টানা বৃষ্টিতে সৃষ্ট বন্যা পরিস্থিতির কারণে কদিন ধরেই বাড়ছিল সবজির দাম। সপ্তাহের ব্যবধানে এই দাম অসহনীয় হয়ে উঠেছে। প্রতি কেজি সবজিতে ২০ থেকে ৪০ টাকা পর্যন্ত দাম বেড়েছে। একইসঙ্গে চড়েছে ফার্মের মুরগির ডিমের দাম। প্রতি ডজন ডিম কিনতে ১০ থেকে ১৫ টাকা বেশি খরচ করতে হচ্ছে ভোক্তাকে। মাছ-মাংসের চড়া দামের মধ্যে সবজি কিনতেও এখন ভোক্তার খরচ প্রায় দ্বিগুণ হয়ে গেছে। এই পরিস্থিতিতে সাধারণ ভোক্তার বাজার খরচের বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে। ফলে চাহিদার তুলনায় কম পণ্য কিনছেন নিম্ন ও মধ্যবিত্তরা।
মেরুল বাড্ডা কাঁচাবাজারে সবজি কিনতে এসে আনিসুর রহমান নামের এক বেসরকারি চাকরিজীবী বলেন, ‘বৃষ্টির অজুহাতে ব্যবসায়ীরা সবজির দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন। সীমিত আয়ে বাড়তি খরচে হিমশিম খেতে হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘আগে যেখানে তিন চার পদের সবজি কিনতাম একসঙ্গে, এখন সেখানে দুই পদের বেশি কিনতে পারছি না। তাও আবার পরিমাণ কমিয়ে কমিয়ে কিনতে হচ্ছে। বাজারের এই পরিস্থিতিতে সীমিত আয়ে খাওয়া কমানোর বিকল্প নেই।’
গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর বাড্ডা, রামপুরা, সেগুনবাগিচা, কারওয়ান বাজারসহ কয়েকটি খুচরা ও পাইকারি বাজার ঘুরে জানা গেছে প্রায় সব ধরনের সবজির দামই বেড়েছে। খুচরা বাজারে প্রতি কেজি বেগুনের দাম ছিল ৭০ থেকে ৮০ টাকার মধ্যে। যা এখন মান ও প্রকারভেদে বিক্রি হচ্ছে কেজিপ্রতি ১০০ থেকে ১২০ টাকায়। ঝিঙ্গা, চিচিংগা ও ধুন্দলের দাম ছিল ৫০ থেকে ৬০ টাকা কেজি। এই তিনটি সবজি কিনতে হচ্ছে এখন অন্তত ৭০ থেকে ৮০ টাকায়। যে করলার দাম ছিল ৬০ থেকে ৭০ টাকা, তা এখন ৯০ থেকে ১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ৭০ থেকে ৮০ টাকায় বিক্রি হওয়া বরবটির দামও এখন বেড়ে ১০০ টাকায় উঠেছে। ৩০ থেকে ৩৫ টাকায় বিক্রি হওয়া পুঁইশাকের দাম এখন ৫০ টাকায় উঠেছে।
কম দামের সবজির মধ্যে এখন রয়েছে পেঁপে, ঢেঁড়স ও পটোল। যেগুলো কেনা যাচ্ছে ৫০ থেকে ৬০ টাকায়। কাঁচামরিচের দামও বাড়তি। প্রতি কেজি কাঁচামরিচ বিক্রি হচ্ছে ১৪০ থেকে ১৬০ টাকায়। সুপারশপে এই দাম অবশ্য ২০০ টাকায় উঠেছে।
কৃষি বিভাগের তথ্য থেকে জানা গেছে, সাম্প্রতিক সময়ের অতিবৃষ্টিতে দেশের প্রায় ১ লাখ ১৪ হাজার হেক্টর জমির ফসল ক্ষতির মুখে পড়েছে। যেখানে অধিকাংশ জমিই নানা ধরনের সবজি ও আমন ধানের বীজতলা। এ পরিস্থিতিতে ব্যবসায়ীরা দাবি করেছেন সবজির সরবরাহ কমে গেছে। যে কারণে দাম বেড়েছে।
রামপুরা বাজারের সবজি বিক্রেতা শফিকুল ইসলাম জানান, পাইকারি বাজারে সবজির দাম চড়া। কারণ হিসেবে তারা বলছেন, সারা দেশ থেকে সবজি কম আসছে। এ কারণে আমাদেরও বেশি দাম দিয়ে সবজি কিনতে হচ্ছে। বিক্রিও করতে হচ্ছে বেশি দামে।
তিনি বলেন, ‘এই অবস্থায় মানুষ সবজি কেনার পরিমাণ কমিয়ে দিয়েছেন। আগে একজন পরিচিত ক্রেতা যিনি তিন চার পদের সবজি কিনতেন তিনিই এখন বড়জোর দুই পদ কিনছেন তাও আবার পরিমাণে অর্ধেক। এতে করে আমাদেরও বিক্রি কমে গেছে।
কারওয়ান বাজার সবজির আড়তদার সমিতির সভাপতি ইমরান মাস্টার দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘এক সপ্তাহের বেশি সময় বৃষ্টিতে অনেক সবজির আবাদ নষ্ট হয়েছে। ফলে সরবরাহ কিছুটা কমেছে। সরবরাহ কম থাকায় উৎস পর্যায়ে দামও বেড়েছে।’
এদিকে শুধু সবজিই নয়, বেশ কিছুদিন ধরে স্থিতিশীল থাকা ফার্মের মুরগির ডিমের দামও সপ্তাহখানেক ধরেই বেড়েছে। ১২৫ থেকে ১৩০ টাকা ডজন দরে বিক্রি হওয়া ফার্মের ডিম এখন বিক্রি হচ্ছে ১৩৫ থেকে ১৪০ টাকায়। ক্রেতা-বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, যখন বাজারে সবজির দাম চড়া থাকে তখন ভোক্তারা ডিমের ওপর নির্ভর করেন। এ কারণে চাহিদা বেড়ে যায়। তবে ডিমের দাম বেশি বাড়লেও ব্রয়লার মুরগির দাম সামান্য কমেছে। গত সপ্তাহে বাজারভেদে প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হয়েছে ১৮০ থেকে ২০০ টাকায়। যা এখন বিক্রি হচ্ছে ১৮০ থেকে ১৯০ টাকা দরে। তবে মাছ ও গরুর মাংসের দাম আগের মতোই চড়া। এর ওপরে সবজি ও ডিমের দাম বৃদ্ধি সাধারণ ভোক্তার ওপর নতুন চাপ তৈরি করেছে।