সংযুক্ত আরব আমিরাতে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের পাসপোর্ট ও কনস্যুলার সেবা আরও দ্রুত, সুশৃঙ্খল ও আধুনিক করতে দুবাইয়ের বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেলে পুনরায় চালু করা হয়েছে ইন্টিগ্রেটেড কিউ ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম।
নতুন এই ডিজিটাল ব্যবস্থার মাধ্যমে সেবাগ্রহীতারা দীর্ঘ লাইনে অপেক্ষা না করে টোকেন নম্বরের ভিত্তিতে নির্ধারিত কাউন্টার থেকে প্রয়োজনীয় সেবা গ্রহণ করতে পারবেন।
গতকাল কনস্যুলেট প্রাঙ্গণে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ফিতা কেটে এ সেবার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন দুবাইয়ে নিযুক্ত বাংলাদেশের কনসাল জেনারেল মোহাম্মদ রাশেদুজ্জামান।
অনুষ্ঠানে কনস্যুলেটের কর্মকর্তাদের পাশাপাশি বাংলাদেশ কমিউনিটির নেতৃবৃন্দ, বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধি এবং গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
কনস্যুলেটের প্রথম সচিব (পাসপোর্ট ও ভিসা) দেওয়ান আকরামুল হক জানান, নতুন ব্যবস্থায় প্রবেশমুখেই সেবাগ্রহীতাদের প্রয়োজন অনুযায়ী ডিজিটাল টোকেন দেওয়া হচ্ছে।
এরপর তারা বড় ডিসপ্লে স্ক্রিন ও স্বয়ংক্রিয় ঘোষণার মাধ্যমে নিজ নিজ সিরিয়াল অনুসারে নির্ধারিত কাউন্টারে গিয়ে সেবা নিতে পারছেন। বর্তমানে ১৪টি ভিন্ন ক্যাটাগরির কনস্যুলার সেবা এই ব্যবস্থার আওতায় পরিচালিত হচ্ছে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে কনসাল জেনারেল মোহাম্মদ রাশেদুজ্জামান বলেন, প্রযুক্তিনির্ভর এই উদ্যোগের ফলে পাসপোর্টসহ বিভিন্ন কনস্যুলার সেবা আরও দ্রুত, স্বচ্ছ ও কার্যকরভাবে প্রদান করা সম্ভব হবে। একই সঙ্গে সেবাগ্রহীতাদের সময় সাশ্রয়ের পাশাপাশি কনস্যুলেটে শৃঙ্খলাও বৃদ্ধি পাবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
আরব আমিরাত বিএনপির আহ্বায়ক মোহাম্মদ জাকির হোসেন নতুন এই উদ্যোগকে সময়োপযোগী বলে অভিহিত করেন। ডিজিটাল বাংলাদেশ থেকে স্মার্ট বাংলাদেশের অভিযাত্রার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে কনস্যুলেটের এই উদ্যোগ বিদেশে বসবাসরত বাংলাদেশিদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ বলে তিনি অভিমত ব্যক্ত করেন।
সেবা গ্রহণকারী ও প্রবাসীদের ভাষ্য, এতদিন দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হতো। বিশেষ করে গরমের সময় এ দুর্ভোগ আরও বেড়ে যেত। টোকেনভিত্তিক ডিজিটাল পদ্ধতি চালুর ফলে এখন অপেক্ষার সময় অনেক বেশি স্বাচ্ছন্দ্যময় হয়েছে এবং সেবা গ্রহণের পুরো প্রক্রিয়াও সহজ ও সুশৃঙ্খল হয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০১৬ সালে দুবাই বাংলাদেশ কনস্যুলেটে প্রথমবারের মতো. কিউ ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম চালু হলেও প্রায় দুই বছর পর তা বন্ধ হয়ে যায়। এরপর দীর্ঘদিন ধরে প্রচলিত পদ্ধতিতে সেবা কার্যক্রম পরিচালিত হওয়ায় প্রবাসীদের নানা ধরনের ভোগান্তি ও বিলম্বের অভিযোগ ছিল।
নতুন করে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর এই ব্যবস্থা চালু হওয়ায় কনস্যুলার সেবার মান আরও উন্নত হবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। তারা আশা করছেন, ভবিষ্যতে কনস্যুলার সেবায় আরও প্রযুক্তিনির্ভর সংস্কার আনা হলে সেবা গ্রহণের প্রক্রিয়া আরও সহজ, দ্রুত ও কার্যকর হবে।