পদত্যাগের পর রাষ্ট্রপতি যে সব সুযোগ-সুবিধা পাবেন

আপডেট : ২৪ জুলাই ২০২৬, ০৪:৫৯ পিএম

বাংলাদেশে কোনো রাষ্ট্রপতি পদত্যাগ করলে কিংবা মেয়াদ শেষ করার পর তিনি আমৃত্যু কী কী সুযোগ-সুবিধা পাবেন, তা সুনির্দিষ্ট আইনের মাধ্যমে নির্ধারিত। দেশের আইন অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি রাষ্ট্রপতি পদে কমপক্ষে ছয় মাস দায়িত্ব পালন শেষে পদত্যাগ করলে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি মাসিক অবসরভাতাসহ বিভিন্ন সরকারি সুযোগ-সুবিধা পাওয়ার অধিকারী হন।

বর্তমানে দেশে ‘রাষ্ট্রপতির অবসরভাতা, আনুতোষিক ও অন্যান্য সুবিধা আইন, ২০১৬’ অনুযায়ী সাবেক রাষ্ট্রপ্রধানদের এই সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হয়। ১৯৭৯ সালের একটি পুরোনো সামরিক অধ্যাদেশ বিলুপ্ত করে ২০১৬ সালে জাতীয় সংসদে এই নতুন আইনটি পাস করা হয়েছিল।

আইনের ৩ ধারা অনুযায়ী, দায়িত্ব পালন শেষে পদত্যাগ করা বা মেয়াদ শেষ করা রাষ্ট্রপতি আমৃত্যু পেনশন সুবিধা পাবেন। সাবেক রাষ্ট্রপতি হিসেবে তিনি সর্বশেষ যে মাসিক মূল বেতন পেতেন, তার ৭৫ শতাংশ হারে এই মাসিক অবসরভাতা নির্ধারিত হয়।

বর্তমানে রাষ্ট্রপতির মূল বেতন ১ লাখ ২০ হাজার টাকা। সেই হিসাবে একজন সাবেক বা পদত্যাগী রাষ্ট্রপতি প্রতি মাসে ৯০ হাজার টাকা অবসরভাতা পান। এককালীন আনুতোষিক ও পারিবারিক ভাতা কোনো সাবেক রাষ্ট্রপতি চাইলে মাসিক পেনশনের পরিবর্তে এককালীন অর্থ বা আনুতোষিক গ্রহণ করতে পারেন।

আইন অনুযায়ী, তিনি যত বছর রাষ্ট্রপতি পদে অধিষ্ঠিত ছিলেন, তার এক বছরের অবসরভাতার তত গুণ অর্থ এককালীন পাবেন।

এ ছাড়া, অবসরভাতা গ্রহণকালীন কোনো সাবেক রাষ্ট্রপতি মারা গেলে তার স্ত্রী বা স্বামী বিশেষ পারিবারিক ভাতা পাবেন।
আইনের বিধান অনুযায়ী, তিনি সাবেক রাষ্ট্রপতির প্রাপ্য অবসরভাতার দুই-তৃতীয়াংশ হারে আমৃত্যু মাসিক ভাতা পাওয়ার অধিকারী হবেন।

আইনের ৫ ধারা অনুযায়ী, অবসরভাতা ছাড়াও সাবেক রাষ্ট্রপতিরা বেশ কিছু প্রাতিষ্ঠানিক প্রটোকল সুবিধা পান। এর মধ্যে রয়েছে- নিজের দাপ্তরিক ও ব্যক্তিগত কাজের সহায়তার জন্য একজন ব্যক্তিগত সহকারী (পিএ) এবং একজন সাহায্যকারী (অ্যাটেন্ডেন্ট)। এ ছাড়া, সাবেক রাষ্ট্রপ্রধানরা একজন দায়িত্বরত ক্যাবিনেট মন্ত্রীর সমপরিমাণ সরকারি চিকিৎসা সুবিধা আমৃত্যু পেয়ে থাকেন।

সাবেক রাষ্ট্রপতিদের জন্য সরকারি খরচে সার্বক্ষণিক আবাসিক টেলিফোন সংযোগ দেওয়া হয়। দেশের অভ্যন্তরে ভ্রমণকালে সরকারি সার্কিট হাউস বা রেস্ট হাউসে তারা বিনা মূল্যে অবস্থান ও বিশেষ সুবিধা পান। আন্তর্জাতিক ভ্রমণের সুবিধার্থে তারা সরকারিভাবে ‘কূটনৈতিক পাসপোর্ট’ (ডিপ্লোম্যাটিক পাসপোর্ট) ব্যবহারের অধিকারী হন।

তবে সব সাবেক রাষ্ট্রপতিই উপরোক্ত সুবিধা পাবেন না। আইনের ৬ নম্বর ধারায় কিছু কঠোর শর্ত আরোপ করা হয়েছে। সংবিধানের ৫২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী যদি কোনো রাষ্ট্রপতিকে অভিশংসনের (ইমপিচমেন্ট) মাধ্যমে পদ থেকে অপসারণ করা হয়, তবে তিনি কোনো সুবিধা পাবেন না। এ ছাড়া, উচ্চ আদালত কর্তৃক অসাংবিধানিক উপায়ে ক্ষমতা দখলকারী হিসেবে ঘোষিত ব্যক্তি অথবা নৈতিক স্খলনজনিত কোনো অপরাধে আদালতের রায়ে দণ্ডিত সাবেক রাষ্ট্রপতিরা এই আইনের আওতাধীন কোনো সুবিধা পাওয়ার যোগ্য হবেন না।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত