উপসাগরে মার্কিন সামরিক স্থাপনায় ইরানের হামলা, আরও বড় আঘাতের হুঁশিয়ারি

আপডেট : ২১ জুলাই ২০২৬, ০৩:২০ পিএম

মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাত আরও তীব্র হয়েছে। মঙ্গলবার (২১ জুলাই) উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের রাডার ও আকাশ প্রতিরক্ষা স্থাপনায় হামলার দাবি করেছে ইরান। একই সঙ্গে তেহরান হুঁশিয়ারি দিয়েছে, সামনে আরও 'দৃঢ় ও শক্তিশালী' ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হবে।

ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) জানিয়েছে, তারা হরমুজ প্রণালি অতিক্রমের চেষ্টা করা দুটি 'নির্দেশনা অমান্যকারী' তেলবাহী ট্যাংকারে হামলা চালিয়ে সেগুলো থামিয়ে দিয়েছে। এর আগে কয়েক দিনে অন্তত তিন মার্কিন সেনা নিহত হওয়ার পর সোমবার রাতে ইরানের বিরুদ্ধে নতুন দফায় হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র। ওয়াশিংটনের দাবি, বাণিজ্যিক জাহাজে হামলায় ব্যবহৃত ইরানের সামরিক সক্ষমতা দুর্বল করতেই এসব অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। 
 
এর কয়েক ঘণ্টা পর ইরানের সেনাবাহিনী জানায়, তারা কুয়েত ও বাহরাইনে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের রাডার, আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও অন্যান্য সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ইরনার প্রকাশিত বিবৃতিতে আইআরজিসি বলেছে, এই হামলার পর শত্রুপক্ষকে আরও শক্তিশালী আঘাতের জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে।

সোমবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সতর্ক করে বলেন, প্রতিটি মার্কিন সেনা নিহত হওয়ার জন্য ইরানকে 'বহুগুণ মূল্য' দিতে হবে। অন্যদিকে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান বলেছেন, সংঘাত এখন "পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধে" রূপ নিয়েছে। পেন্টাগনের তথ্য অনুযায়ী, ৭ জুলাই থেকে এখন পর্যন্ত প্রায় ১০০ মার্কিন সেনা আহত হয়েছেন। 

এদিকে ইরানের মিত্র ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা সৌদি আরবের সমুদ্রবন্দর অবরোধের ঘোষণা দিয়েছে, যা বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ও বাণিজ্যের জন্য নতুন ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। সৌদি আরব এ হুমকির তীব্র নিন্দা জানিয়ে হুথিদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে।

সংঘাতের মধ্যেও কূটনৈতিক তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে ওয়াশিংটনের সঙ্গে যোগাযোগ চলছে। একই সময়ে পাকিস্তর সফরে গেছেন ইরানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এসকান্দার মোমেনি। অন্যদিকে লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউন ওয়াশিংটনে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠক করবেন বলে জানা গেছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত