স্টার্টআপ প্ল্যাটফর্ম উদ্বোধন

নতুন প্রজন্মই আগামী দিনে দেশকে এগিয়ে নেবে : প্রধানমন্ত্রী

আপডেট : ১৫ জুলাই ২০২৬, ০৬:৪৩ এএম

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, দেশের নতুন প্রজন্মই আগামী দিনে বাংলাদেশকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাবে। তরুণ উদ্যোক্তা ও শিক্ষার্থীদের মেধা, উদ্ভাবনী চিন্তা এবং উদ্যোগ দেখে তিনি এ বিষয়ে আরও আশাবাদী হয়েছেন। গতকাল মঙ্গলবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবনের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত ‘তারুণ্য, স্টার্টআপ ও সম্ভাবনার বাংলাদেশ’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দেশ পরিচালনার দায়িত্বে থেকে আমরা প্রতিনিয়ত দেশের বিভিন্ন খাত নিয়ে চিন্তা করি। আজ নতুন উদ্যোক্তাদের কাজ এবং এর আগে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে শিশু-কিশোরদের উদ্ভাবনী উদ্যোগ দেখে আমার বিশ্বাস আরও দৃঢ় হয়েছে যে, আমরা যেখানে থামব, সেখান থেকেই নতুন প্রজন্ম দেশকে আরও এগিয়ে নিয়ে যেতে পারবে।’ তরুণদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আপনাদের প্রতি আমাদের দৃঢ় আশা ও বিশ্বাস রয়েছে। আমরা যতটুকু পারি, সর্বোচ্চ চেষ্টা দিয়ে আপনাদের পাশে থাকব।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘উদ্যোক্তা হওয়ার পথ সহজ নয়। তবে দৃঢ় ইচ্ছাশক্তি, ধৈর্য ও অধ্যবসায় থাকলে সব বাধা অতিক্রম করা সম্ভব।’ তিনি বলেন, ‘ইটস নট ইজি, ইটস ভেরি ডিফিকাল্ট। কিন্তু আপনার যদি ইচ্ছা থাকে, তাহলে আপনি অবশ্যই পারবেন।’ নিজের রাজনৈতিক জীবনের নানা প্রতিকূলতার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘ব্যবসা শুরু করার পরই তিনি রাজনীতিতে যুক্ত হন। দীর্ঘ সময় মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন, অপমান ও নানা কষ্ট সহ্য করতে হয়েছে। ধৈর্য ও অধ্যবসায়ের মাধ্যমেই তিনি আজকের অবস্থানে পৌঁছেছেন।’

উদ্যোক্তাদের সর্বোচ্চ সহযোগিতার আশ্বাস দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আপনাদের সাহায্য করতে, পথ দেখাতে এবং পাশে দাঁড়াতে আমরা আছি। কতটুকু পারব জানি না, তবে সর্বোচ্চ চেষ্টা করব।’ তিনি বলেন, ‘আপনাদের প্রয়োজন শুধু নিজেদের জন্য নয়; দেশের কোটি কোটি মানুষের জন্য। আপনাদের সাফল্যের সঙ্গে দেশের ভবিষ্যৎ জড়িয়ে আছে।’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম এবং প্রধানমন্ত্রীর ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি-বিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ। অনুষ্ঠানে সূচনা বক্তব্য দেন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের ভারপ্রাপ্ত সচিব মো. মামুনুর রশীদ ভূঞা এবং স্বাগত বক্তব্য দেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. মোর্শেদ হাসান খান। এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. আবদুস সালাম, প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলমোজাদ্দেদী আলফেছানী, বিভিন্ন অনুষদের ডিন, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, উদ্যোক্তা, বিনিয়োগকারী ও নীতিনির্ধারকরা উপস্থিত ছিলেন।

স্টার্টআপ প্ল্যাটফর্ম উদ্বোধন ও অনুদান : অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী জাতীয় স্টার্টআপ ও তরুণ উদ্যোক্তা প্ল্যাটফর্মের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। পরে তিনি বিভিন্ন স্টার্টআপের স্টল পরিদর্শন করেন এবং উদ্যোক্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। সে সময় কয়েকজন উদ্যোক্তার হাতে অনুদানের চেক তুলে দেওয়া হয়। ‘চর্চা’র নাফিস রায়হান, ‘রেনোভা বায়োটেক’-এর সাজিদুল ইসলাম এবং ‘রাফিয়া ফ্যাশন হাউজ’- এর লুৎফুন্নেসা মেঘনা ১০ লাখ টাকা করে অনুদান পান। এ ছাড়া ‘ইন্টারভিউ বস এআই’-এর শারমিন আখতার, ‘বার্জ শিল্ড’-এর নিশাদ জাহান এবং ‘নিউজ ফেভার এল’-এর ধীরেন রায় ৫ লাখ টাকা করে অনুদান পান। ‘কারেক্ট’ স্টার্টআপকে দেওয়া হয় ১ লাখ টাকার অনুদান। এর আগে অনুষ্ঠানের শুরুতে বাংলাদেশের স্টার্টআপ ইকোসিস্টেম ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা নিয়ে একটি অডিও-ভিজ্যুয়াল উপস্থাপনা ছিল । প্রথম পর্বে চারজন উদ্যোক্তা তাদের ব্যবসা শুরুর অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। দ্বিতীয় পর্বে দেশের আটটি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় ২৩০ জন শিক্ষার্থীর সঙ্গে মুক্ত প্রশ্নোত্তর পর্বে অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী। তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম এবং অধ্যাপক মোর্শেদ হাসান খান বক্তব্য রাখেন। শেষে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ প্রধানমন্ত্রীর হাতে সম্মাননা ক্রেস্ট তুলে দেয়।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত