গোঁজামিলের দলের হতাশার চিত্র

আপডেট : ২৮ জুলাই ২০২৬, ০৭:৩৪ এএম

ফি বছর জাতীয় অ্যাথলেটিকস চ্যাম্পিয়নশিপে দ্রুততম মানব ও মানবীর খেতাব জিতে আসছেন যথাক্রমে ইমরানুর রহমান ও শিরিন আক্তার। স্বর্ণপদক জিতে দলের পতাকা নিয়ে হাসিমুখে ক্যামেরার সামনে পোজ দেন। ক্লিক ক্লিক করে উঠে ক্যামেরার শাটার। ফলাও করে প্রচার হয় তাদের ছবি। কিন্তু আন্তর্জাতিক আসরে সেই পারফরম্যান্সের ছিটেফোঁটাও দেখা যায় না। বরং ক্যারিয়ার সেরা টাইমিং থেকেও অনেক, অনেক দূরে থাকেন তারা। এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি।

টাইমিংয়ের উন্নতির কথা বলে এবারও গ্লাসগো কমনওয়েলথ গেমসে গিয়েছিলেন দেশসেরা দুই অ্যাথলেটর ইমরানুর রহমান ও শিরিন আক্তার। কিন্তু হিট পেরোতে পারেননি তারা। সোমবার স্কটটাউন স্টেডিয়ামে ১০০ মিটার স্প্রিন্টে নিজের ক্যারিয়ার সেরা টাইমিংয়েরও দেখা পেলেন না লন্ডন প্রবাসী অ্যাথলেট ইমরানুর। ফলে হিটেই বাদ পড়েন তিনি। যদিও দক্ষিণ এশিয়ান দৌড়বিদদের মধ্যে দ্বিতীয় সেরা টাইমিং উপহার দিয়েছেন তিনি। প্রথম রাউন্ডের ৯ নম্বর হিটে ১০.৩৯ সেকেন্ড সময় নিয়ে ছয় জনের মধ্যে তৃতীয় হন। যদিও তার হিটে ১০.১৪ সেকেন্ডে প্রথম হয়ে পরবর্তী রাউন্ডে কোয়ালিফাই করেছেন ত্রিনিদানের ওমারি লুইস। সব মিলিয়ে হিটে অংশ নেওয়া ৭৩ জন স্প্রিন্টারের মধ্যে ইমরানুরের অবস্থান ২৭তম। যদিও মে মাসে জাতীয় অ্যাথলেটিকসে করা (১০.৫৮ সেকেন্ড) টাইমিংয়ের চেয়ে এটা ভালো। তবে তার ক্যারিয়ার সেরা টাইমিং বলছে ভিন্ন কথা। ২০২৩ সালে লন্ডনের স্ট্যাটফোর্ড কমিউনিটি ট্র্যাকে একটি আমন্ত্রণমূলক প্রতিযোগিতায় ১০.১১ সেকেন্ড টাইমিংই তার ক্যারিয়ারের সেরা।

শিরিনেরও একই দশা। গ্লাসগোর ট্র্যাকে আরও বর্ণহীন ছিলেন শিরিন। প্রথম রাউন্ডে ৭ নম্বর হিটে দাঁড়িয়ে ১২.৩৯ সেকেন্ড সময় নিয়ে সাত জনের মধ্যে সপ্তম হন তিনি। মে মাসে জাতীয় চ্যাম্পিয়নশিপে তার টাইমিং দেখলে চোখ কপালে উঠতে বাধ্য, ১২.১০ সেকেন্ড। তবে তার ক্যারিয়ার সেরা টাইমিং ছিল ২০২২ সালে ১১.৯৫ সেকেন্ড এবং দ্বিতীয় সেরা ২০১৬ সালে গুয়াহাটি সাউথ এশিয়ান (এসএ) গেমসে ছিল ১১.৯৯ সেকেন্ড।

বাংলাদেশ অ্যাথলেটিকস ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আলী ইমাম তপন বলেন, ‘কমনওয়েলথ গেমস আমাদের রেঞ্জের অনেক ওপরে। এখানে যারা অংশ নেয়, তারা বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরাও অংশ নেয়। আমরা এশিয়ান গেমস পর্যন্ত যেতে পারি না। এসএ গেমসই আমাদের ভরসা।’

তিনি যোগ করেন, ‘আসলে দীর্ঘমেয়াদি প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে এবং বিদেশি প্রশিক্ষক আনতে হবে আমাদের। গোঁজামিল দিয়ে দল বিদেশে গেলে ফল এমন হবেই। যদিও আমরা জানি, এসব গেমসে অংশ না নিলে আন্তর্জাতিক অ্যাথলেটিকস ফেডারেশনে আমাদের নিবন্ধন বাতিল হয়ে যাবে। তাই টোকেন পার্টিসিপেন্ট করতে হয়। এটা ভারত বাদে দক্ষিণ এশিয়ার সবাইকে এভাবে অংশ নিতে হয়।’ ইমরানুরের বিষয়ে তপন বলেন, ‘তবে আমাদের আশা ছিল ইমরানুর ভালো কিছু করবে। কারণ সে লন্ডন থেকে সরাসরি অংশ নিয়েছে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত