শরীরচর্চা গুরুত্বপূর্ণ সুন্নত

আপডেট : ২৩ জুলাই ২০২৬, ০৭:৪২ এএম

ইসলাম শ্রেষ্ঠ ধর্ম। এ ধর্মে ইবাদতের পাশাপাশি মানুষের শারীরিক সক্ষমতা ও সুস্থতার প্রতিও সমান গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সুস্থ দেহ একজন মুমিনকে ইবাদতে অধিক মনোযোগী করে, দায়িত্ব পালনে সক্ষম করে এবং সমাজে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে সহায়তা করে। আধুনিক ব্যস্ত জীবনে শরীরচর্চা অনেকের কাছেই গুরুত্বহীন হয়ে পড়েছে। অথচ রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর জীবন আমাদের শেখায়, শরীরকে সুস্থ ও কর্মক্ষম রাখা গুরুত্বপূর্ণ একটি সুন্নত।

ইসলাম মানুষের কাছে স্বাস্থ্যকে আল্লাহর অন্যতম বড় নেয়ামত হিসেবে পরিচয় করিয়ে দিয়েছে। কিন্তু অধিকাংশ মানুষ এই নেয়ামতের যথাযথ মূল্যায়ন করতে পারে না। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘দুটি নেয়ামত এমন আছে, যেগুলো অনেক মানুষ প্রতারিত হয়। তা হলো স্বাস্থ্য ও অবসর সময়।’ (সহিহ বুখারি ৬৪১২) এই হাদিস আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয়, সুস্থ শরীর এবং অবসর সময়কে কল্যাণকর কাজে ব্যয় করাই প্রকৃত মুমিনের বৈশিষ্ট্য। নিয়মিত শরীরচর্চা মানুষের শারীরিক শক্তির পাশাপাশি মানসিক দৃঢ়তাও বৃদ্ধি করে। ব্যায়ামের মাধ্যমে মানুষ ধৈর্য, অধ্যবসায় ও আত্মনিয়ন্ত্রণের শিক্ষা লাভ করে। কঠোর অনুশীলন মানুষকে কষ্ট সহ্য করতে শেখায় এবং লক্ষ্য অর্জনের জন্য নিয়মিত প্রচেষ্টার অভ্যাস গড়ে তোলে। এসব গুণ একজন মুসলমানের ব্যক্তিগত জীবন, ইবাদত ও কর্মক্ষেত্রে ইতিবাচক প্রভাব ফেলে।

ইসলাম সামাজিক বন্ধনকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়েছে। দলগত খেলাধুলা, দৌড়, সাইক্লিং বা সাঁতারের মতো কার্যক্রম মুসলিমদের পারস্পরিক সম্পর্ককে আরও দৃঢ় করে। এসব কার্যক্রমের মাধ্যমে সহযোগিতা, নেতৃত্ব, শৃঙ্খলা ও দলগতভাবে কাজ করার মানসিকতা তৈরি হয়, যা একটি শক্তিশালী সমাজ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

বর্তমান সময়ে তরুণদের সামনে নানা ধরনের হারাম বিনোদন ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডের সুযোগ বেড়েছে। অলসতা ও উদ্দেশ্যহীন অবসর সময় অনেককে ভুল পথে নিয়ে যায়। নিয়মিত শরীরচর্চা এই অবসর সময়কে কল্যাণকর কাজে ব্যয় করতে সাহায্য করে। শারীরিক অনুশীলন মানুষকে কর্মব্যস্ত রাখে, আত্মবিশ^াস বাড়ায় এবং ক্ষতিকর অভ্যাস থেকে দূরে থাকতে সহায়তা করে।

রাসুলুল্লাহ (সা.) নিজেও বিভিন্ন ধরনের শারীরিক কসরতে অংশ নিয়েছেন। হজরত আয়েশা (রা.) বর্ণনা করেন, তিনি একবার রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সঙ্গে দৌড় প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে তাকে পরাজিত করেছিলেন। পরে তার ওজন বেড়ে গেলে দৌড় প্রতিযোগিতায় রাসুলুল্লাহ (সা.) তাকে পরাজিত করেন। (সুনানে আবু দাউদ ২৫৭৮) এ ঘটনা প্রমাণ করে, শরীরচর্চা করতে নারী-পুরুষ উভয়কেই উৎসাহিত করা হয়েছে।

এ ছাড়া রাসুলুল্লাহ (সা.) তিরন্দাজির প্রশংসা করেছেন। তিনি বলেছেন, ‘তোমরা তিরন্দাজি অনুশীলন করো।’ (সহিহ মুসলিম ১৯১৭) তিনি সন্তানদের সাঁতার, তিরন্দাজি ও ঘোড়সওয়ারি শেখানোরও নির্দেশ দিয়েছেন। (মুসনাদে আহমদ ১৬৫৮২) আবার তিনি নিজেই রুকানা নামের এক শক্তিশালী ব্যক্তির সঙ্গে কুস্তি লড়ে বিজয়ী হয়েছিলেন। (সুনানে আবু দাউদ ৪০৭৮) এসব ঘটনা প্রমাণ করে, ইসলাম শক্তিশালী, কর্মক্ষম ও সুস্থ প্রজন্ম গড়ে তুলতে উৎসাহ দেয়।

লেখক : ইসলামি গবেষক

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত