ফুটবল বিশ্বের নতুন পরাশক্তি এখন কে? তার উত্তরটা আরও একবার জোরালোভাবে দিয়ে দিল স্পেন। মেটলাইফ স্টেডিয়ামের ফাইনালে আর্জেন্টিনাকে ১-০ গোলে হারিয়ে দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বসেরার সোনালি ট্রফি নিজেদের করে নিল লুইস দে লা ফুয়েন্তের শিষ্যরা।
৬৫ বছর বয়সে টুর্নামেন্ট জিতে ফুটবলের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি বয়সী কোচ হিসেবে বিশ্বকাপ জয়ের অনন্য রেকর্ড গড়েছেন ফুয়েন্তে। অতিরিক্ত সময়ের রোমাঞ্চকর লড়াইয়ে বদলি খেলোয়াড় ফেরান তোরেসের করা সেই জয়সূচক গোল কেবল একটি ট্রফিই এনে দেয়নি, বরং ইউরোপ ও দক্ষিণ আমেরিকার ফুটবল ইতিহাসে টানা ৩৮ ম্যাচ অপরাজিত থাকার অবিশ্বাস্য এক রেকর্ডও স্পেনের নামের পাশে স্থায়ী করে দিয়েছে। ম্যাচ শেষে তাই স্প্যানিশ এই কোচ সাফ জানিয়ে দেন, দলের এই চ্যাম্পিয়ন প্রজন্মকে নিয়ে তিনি ভীষণ গর্বিত।
পুরো টুর্নামেন্টজুড়ে মাত্র একটি গোল হজম করা স্প্যানিশ রক্ষণ দেয়াল ভাঙতে বেশ ঘাম ঝরাতে হয়েছে আর্জেন্টিনাকে। নির্ধারিত ৯০ মিনিটের শেষ মুহূর্তে এনজো ফার্নান্দেজ লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়লে ১০ জনের দলে পরিণত হয় আলবিসেলেস্তেরা। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে অতিরিক্ত সময়ে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি নিজেদের হাতে নিয়ে নেয় স্প্যানিশরা। ম্যাচ শেষে বিজয়ের উচ্ছ্বাসে ভেসে থাকা কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তের কণ্ঠে স্পষ্ট ছিল দলীয় ঐক্যের সুর।
ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে আবেগঘন কণ্ঠে লুইস দে লা ফুয়েন্তে বলেন, ‘অতীতে মানুষ অবাক হতো যখন দেখত ফুটবলাররা প্রতিভাবান ও দক্ষ হওয়ার পাশাপাশি ভালো মানুষও বটে। আমরাই সবচেয়ে ঐক্যবদ্ধ দল এবং এর কৃতিত্ব এমন মানুষদের, যাদের মাঝে সংহতি ও মূল্যবোধ রয়েছে।’
পুরো দলকে প্রশংসায় ভাসিয়ে ফুয়েন্তে বলেন, ‘ফুটবলারদের এই প্রজন্ম নিয়ে আমি ভীষণ গর্বিত, যারা এই দর্শনেই বড় হয়েছে, এর প্রতি বিশ্বস্ত থেকেছে, এটিকে আরও উন্নত করেছে এবং একটি দল ও পরিবার হিসেবে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। তারা চমৎকার, অসাধারণ প্রতিভাবান আর বিশ্বমানের ফুটবলার।’
বিশ্বকাপ জিতে নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে এখনই কোনো তাড়াহুড়ো করতে চান না ফুয়েন্তে। কেবলই এই মুহূর্ত উপভোগ করতে চান। ‘আমরা যেখানে থাকতে চেয়েছিলাম সেখানেই আছি, আমাদের খেলোয়াড়দের নিয়ে আমরা সৌভাগ্যবান। আমাদের কোনো তাড়াহুড়ো নেই, আমাদের এটি উপভোগ করা উচিত; হয়তো আমরা সেপ্টেম্বর ও পরবর্তী ম্যাচগুলো নিয়ে ভাবছি, কিন্তু এটি ঐতিহাসিক কিছু, চলুন ম্যাচ ধরে ধরে এগিয়ে যাই।’
লা রোহাদের জন্য ম্যাচটি কেবল একটি জয় ছিল না, বরং দলগত সংহতি ও নিখুঁত ফুটবলের এক সুনিপুণ প্রদর্শনী। ফুটবল মানচিত্রে নিজেদের একক আধিপত্য টিকিয়ে রেখে স্পেন প্রমাণ করল, অদম্য ঐক্য আর সঠিক দর্শনেই লুকিয়ে থাকে সত্যিকারের বিশ্বজয়ের চাবিকাঠি।
মেসি-ইয়ামাল বুক মেলানোয় আপ্লুত ফুটবল বিশ্ব