিযোগ করেন, তাদের ছেলেকে বিনা কারণে আটক করে মারধর করা হয়েছে। তবে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত রিয়াজ ফকির বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। তার মৃত্যুর খবর সঠিক নয় বলে তারা জানান।

অন্যদিকে আগৈলঝাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মাদ মাসুদ খান বলেন, চুরির মামলায় রিয়াজ ফকিরকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। হাজতে থাকাকালে তিনি নিজেই মাথায় আঘাত করে অসুস্থ হয়ে পড়েন।

পরে তাকে হাসপাতালে পাঠানো হয়। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে তার স্বজন ও সমর্থকদের একটি দল থানায় এসে হামলা চালিয়ে পুলিশ সদস্যদের আহত করে। 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত