ফ্রান্সে দাবানল: এ বছর পুড়েছে ৫০ হাজার হেক্টরের বেশি জমি

আপডেট : ২৪ জুলাই ২০২৬, ০৭:৪১ পিএম

চলতি বছরে ফ্রান্সজুড়ে দাবানলে ৫০ হাজার হেক্টরেরও বেশি এলাকা পুড়ে গেছে বলে জানিয়েছেন দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরাঁ নুনেজ।

শুক্রবার (২৪ জুলাই) তিনি জানান, দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের জিরন্দ বিভাগে চলমান দাবানলটি এই মরশুমের সবচেয়ে বড় অগ্নিকাণ্ডে পরিণত হয়েছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বছরের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত ফ্রান্সে দাবানলে ক্ষতিগ্রস্ত জমির পরিমাণ ৫০ হাজার হেক্টর ছাড়িয়ে গেছে। জিরন্দের সওমোস এলাকার কাছে বুধবার শুরু হওয়া আগুন ইতোমধ্যেই ১০ হাজার হেক্টরের বেশি এলাকা গ্রাস করেছে এবং এখনও নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়নি।

লরাঁ নুনেজ বলেন, 'আগুন এখনও ছড়িয়ে পড়ছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে পড়েছে।' তিনি এই ঘটনাকে চলতি মরশুমের সবচেয়ে বড় দাবানল হিসেবে উল্লেখ করেন।

দাবানলের কারণে প্রায় ৪০ হাজার মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। আগুন নেভাতে প্রায় ১ হাজার দমকলকর্মী, সিভিল সিকিউরিটি কর্মী, সামরিক প্রকৌশল ইউনিট এবং হেলিকপ্টার মোতায়েন করা হয়েছে। আগুনে প্রায় ৮০টি বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যার মধ্যে প্রায় ৫০টি সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়েছে বলে জানান মন্ত্রী।

উদ্ধার ও নিরাপত্তা কার্যক্রমে সহায়তার জন্য জিরন্দ-লঁদ অঞ্চলে ৩৩০ জন আধাসামরিক পুলিশ সদস্যের পাশাপাশি ছয়টি বিশেষ মোবাইল পুলিশ ইউনিট মোতায়েন করা হয়েছে। পাশাপাশি ইউরোপীয় ইউনিয়নের সিভিল প্রোটেকশন মেকানিজমের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক সহায়তাও চেয়েছে ফ্রান্স।

ইউরোপীয় সহায়তার অংশ হিসেবে ক্রোয়েশিয়া দুটি অগ্নিনির্বাপণ বিমান এবং পর্তুগাল দুটি এয়ার ট্র্যাক্টর বিমান পাঠাচ্ছে। এছাড়া চেক প্রজাতন্ত্র ও স্লোভাকিয়া একটি করে ব্ল্যাক হক হেলিকপ্টার পাঠাচ্ছে আগুন নিয়ন্ত্রণে সহায়তার জন্য।

জিরন্দ ও পার্শ্ববর্তী লঁদ অঞ্চলে দাবানলের কারণে ৪৩ হাজারেরও বেশি বাসিন্দা ও পর্যটককে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। আরকাসোঁ উপসাগর ও ক্যাপ-ফেরেট উপদ্বীপের কাছে ছড়িয়ে পড়া আগুনের জেরে শুক্রবার পুরো উপদ্বীপ খালি করার নির্দেশ দেওয়া হয়। সমুদ্রপথে উদ্ধারের সুবিধার জন্য আরকাসোঁ উপসাগরে নৌ চলাচলও সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে।

এদিকে, পার্শ্ববর্তী লঁদ অঞ্চলের বিসকারোস এলাকায় আরেকটি দাবানলে ২,৫০০ হেক্টরের বেশি জমি পুড়ে গেছে। স্থানীয় প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, সেখানে বাসিন্দা, ক্যাম্পার ও পর্যটক মিলিয়ে ২৩ হাজারের বেশি মানুষকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

দক্ষিণ-পূর্ব ফ্রান্সের ভার বিভাগের কোতিনিয়াক এলাকায় আরেকটি দাবানল এখনও স্থিতিশীল থাকলেও পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসেনি। আগুন নেভাতে ৯৫০ জনের বেশি দমকলকর্মী, জলবাহী বিমান এবং সিভিল সিকিউরিটি হেলিকপ্টার কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত