কলকাতায় ককরোচ পার্টির আন্দোলনে সাংবাদিকদের উপর হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে শনিবার (২৫ জুলাই) বিধানসভায় কড়া বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। আহত সাংবাদিকদের পাশে দাঁড়ানোর পাশাপাশি হামলাকারীদের বিরুদ্ধে গুন্ডা দমন আইন প্রয়োগের ঘোষণা করে তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, ‘এমন ব্যবস্থা নেওয়া হবে, যাতে এই গুন্ডাদের তিন পুরুষ মনে রাখে।’
বিধানসভায় বিবৃতি দিতে উঠে শুভেন্দু জানান, শুক্রবার রাতে তিনি এসএসকেএম হাসপাতালে গিয়ে আহত সাংবাদিকদের সঙ্গে দেখা করেছি। সাংবাদিক বন্ধুদের উপর যে ধরনের আক্রমণ হয়েছে, তা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। রাত সাড়ে আটটা নাগাদ হাসপাতালে গিয়ে তাদের সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে কথা বলেছি। একজনও যেন মনে না করেন সরকার তাদের পাশে নেই।’
এরপরই আন্দোলনের প্রেক্ষাপট ব্যাখ্যা করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, 'ইউনাইটেড ককরোচ মার্চ' ব্যানারে এই কর্মসূচির ডাক দেওয়া হয়েছিল। দেবদীপ গঙ্গোপাধ্যায়-সহ বিভিন্ন বাম ও অতিবাম সংগঠনের সদস্যরা এতে যুক্ত ছিলেন বলে তার দাবি। তবে সরকার শুরু থেকেই পুলিশকে স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছিল, গণতান্ত্রিক দেশে শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের অধিকার সকলের রয়েছে ৷কিন্তু আইনশৃঙ্খলা নষ্ট হতে দেওয়া যাবে না।
শুভেন্দুর অভিযোগ, আন্দোলনের নামে পরিকল্পিতভাবে অশান্তির ছক কষা হয়েছিল। পুলিশের হিসেব অনুযায়ী মিছিলে প্রায় ৯ হাজার মানুষের উপস্থিতি ছিল। তার দাবি, খিদিরপুর, মেটিয়াবুরুজ, রাজাবাজার, পার্ক সার্কাস, আকড়া ফটক, বেলগাছিয়া, রাজারহাট-নিউটাউন, বাগুইআটির মতো এলাকা থেকে লোক জড়ো করা হয়েছিল। তবু পুলিশ শেষ পর্যন্ত সংযমের পরিচয় দিয়েছে বলেই দাবি করেন তিনি।
মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ, ডরিনা ক্রসিংয়ে পৌঁছনোর পর থেকেই পরিস্থিতি বদলে যায়। প্রথমে জুতো ও জলের বোতল ছোড়া শুরু হয়, পরে সরাসরি সাংবাদিকদের নিশানা করা হয়। তার বক্তব্য, ‘ওরা চেয়েছিল পুলিশ লাঠিচার্জ করুক, কাঁদানে গ্যাস ছুড়ুক, বলপ্রয়োগ করুক। তাহলে সেই ছবি দেখিয়ে আরও বড় নাটক করা যেত। কিন্তু পুলিশ সেই ফাঁদে পা দেয়নি।’
হামলায় গুরুতর আহত সাংবাদিকদের নামও বিধানসভায় উল্লেখ করেন শুভেন্দু । তার বক্তব্য অনুযায়ী, দীপঙ্কর দাশগুপ্ত, মাখন পাত্র, সুমন মহাপাত্র, ঋক পুরকায়স্থ, শিলাদিত্য কর এবং কৃষ্ণেন্দু মজুমদার সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। তাদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করে তিনি বলেন, সংবাদমাধ্যমের উপর হামলা কোনওভাবেই মেনে নেওয়া হবে না।
একই সঙ্গে প্রশাসনিক পদক্ষেপের কথাও জানান মুখ্যমন্ত্রী। তার বক্তব্য, এই ঘটনায় মোট সাতটি মামলা দায়ের হয়েছে, যার মধ্যে এন্টালি থানাতেও একটি মামলা রয়েছে। প্রতিটি মামলাতেই গুন্ডা দমন আইন যুক্ত করা হয়েছে। ইতিমধ্যেই প্রায় ৭০ জনকে চিহ্নিত করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
শুধু তাই নয়, কয়েকজন অভিযুক্তর নামও প্রকাশ্যে উচ্চারণ করেন শুভেন্দু। তার দাবি, রাজাবাগানের আফরোজ, খিদিরপুরের নাহিদ, ইকবালপুরের তানভীর ও নিজাম এবং ওয়াটগঞ্জের রাহুল জামাল- এদের কাউকেই রেয়াত করা হবে না। কড়া ভাষায় তিনি বলেন, ‘গুন্ডা দমন আইন এনেছিলাম এই ধরনের দুষ্কৃতীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য। এমন ব্যবস্থা হবে, যাতে ভবিষ্যতে কেউ এই ধরনের হামলার সাহস না পায়।’
ককরোচ আন্দোলনে মন্ত্রীর মেয়ে, রাজনীতিতে তোলপাড়