ককরোচ আন্দোলনে মন্ত্রীর মেয়ে, রাজনীতিতে তোলপাড়

আপডেট : ২৫ জুলাই ২০২৬, ০১:৫১ পিএম

ভারতের প্রশ্নপত্র ফাঁস ও শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে চলা 'ককরোচ আন্দোলনে' যোগ দিয়ে বিতর্কে জড়িয়েছেন আসামের মন্ত্রী কেশব মহন্তের মেয়ে দিবিসা মহন্ত। গুয়াহাটিতে সিজেপির বিক্ষোভে তার অংশ নেওয়া এবং স্লোগান দেওয়ার ভিডিও ভাইরাল হওয়ায় রাজনৈতিক অঙ্গনে তোলপাড় শুরু হয়েছে।

শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে চলমান বিক্ষোভে অংশ নিয়ে রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছেন বিজেপি নেতৃত্বাধীন সরকারের একজন মন্ত্রীর মেয়ে। ছাত্রদের বিক্ষোভে যোগ দিয়ে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে স্লোগান দেন আসামের রাজস্বমন্ত্রী ও আসাম গণ পরিষদ (এজিপি) নেতা কেশব মহন্তের মেয়ে দিবিসা মহন্ত।

এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আসামের গুয়াহাটির চাচল এলাকায় ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) ও বামপন্থী ছাত্র সংগঠনগুলোর উদ্যোগে এ বিক্ষোভ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। এতে আসাম ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকা থেকে শিক্ষার্থী, তরুণ-তরুণী এবং নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

বিক্ষোভে অংশ নিয়ে দিবিসা মহন্তকে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে হাতে প্ল্যাকার্ড নিয়ে স্লোগান দিতে দেখা যায়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ছবি ও ভিডিওতে তার সক্রিয় উপস্থিতি ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, কর্মসূচিতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বিরুদ্ধেও স্লোগান দেওয়া হয়েছে।

দিবিসার এই অংশগ্রহণ বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে, কারণ তার বাবা কেশব মহন্ত বিজেপি নেতৃত্বাধীন আসাম সরকারের একজন গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রী এবং জোটসঙ্গী এজিপির শীর্ষ নেতা। ফলে ক্ষমতাসীন জোটের একজন মন্ত্রীর পরিবারের সদস্যের কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলনে অংশ নেওয়া রাজনৈতিক মহলে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।

ঘটনাটি নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা বলেন, শিক্ষার্থীদের গণতান্ত্রিকভাবে প্রতিবাদ করার অধিকার রয়েছে এবং সরকার সেই অধিকারকে সম্মান করে। এটি শিক্ষার্থীদের আন্দোলন। তারা তাদের দাবি জানাতে পারে। প্রধানমন্ত্রীও বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখছেন। বর্তমানে অসম ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। তাই আন্দোলনের পাশাপাশি দুর্যোগ মোকাবেলার প্রতিও সবার সমান গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।

তবে বিষয়টি নিয়ে পরিবারের পক্ষ থেকে ভিন্ন ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে। তাদের দাবি, দিবিসা একজন নাবালিকা ছাত্রী। টিউশন শেষে বন্ধুদের সঙ্গে ঘটনাস্থলে গিয়েছিল। তাকে রাজনৈতিক বিতর্কে না জড়ানোর পরামর্শ দিয়েছে পরিবার।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত