খুবি'র নারী হলের ওয়াশরুমে গোপন ভিডিওর ঘটনায় ক্যাম্পাস উত্তাল

আপডেট : ২৩ জুলাই ২০২৬, ০৯:৪২ পিএম

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের (খুবি) বিজয় ২৪ হলের নারী ওয়াশরুমে গোপনে ভিডিও ধারণের অভিযোগে ক্যান্টিন কর্মীকে আটক করা হয়েছে।

এই ঘটনায় উত্তাল হয়ে উঠেছে ক্যাম্পাস। ঘটনার বিচার, যৌন হয়রানির অভিযোগে অভিযুক্তদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবিতে প্রশাসনিক ও একাডেমিক ভবনে তালা ঝুলিয়ে সব ধরনের কার্যক্রম বন্ধ করে দিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।

এদিকে ঘটনার তদন্তে পাঁচ সদস্যের কমিটি গঠন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) সকালে সাধারণ শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকসহ প্রশাসনিক ও একাডেমিক ভবনগুলোতে তালা ঝুলিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। পরে দুপুরে হাদি চত্বরে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করে তারা দুটি দাবি উত্থাপন করেন।

শিক্ষার্থীদের প্রথম দাবি, নারী ওয়াশরুমে গোপনে ভিডিও ধারণের অভিযোগে আটক ব্যক্তির সর্বোচ্চ শাস্তি দ্রুত নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্য কেউ থাকলে তাদেরও আইনের আওতায় আনতে হবে। শিক্ষার্থীদের ভাষ্য, এক ব্যক্তির পক্ষে ছয় মাসে প্রায় ৯০০টি ভিডিও ধারণ করা সম্ভব নয়।

দ্বিতীয় দাবিতে সাম্প্রতিক সময় দুই শিক্ষকের বিরুদ্ধে ওঠা যৌন হয়রানির অভিযোগ দ্রুত নিষ্পত্তি এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়। এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন আন্দোলনকারীরা।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, বুধবার (২২ জুলাই) রাত সাড়ে ১০টার দিকে ‘বিজয় ২৪ হলের নারী ওয়াশরুমে একটি সন্দেহজনক মোবাইল ফোন দেখতে পান তারা। পরে তদন্ত করে হলের ক্যান্টিন মালিকের ছেলে ও প্রায় দুই বছর ধরে কর্মরত ক্যান্টিন কর্মী ইমাম হাসানকে (২৪) আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়।

তাদের দাবি, অভিযুক্ত ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে ওয়াশরুমের ভেন্টিলেটরের ফাঁক দিয়ে গোপনে ভিডিও ধারণ করে তা বিভিন্ন টেলিগ্রাম গ্রুপে ছড়িয়ে দিতেন। তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনে একাধিক গোপন ভিডিও পাওয়া গেছে বলেও শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন।

এসব অভিযোগ স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। বিজয় ২৪ হলের প্রভোস্ট প্রথমে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। পরে আন্দোলনের মুখে তিনি জানান, সহকারী প্রভোস্ট ড. নূরুন নাহার মনিকে প্রধান করে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

অভিযুক্তকে পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়েছে এবং তার মোবাইল ফোন জব্দ করে সিলগালা অবস্থায় পুলিশের কাছে দেওয়া হয়েছে।

প্রাথমিকভাবে ২-৩টি ভিডিও পাওয়া গেছে। আরও ভিডিও রয়েছে কি না, তা ফরেনসিক পরীক্ষার মাধ্যমে যাচাই করা হবে। একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. এস এম মাহবুবুর রহমান বলেন, ঘটনার রাতে প্রধান ফটক তালাবদ্ধ থাকলেও অভিযুক্তকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নিতে প্রশাসন তালা ভেঙে অ্যাম্বুলেন্স বের করে। এতে শিক্ষার্থীদের সিদ্ধান্ত উপেক্ষিত হয়েছে। এ অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে দুঃখ প্রকাশ করা হয়েছে।

সর্বশেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত ক্যাম্পাসে উত্তেজনা বিরাজ করছিল। দুই দফা দাবি বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত