২ কোম্পানির লেনদেন স্থগিত

আপডেট : ১৪ জুলাই ২০২৬, ০৭:৪৯ এএম

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ড্যাফোডিল কম্পিউটার্স ও উসমানিয়া গ্লাসের শেয়ার লেনদেন সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে ঢাকা ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই-সিএসই)। শেয়ারদর ও লেনদেনে অস্বাভাবিক ঊর্ধ্বগতির কারণে উভয় স্টক এক্সচেঞ্জ এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। গতকাল সোমবার দিনের অবশিষ্ট সময়ের জন্য কোম্পানি দুটির শেয়ারের লেনদেন বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সংশ্লিষ্ট স্টক এক্সচেঞ্জ সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

জানা গেছে, শেয়ারবাজারে লেনদেন পর্যবেক্ষণ ও তালিকাভুক্ত কোম্পানি তদারকিতে স্টক এক্সচেঞ্জকে পূর্ণ স্বাধীনতা দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছিল পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। কমিশনের দিক নির্দেশনা থাকায় স্টক এক্সচেঞ্জ স্বাধীনভাবে এমন পদক্ষেপ নিয়েছে বলে বাজারসংশ্লিষ্টরা মনে করেন। গত জুন মাসে বিএসইসির নতুন কমিশন গঠনের পর প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ পরিচালনা পর্ষদের সঙ্গে সৌজন্য সভায় এ ঘোষণা দেন নবনিযুক্ত চেয়ারম্যান মাসুদ খান।

দুই কোম্পানির শেয়ার লেনদেন স্থগিতের বিষয়ে স্টক এক্সচেঞ্জ সূত্রে জানা গেছে, সাম্প্রতিক সময়ে কোনো মূল্য সংবেদনশীল তথ্য (পিএসআই) বা উল্লেখযোগ্য ব্যবসায়িক অগ্রগতির ঘোষণা ছাড়াই ড্যাফোডিল কম্পিউটার্স ও উসমানিয়া গ্লাসের শেয়ারদর এবং লেনদেন অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায়। এ পরিস্থিতিতে বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ রক্ষায় নিয়ন্ত্রক ব্যবস্থা হিসেবে সাময়িকভাবে লেনদেন স্থগিত করা হয়েছে।

ডিএসইর তথ্য অনুযায়ী, গত এক মাসে ড্যাফোডিল কম্পিউটার্সের শেয়ারের দাম উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। ১৪ জুন শেয়ারটির দর ছিল ১৪৬ টাকা ৩০ পয়সা, যা ১৩ জুলাই বেড়ে দাঁড়ায় ১৬৩ টাকা ৬০ পয়সায়।

অন্যদিকে উসমানিয়া গ্লাসের শেয়ারদর আরও দ্রুত বেড়েছে। ২২ জুন কোম্পানিটির শেয়ারদর ছিল ৩৭ টাকা ৩০ পয়সা, যা ১৩ জুলাই বেড়ে ৭৪ টাকা ২০ পয়সায় পৌঁছে। এ ধরনের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির পরিপ্রেক্ষিতে উভয় স্টক এক্সচেঞ্জ কোম্পানি দুটির শেয়ার লেনদেন সাময়িকভাবে স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নেয়।

এর আগে ২১ জুন ড্যাফোডিল কম্পিউটার্স এবং ২ জুলাই উসমানিয়া গ্লাসের কাছে শেয়ারদর ও লেনদেন বৃদ্ধির কারণ জানতে চেয়ে চিঠি পাঠায় ডিএসই। জবাবে উভয় কোম্পানি জানায়, তাদের কাছে এমন কোনো অপ্রকাশিত মূল্য সংবেদনশীল তথ্য নেই, যা শেয়ারদর বা লেনদেনে প্রভাব ফেলতে পারে। এ ছাড়া ব্যবসায়িক কার্যক্রম বা আর্থিক অবস্থায়ও উল্লেখযোগ্য কোনো পরিবর্তন হয়নি বলে তারা জানিয়েছে।

স্টক এক্সচেঞ্জ সূত্র জানিয়েছে, কোম্পানি দুটির শেয়ারদরের এই ঊর্ধ্বগতির সঙ্গে তাদের প্রকৃত ব্যবসায়িক অবস্থার সুস্পষ্ট কোনো সম্পর্ক পাওয়া যায়নি। তাই দর বৃদ্ধির পেছনে গোপন তথ্যের ব্যবহার, সমন্বিত লেনদেন বা সম্ভাব্য বাজার কারসাজি রয়েছে কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। এ লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট কোম্পানিগুলোর কাছে প্রয়োজনীয় নথি ও অতিরিক্ত তথ্যও চাওয়া হয়েছে।

এদিকে গতকাল ৯ জুলাই রাজধানীর পুরানা পল্টনে ক্যাপিটাল মার্কেট জার্নালিস্টস ফোরামের (সিএমজেএফ) আয়োজিত ‘সিএমজেএফ টক’ অনুষ্ঠানে কমিশন পুঁজিবাজার বিষয়ে কিছু উদ্যোগ নিয়েছে উল্লেখ করে বিএসইসির চেয়ারম্যান মাসুদ খান বলেন, পুঁজিবাজারের ব্যবস্থাপনায় এরই মধ্যে পরিবর্তন এসেছে। বাজার তদারকিতে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জকে (ডিএসই) ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। আগে কোনো শেয়ারের অস্বাভাবিক দাম বা লেনদেনের ক্ষেত্রে ব্যবস্থা নিতে ডিএসইকে কমিশনের অনুমোদনের জন্য অপেক্ষা করতে হতো। এখন তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ দিতে ডিএসইকে প্রয়োজনীয় ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে সার্কিট ব্রেকার নির্ধারণের ক্ষমতাও স্টক এক্সচেঞ্জের হাতে দেওয়া হয়েছে। তাদের ক্ষমতা আরও বাড়ছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত