২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে রাউন্ড অফ সিক্সটিনের ম্যাচে গোল মিস করার অপরাধে অনলাইনের মাধ্যমে অনবরত প্রাণনাশের হুমকি পাচ্ছেন কলম্বিয়ার ২৬ বছর বয়সী ফরোয়ার্ড জামিন্টন কাম্পাজ। পরিস্থিতির ভয়াবহতা দেখে তিনি সতীর্থদের সাথে দেশে না ফিরে বর্তমানে সম্পূর্ণ আত্মগোপনে চলে গেছেন।
কী ঘটেছিল ম্যাচে?
কানাডার ভ্যাঙ্কুভারে অনুষ্ঠিত রোমাঞ্চকর নকআউট ম্যাচে সুইজারল্যান্ডের মুখোমুখি হয়েছিল কলম্বিয়া। নির্ধারিত ৯০ মিনিট গোলশূন্য থাকার পর অতিরিক্ত সময়ের ১১৫তম মিনিটে জামিন্টন কাম্পাজ একটি অত্যন্ত সহজ সুযোগ হাতছাড়া করেন; তার নেওয়া শটটি ক্রসবারের ওপর দিয়ে চলে যায়।
অতিরিক্ত সময় শেষেও ম্যাচটি ০-০ ব্যবধানে টাই থাকায় খেলা গড়ায় পেনাল্টি শুটআউটে। সেখানে সুইজারল্যান্ড ৪-৩ ব্যবধানে জয়লাভ করে কলম্বিয়াকে বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে দেয়। যদিও কাম্পাজ শুটআউটে নিজের পেনাল্টিটি সফলভাবে জালে জড়িয়েছিলেন, কিন্তু অতিরিক্ত সময়ে তার ওই সুযোগ মিস করার ঘটনাটিকেই সমর্থকরা দলের বিদায়ের মূল কারণ হিসেবে ধরে নেয়।
আর্জেন্টাইন সংবাদ সংস্থা ইনফোবে-র রিপোর্ট অনুযায়ী, ম্যাচের পর জেমস রদ্রিগেজ, ডেভিনসন সানচেজ ও হুয়ান ফার্নান্দো কুইন্তেরোদের মতো সতীর্থরা বোগোটাগামী বিমানে উঠলেও কাম্পাজ নিরাপত্তার স্বার্থে সেই ফ্লাইটে ওঠেননি। তিনি বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছেন নাকি তার ক্লাব দল রোসারিও সেন্ট্রালের দেশ আর্জেন্টিনায় পাড়ি জমিয়েছেন, তা এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
ইনস্টাগ্রামে আবেগঘন বার্তা
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ট্রোলের বন্যা ও হুমকির মুখে ইনস্টাগ্রামে নিজের একটি আবেগঘন বার্তা প্রকাশ করেছেন কাম্পাজ:
"আমার কলম্বিয়া, দয়া করে আমরা যেন পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ কখনো না হারাই। আমাদের ভিন্ন ভিন্ন মতামত থাকতে পারে, আমরা হতাশা ও দুঃখ অনুভব করতে পারি, কিন্তু কোনো আবেগই ঘৃণা বা ভয়ের মধ্যে জীবনযাপনকে সমর্থন করে না। ছোটবেলা থেকেই দেশের জার্সি গায়ে বিশ্বকাপে খেলার স্বপ্ন ছিল আমার। মাঠে আমি আমার সর্বস্ব দিয়েছি এবং দেশের জন্য তা হাজারবার করতেও প্রস্তুত।"
১৯৯৪ সালের সেই কালো অধ্যায়ের স্মৃতি
এই ঘটনাটি কলম্বিয়ান ফুটবলের ইতিহাসের সবচেয়ে অন্ধকার ও মর্মান্তিক অধ্যায়কে মনে করিয়ে দিচ্ছে। ১৯৯৪ সালের বিশ্বকাপে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে একটি আত্মঘাতী গোল করার অপরাধে দেশে ফেরার মাত্র কয়েকদিন পর কলম্বিয়ার তৎকালীন ডিফেন্ডার আন্দ্রেস এসকোবার মেডেলিন শহরে আততায়ীর গুলিতে নিহত হয়েছিলেন। ৩২ বছর পর কাম্পাজের এই ঘটনাটি কলম্বিয়ান ফুটবলে আবারও সেই একই আতঙ্কের ছায়া ফেলেছে।
কলম্বিয়া ফুটবল ফেডারেশন এই জঘন্য হুমকির তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জানিয়েছে,
"ফুটবল অবশ্যই ঐক্য, শ্রদ্ধা এবং আশার ক্ষেত্র হতে হবে—কখনোই ঘৃণা, ভীতি প্রদর্শন বা সহিংসতার মঞ্চ নয়। কোনো অ্যাথলেট বা তাদের পরিবারকে দেশের প্রতিনিধিত্ব করার জন্য এমন হুমকির মুখে পড়তে দেওয়া যায় না।"
ফেডারেশন ইতিমধ্যেই দেশের অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়কে এই ঘটনার দ্রুত ও সুষ্ঠু তদন্ত করে অপরাধীদের খুঁজে বের করার আহ্বান জানিয়েছে।