নিরাপত্তাহীনতায় ইন্টারনেট সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান

আপডেট : ১৫ জুলাই ২০২৬, ০৬:৪২ এএম

চট্টগ্রামে ইন্টারনেট সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান ডিজিটাল ডট নেটে (ডিডিএন) সশস্ত্র হামলার ঘটনার পর চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে এ খাতের সেবাদানকারী অন্য প্রতিষ্ঠানগুলো। প্রকাশ্যে দিবালোকে সংঘটিত এ ঘটনার ৩০ ঘণ্টা পরও জড়িতদের কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। তবে, পুলিশ জানিয়েছে, ভিডিও ফুটেজ বিশ্লেষণ ও প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্তের চেষ্টা চলছে।

সন্ত্রাসীদের ২ কোটি টাকা চাঁদার দাবি পূরণ না করায় চট্টগ্রাম নগরীর চন্দনপুরা এলাকায় ইন্টারনেট সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান ডিজিটাল ডট নেটে (ডিডিএন) গত সোমবার দুপুরে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট চালায় সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা। এ ঘটনায় প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে নগরীর চকবাজার থানায় মামলা হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত হামলাকারীদের কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। ঘটনার দুই দিন আগে পুলিশ ও র‌্যাবের তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী ডেভিড ইমন পরিচয়ে ফোনে ডিডিএনের মালিকের কাছে দুই কোটি টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। চাঁদা না দিলে ব্যবসা গুটিয়ে নেওয়ারও নির্দেশ দেওয়া হয়। তার পরিচয় পুলিশ কমিশনারের কাছ থেকে জেনে নিতে বলে ওই সন্ত্রাসী।

ডিডিএনের একজন কর্মকর্তা দেশ রূপান্তরকে বলেন, সোমবার রাতেই অজ্ঞাতনামা ৩০-৪০ জনকে আসামি করে থানায় মামলা হয়। প্রতিষ্ঠানের হিসাব কর্মকর্তা মিনহাজুল ইসলাম এ মামলা করেন। ঘটনাস্থলের ভিডিও ফুটেজ এবং লুট করে নিয়ে যাওয়া মোবাইল সেটের আইএমইআই নম্বর পুলিশকে সরবরাহ করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত ঘটনায় জড়িতদের কাউকে পুলিশ গ্রেপ্তার করতে পারেনি। এ অবস্থায় প্রতিষ্ঠানের লোকজন চরম আতঙ্কের মধ্যে রয়েছে।

জানতে চাইলে চকবাজার থানার ওসি নুর হোসেন মামুন গতকাল মঙ্গলবার দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘ঘটনার পর থেকে বিভিন্ন জায়গায় অভিযান চালিয়ে অপরাধীদের শনাক্ত করার সর্বোচ্চ চেষ্টা চলছে। ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ, নিজস্ব সোর্স ও প্রযুক্তির সহায়তায় সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে আমরা কাজ করে যাচ্ছি। তদন্তের স্বার্থে সবকিছু বলা সম্ভব হয়।’

ডিডিএনে হামলার পর থেকে আতঙ্ক বিরাজ করছে নগরীর ইন্টারনেট সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোতে। ইতিপূর্বে আরও কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের কাছেও এ ধরনের চাঁদা চাওয়া হয়েছে বলে বিভিন্ন সূত্র থেকে জানা গেছে। মঙ্গলবার দুপুরে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে ডিডিএনে হামলায় জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের পাশাপাশি সব আইএসপি প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা নিশ্চিতে কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছে ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ, চট্টগ্রাম বিভাগ। অ্যাসোসিয়েশনের আহ্বায়ক রাজিব শাহরিয়ার রুবেল সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, ইন্টারনেট সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা না গেলে দেশের ইন্টারনেট সেবা সচল রাখা বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে।

প্রসঙ্গত, ডিডিএন মালিকের ২ কোটি টাকা চাঁদা দাবিকারী সন্ত্রাসী মোবারক হোসেন ইমন ওরফে ডেভিড ইমন দুবাইয়ে অবস্থানরত শীর্ষ সন্ত্রাসী বড় সাজ্জাদের সেকেন্ড ইন কমান্ড বলে পরিচিত। ফটিকছড়ি উপজেলার কাঞ্চননগর এলাকায় তার বাড়ি। তার বিরুদ্ধে ২০২৪ সালের আগস্টের রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর সংঘটিত একাধিক হত্যাকা-ে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। এ ছাড়া সন্ত্রাসী সাজ্জাদের হয়ে বিভিন্ন শিল্পপতি ও ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে চাঁদাবাজির অভিযোগও রয়েছে তার বিরূদ্ধে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত