ইরাকের কুর্দি নিয়ন্ত্রিত গ্যাসক্ষেত্রে ড্রোন হামলা

আপডেট : ২৮ জুলাই ২০২৬, ০৯:২৮ এএম

উত্তর ইরাকের কুর্দি নিয়ন্ত্রিত অঞ্চলের সুলাইমানিয়ায় অবস্থিত কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ‘খোর মোর’ গ্যাসক্ষেত্রে একটি ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম আইআরআইবি এই হামলার কথা নিশ্চিত করেছে। অঞ্চলটির অধিকাংশ বিদ্যুৎকেন্দ্রে গ্যাস সরবরাহের প্রধান উৎস এই গ্যাসক্ষেত্রটি হওয়ায় হামলার পর পুরো এলাকার বিদ্যুৎ পরিষেবা বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

গ্যাসক্ষেত্রে হামলার ঠিক প্রায় একই সময়ে সুলাইমানিয়া থেকে ২০০ কিলোমিটার দূরে কুর্দিস্তানের রাজধানী এরবিলেও পরপর বেশ কয়েকটি বিকট বিস্ফোরণের শব্দ পাওয়া যায়। স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে বিস্ফোরণের তীব্রতা স্পষ্ট ফুটে উঠেছে। সংবাদ মাধ্যমগুলোর তথ্য অনুযায়ী, এরবিলে মার্কিন কনস্যুলেটের নিকটবর্তী এলাকাসহ বিভিন্ন স্থান লক্ষ্য করে অন্তত সাতটি বিস্ফোরণ ঘটানো হয়।

হামলার বিষয়ে পুলিশ সূত্র জানিয়েছে, উত্তর-পূর্ব এরবিলের খালিফান ও সোরান এলাকাকে লক্ষ্য করে অন্তত চারটি ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইরান। ড্রোনগুলোর আঘাতের পর পর লক্ষ্যবস্তু বানানো এলাকাগুলোতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের সৃষ্টি হয়। দুটি ড্রোন একদম লক্ষ্যবস্তুর খুব কাছে এসে বিধ্বস্ত হয় বলে পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

ঘটনার পরপরই আমেরিকান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় হয়ে ওঠে। ড্রোন হামলার জবাবে মার্কিন কনস্যুলেট ও আশপাশের আকাশে যুক্তরাষ্ট্রের ১০টিরও বেশি যুদ্ধবিমান ও সামরিক ড্রোন টহল দিতে দেখা যায়। হঠাৎ এই পাল্টাপাল্টি সামরিক তৎপরতায় পুরো ইরাকি কুর্দিস্তান অঞ্চলে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

উল্লেখ্য, নতুন মাত্রায় টানা ১৩ রাত বোমারু হামলার পর যুক্তরাষ্ট্র সাময়িকভাবে ইরানে তাদের সামরিক অভিযান স্থগিত ঘোষণা করে। ওয়াশিংটন হামলা স্থগিত করায় বিপরীত দিক থেকে ইরানও তাদের আক্রমণ বন্ধ রেখেছিল। তবে সেই সাময়িক বিরতির পরপরই উত্তর ইরাকের এই আকস্মিক হামলা আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের উদ্বেগ বাড়িয়ে দিয়েছে।

এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে খবরের ভিত্তিতে জানা যায়, অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জামের ঘাটতি থাকার কারণে মার্কিন প্রশাসন হামলা বন্ধ রেখেছে। কিন্তু প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ওই দাবি সরাসরি নাকচ করে জানান, আন্তর্জাতিক মধ্যস্থতাকারী দেশগুলোর অনুরোধে এবং শান্তির স্বার্থেই তিনি হামলা স্থগিতের নির্দেশ দিয়েছেন। 

ট্রাম্প আরও দাবি করেছেন, আমেরিকার সাথে ইরানের ইতিবাচক আলোচনা চলছে এবং খুব শিগগিরই ভালো কিছু ঘটার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে এই আলোচনার পূর্বাভাসের মধ্যেই ইরাকের মাটিতে মার্কিন স্বার্থে আঘাত হানায় নতুন করে শঙ্কা তৈরি হলো।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত