রপ্তানিমুখী শিল্পপ্রতিষ্ঠানের স্বল্পমেয়াদি টাকার তারল্য সংকট মোকাবিলায় নতুন সুবিধা চালু করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এখন থেকে সরকারি ও বেসরকারি রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল, অর্থনৈতিক অঞ্চল ও হাই-টেক পার্কে পরিচালিত রপ্তানিকারকরা নিজেদের বৈদেশিক মুদ্রা হিসাবে থাকা অবমুক্ত অর্থের বিপরীতে ‘টাকা সোয়াপ’ সুবিধা নিতে পারবেন।
‘টাকা সোয়াপ’ সুবিধা ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের ‘ফরেন এক্সচেঞ্জ পলিসি ডিপার্টমেন্ট’র পরিচালক মো. হারুন-উর রশিদ দেশ রূপান্তরকে বলেন, রপ্তানিকারকদের জন্য টাকা সোয়াপ সুবিধা চালু হওয়ায় কার্যকর মূলধনের সংকট কমবে এবং রপ্তানি আয় দেশে আসার আগেই প্রয়োজনীয় অর্থের জোগান পাওয়া সহজ হবে। ফলে উৎপাদন, কাঁচামাল সংগ্রহ ও রপ্তানি আদেশ বাস্তবায়ন আরও গতিশীল হবে। একই সঙ্গে এ উদ্যোগ রপ্তানি খাতের প্রতিযোগিতা বাড়ানোর পাশাপাশি বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবস্থাপনাতেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
গতকাল সোমবার বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রানীতি বিভাগ এ-সংক্রান্ত সার্কুলারটি জারি করেছে।
সার্কুলারে বলা হয়েছে, এর আগে ২০২৫ সালের ৩ নভেম্বর জারি করা এক নির্দেশনার মাধ্যমে রপ্তানিকারকদের ৩০ দিনের পুল হিসাব ও রপ্তানি ধরে রাখার কোটার (ইআরকিউ) হিসাবের স্থিতির বিপরীতে বৈদেশিক মুদ্রা-টাকা সোয়াপ সুবিধা গ্রহণের সুযোগ ছিল। নতুন নির্দেশনার মাধ্যমে সেই সুবিধার পরিধি আরও সম্প্রসারণ করা হয়েছে।
এর ফলে এখন থেকে রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল (ইপিজেড), বেসরকারি রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল (পিইপিজেড), অর্থনৈতিক অঞ্চল (ইজেড) এবং হাই-টেক পার্কে পরিচালিত রপ্তানিকারকরা নিজেদের বৈদেশিক মুদ্রা হিসাবে থাকা অবমুক্ত অর্থের বিপরীতে টাকা সোয়াপ সুবিধা নিতে পারবেন।
বাংলাদেশ ব্যাংকের মতে, এ উদ্যোগের ফলে বিশেষায়িত অঞ্চলের রপ্তানিমুখী শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো সহজে স্বল্পমেয়াদি টাকার তারল্য পাবে। এতে উৎপাদন ও রপ্তানি কার্যক্রম পরিচালনায় প্রয়োজনীয় কার্যকর মূলধনের জোগান নিশ্চিত করা সহজ হবে।
সার্কুলারে আরও বলা হয়েছে, আগে জারি করা সংশ্লিষ্ট নির্দেশনার অন্যান্য সব শর্ত ও বিধান অপরিবর্তিত থাকবে। একই সঙ্গে অনুমোদিত ডিলার ব্যাংকগুলোকে এ নির্দেশনার বিষয়টি সংশ্লিষ্ট সব গ্রাহককে অবহিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।