ফ্রান্সের দাপট গুঁড়িয়ে ১৬ বছর পর ফাইনালে স্পেন

আপডেট : ১৫ জুলাই ২০২৬, ০৩:২২ এএম

অবিশ্বাস্য কান্ড ঘটে গেলো বিশ্বকাপের প্রথম সেমিফাইনালে। অনেকেই ধারনা করেছিলেন ফ্রান্স সহজেই হারিয়ে দেবে স্পেনকে। কিন্তু হলো উল্টোটা। স্পেন সহজেই হারালো টপ ফেভারিট ফ্রান্সকে। ওয়ারসাবাল আর পেদ্রো পোরোর দুগোলে গতবারের রানার্সআপদের হারিয়ে ইতিহাসে দ্বিতীয়বার ফাইনালে উঠলো ২০১০ এর চ্যাম্পিয়নরা।

স্পেনকে যারা 'আন্ডারডগ' ভেবে ভুল করেছিলেন, তাদের জন্য এটি ছিল এক নির্মম ফুটবলীয় শিক্ষা। ফরাসিদের তারকাসমৃদ্ধ আক্রমণভাগকে পুরোপুরি বোতলবন্দী করে, মাঠের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের পায়ে রাখে।

ম্যাচের শুরু থেকেই স্পেনের নিখুঁত পজিশনাল ফুটবল ফ্রান্সকে চাপে ফেলে দেয়। তবে ম্যাচের ২১ মিনিটে ডেডলক ভাঙতে স্পেনকে বড় উপহার দেন ফরাসি লেফট-ব্যাক লুকাস দিন। বাম প্রান্ত থেকে আসা একটি ক্রস ক্লিয়ার করতে গিয়ে তিনি ডি-বক্সের ভেতর মারাত্মক ভুল করেন। বলটি লাফিয়ে ওঠার পর লামিনে ইয়ামাল তা নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার চেষ্টা করলে প্যানিকড হয়ে তাকে ফাউল করে বসেন দিন। যদিও ইয়ামালের বল নিয়ন্ত্রণের সময় হ্যান্ডবলের মৃদু বিতর্ক ছিল, তবে রেফারি ইভান বার্টন পেনাল্টির সিদ্ধান্তেই অটল থাকেন। স্পট কিক থেকে ফরাসি গোলরক্ষক মাইক মেনিয়াঁকে পরাস্ত করে স্পেনকে ১-০ গোলে এগিয়ে দেন অধিনায়ক মিকেল ওয়ারসাবাল।

ওয়ারসাবাল পেনাল্টি থেকে করেন তার ৫ম গোল

এই টুর্নামেন্টে এটি তার পঞ্চম গোল। এক বিশ্বকাপে ৫ গোল করা তৃতীয় স্প্যানিশ তিনি।

গোল হজমের পর ফ্রান্স আরও বড় ধাক্কা খায় যখন তাদের রক্ষণভাগের মূল ভরসা উইলিয়াম সালিবা চোট পেয়ে মাঠ ছাড়েন এবং তার জায়গায় নামেন মাক্সেন্স লাক্রোয়া। প্রথমার্ধেই ব্যবধান দ্বিগুণ হতে পারত, কিন্তু দানি ওলমো ও ইয়ামালের পাস থেকে ফ্যাবিয়ান রুইসের নিশ্চিত গোল হতে যাওয়া শটটি দুর্দান্ত স্লাইডে ব্লক করেন দায়ো উপামেকানো। ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে থেকেই বিরতিতে যায় স্পেন।

দ্বিতীয়ার্ধে ম্যাচে ফিরতে মরিয়া ফ্রান্স মিডফিল্ডার আদ্রিয়েন রাবিওকে তুলে মানু কোনে এবং পরবর্তীতে উইঙ্গার ব্র্যাডলি বারকোলার জায়গায় দেসিরে দুয়েকে মাঠে নামায়। কিন্তু ফরাসিদের সমস্ত পরিকল্পনা নস্যাৎ করে দিয়ে ম্যাচের ৫৮ মিনিটে ম্যাচের ভাগ্য গড়ে দেয় স্পেন। দানি ওলমোর সাথে চমৎকার ওয়ান-টু-ওয়ান পাসিংয়ে ফ্রান্সের রক্ষণভাগের বাম দিকের ফাটল ধরে ভেতরে ঢুকে পড়েন পেড্রো পোরো। বক্সের ভেতর থেকে নেওয়া তার নিখুঁত ও ঠান্ডা মাথার শটটি জালের ঠিকানা খুঁজে নিলে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় স্পেন।

ম্যাচের ৬৪ মিনিটে কিলিয়ান এমবাপে বাম প্রান্ত থেকে একটি দুর্দান্ত আক্রমণ করলেও স্প্যানিশ গোলরক্ষক উনাই সিমোন তা দারুণভাবে রুখে দেন। এরপর ম্যাচের বাকি সময়ে ফ্রান্স গোলের জন্য মরিয়া হলেও স্পেনের জমাট রক্ষণের সামনে তারা কেবল অসহায় দর্শকের ভূমিকাই পালন করেছে। উল্টো ৬৪ মিনিটে অফসাইডের কারণে ইয়ামালের একটি গোল বাতিল না হলে ব্যবধান আরও বাড়তে পারত।

পুরোপুরি বিধ্বস্ত হয়ে মাঠ ছাড়া ফ্রান্স ফুটবল দল যেন বুঝেই উঠতে পারছিল না ডালাসের মাঠে তাদের সাথে কী ঘটে গেল। অন্যদিকে, মাঠে পূর্ণ আধিপত্য বজায় রেখে আগামী রবিবার নিউ জার্সিতে বিশ্বসেরা হওয়ার চূড়ান্ত লড়াইয়ে নামবে আত্মবিশ্বাসী স্পেন।

 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত