টেস্ট ক্রিকেট আমার স্বপ্নের জায়গা

আপডেট : ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:৩৮ এএম

দীর্ঘদিন পর বাংলাদেশের টেস্ট দলে ডাক পান ডানহাতি পেসার মুশফিক হাসান। তবে অভিষেক ক্যাপটা এখনো মাথায় তুলতে পারেননি। যদিও অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ঐতিহাসিক ডারউইন টেস্টে জয়ী দলের সদস্য তিনি। এরপর দক্ষিণ আফ্রিকায় বাংলাদেশ ‘এ’ দলের হয়ে খেলেন ২৪ বছরের এ তরুণ। এখন জাতীয় ক্রিকেট লিগের (এনসিএল) চার দিনের সংস্করণের জন্য নিজেকে প্রস্তুত করছেন। এ টুর্নামেন্ট সামনে রেখে নিজের পরিকল্পনা নিয়ে তরিকুল ইসলাম সজলের মুখোমুখি হন মুশফিক

অনেক দিন পর দলে সুযোগ পেয়ে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে ঐতিহাসিক টেস্ট জয়ের সাক্ষীও হলেন। দেশে ফিরে সংবর্ধনা পাচ্ছেন। এ সময়গুলো কতটা উপভোগ করছেন?

মুশফিক : এমন অনুভূতি আসলে বলে বোঝানোর মতো নয়। এই ম্যাচজয়ী দলের সদস্য হতে পারা আমার জন্য অনেক বেশি গর্বের। আমাদের প্রথম লক্ষ্য ছিল পাঁচ দিন ভালো ক্রিকেট খেলা। প্রতিটি ইনিংসে ভালো করার চেষ্টা ছিল। শেষ পর্যন্ত জয় এসেছে। এটি আমাদের জন্য ঐতিহাসিক একটি জয়। দলের সঙ্গে থেকে বিষয়টি খুব উপভোগ করেছি।

সে ম্যাচের একাদশে না থাকার কোনো আক্ষেপ আছে?

মুশফিক : না, একদমই নেই। আমি নিজেও কখনো এভাবে ভাবিনি। যারা খেলেছে, আমরা যারা বাইরে ছিলামÑ সবাই দেশের প্রতিনিধিত্ব করেছি। ম্যাচ জিততে পারাই আমাদের অর্জন। যদিও শুরুর দিন থেকেই সবার মধ্যে এই আত্মবিশ্বাস ছিল। আমরা বিশ্বাস করতাম, সেশন ধরে ভালো ক্রিকেট খেলতে পারলে অস্ট্রেলিয়াকে হারানো সম্ভব। আমরা ১২ দিন আগেই সেখানে গিয়েছিলাম। যদিও প্রস্তুতি ম্যাচটা ভালো হয়নি, সেখান থেকে সবাই নিজেদের ভুলগুলো শুধরে মূল ম্যাচে ভালোভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছে। এই প্রস্তুতি ম্যাচ আমাদের আত্মবিশ্বাস বাড়াতে অনেক সাহায্য করেছে। উইকেট সম্পর্কেও সবার ভালো একটা ধারণা হয়েছিল।

অস্ট্রেলিয়া থেকে ফিরে ‘এ’ দলের হয়ে দক্ষিণ আফ্রিকায় গেলেন। সেখানে ভিন্ন কন্ডিশন। ব্যাটারদের বাড়তি সুবিধা ছিল। নিজের বোলিং নিয়ে আপনি কতটা তৃপ্ত?

মুশফিক : ভিসা জটিলটার কারণে দক্ষিণ আফ্রিকায় প্রথম ম্যাচটা খেলতে পারিনি। পরে দ্বিতীয় চার দিনের ম্যাচটি খেছি। আরও ভালো করার সুযোগ ছিল। এরপর তিনটি ওয়ানডের মধ্যে দুটিই বৃষ্টির কারণে হয়নি। যেতা বলছিলেনÑ দুই জায়গার কন্ডিশনই ভিন্ন। ডারউইনে আমরা যে উইকেটে খেলেছি, সেটি পেস বোলারদের জন্য সহায়ক ছিল। অন্যদিকে দক্ষিণ আফ্রিকায় যে উইকেটে দ্বিতীয় টেস্ট ও শেষ ওয়ানডে খেলেছি, সেটি অনেকটাই ব্যাটাসম্যানদের সহায়ক। পেসারদের জন্য সেখানে খুব বেশি সহায়তা ছিল না। ফলে দুই ধরনের কন্ডিশনেই খেলার অভিজ্ঞতা হয়েছে, যা অবশ্যই কাজে দেবে।

সামনে জাতীয় ক্রিকেট লিগ। একই সময় ঘরের মাঠে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজ। কোনটা মাথায় রেখে প্রস্তুত হচ্ছেন?

মুশফিক : জাতীয় দল নিয়ে এখন তেমন ভাবনা নেই। এনসিলের জন্য প্রস্তুত হচ্ছি। এখানে ভালো করতে পারলে সামনে আরও টেস্ট আছে। নিজের কাজটা ঠিকভাবে করতে চাই। তাহলে সুযোগ আসবে। এমনিতে চোট কাটিয়ে ফেরার পর ‘এ’ দল এবং জাতীয় দলের সঙ্গে ছিলাম। ফলে আত্মবিশ্বাসও ভালো আছে। এ আত্মবিশ্বাসটা এনসিএলে কাজে লাগাতে চাই। কিছু পরিকল্পনাও সাজাচ্ছি।

কেমন পরিকল্পনা বলা যায় কি?

মুশফিক : সেটা মাঠেই দেখাতে চাই। টেস্ট ক্রিকেট আমার স্বপ্নের জায়গা। দেশের হয়ে সেখানে খেলতে হলে সব দিক থেকেই শতভাগ প্রস্তুত থাকতে হয়। বিশেষ করে লাইন, লেংথ ও একুরেসিÑ সবকিছুতেই শতভাগ হতে হবে। আমিও চেষ্টা করছি প্রতিদিন নিজের এসব জায়গা আরও উন্নত করতে। যখনই জাতীয় দলে নিয়মিত খেলার সুযোগ পাব, যেন কোনো জায়গায় ঘাটতি না থাকে, সেটাই আমার লক্ষ্য।

এনসিএলের সর্বশেষ আসরের চ্যাম্পিয়ন আপনারা। এবার আপনাদের রংপুরের শিরোপা ধরে রাখার সম্ভাবনা কতটা?

মুশফিক : আমাদের কোচিং স্টাফ ও অধিনায়ক আকবর (আলী) ভাই নিশ্চয়ই এ নিয়ে চিন্তা করছেন। দুর্ভাগ্যজনকভাবে মুগ্ধ (মুকিদুল ইসলাম) ভাই, রবিউল (হক) ভাইসহ কয়েকজন চোটে পড়েছেন। আমাদের পেস বোলিং ইউনিটে যারা আছে, আশা করি সবাই ভালো করবে এবং নিজেদের সেরাটা দেবে। দল হিসেবে ভালো কিছু করার চেষ্টাই থাকবে।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত