ট্যালকম পাউডার মামলায় সমঝোতা

৫.৫ বিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণে রাজি জেঅ্যান্ডজে

আপডেট : ২৮ জুলাই ২০২৬, ১১:১০ এএম

ট্যালকম-ভিত্তিক বেবি পাউডার ব্যবহারে ক্যানসারের অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্রে চলমান হাজার হাজার মামলা নিষ্পত্তি করতে ৫.৫ বিলিয়ন ডলার দিতে সম্মত হয়েছে ওষুধ ও স্বাস্থ্যপণ্য নির্মাতা প্রতিষ্ঠান জনসন অ্যান্ড জনসন (জেঅ্যান্ডজে)।

সোমবার প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল ও অঙ্গরাজ্য আদালতে চলমান প্রায় ৬৯ হাজার মামলাকে এই সমঝোতার আওতায় আনা হবে। দেশটিতে ট্যালক-সংক্রান্ত মোট বকেয়া মামলার প্রায় ৯৯ দশমিক ৭৫ শতাংশ এই চুক্তির অন্তর্ভুক্ত।

তবে এই সমঝোতা চূড়ান্ত হতে হলে রাজ্য ও ফেডারেল আদালতে থাকা মামলাগুলোর ৯৫ শতাংশ বাদীর সম্মতি প্রয়োজন হবে।

ট্যালক একটি নরম খনিজ পদার্থ, যা একসময় প্রসাধনী ও শিশুপণ্যে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হতো। তবে ক্যানসারের সঙ্গে এর সম্ভাব্য সম্পর্ক নিয়ে উদ্বেগ বাড়তে থাকায় এর ব্যবহার কমে যায়। ২০২৪ সালে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) ট্যালককে “সম্ভাব্যভাবে মানবদেহে ক্যানসার সৃষ্টি করতে পারে” এমন উপাদান হিসেবে শ্রেণিভুক্ত করে।

জনসন অ্যান্ড জনসন অবশ্য বরাবরই দাবি করে আসছে, ট্যালক ব্যবহারের সঙ্গে ক্যানসারের কোনো প্রমাণিত সম্পর্ক নেই। তবে প্রতিষ্ঠানটি ২০২০ সালে যুক্তরাষ্ট্রে এবং ২০২৩ সালে বিশ্বব্যাপী ট্যালক-ভিত্তিক বেবি পাউডার বিক্রি বন্ধ করে দেয়।

২০১৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রের একটি আদালত ডিম্বাশয়ের ক্যানসারে মারা যাওয়া এক নারীর পরিবারের পক্ষে রায় দিয়ে জনসন অ্যান্ড জনসনকে ৭২ মিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দেন। ট্যালক পণ্যের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রে এটি ছিল এ ধরনের প্রথম বড় মামলা। যদিও এক বছর পর ওই রায় বাতিল হয়ে যায়, এরপর কোম্পানিটির বিরুদ্ধে একের পর এক মামলা দায়ের হতে থাকে এবং বিভিন্ন আদালতে বাদীপক্ষের পক্ষে রায়ও আসে।

জনসন অ্যান্ড জনসনের মামলাবিষয়ক প্রধান এরিক হাস বলেন, এই সমঝোতার মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি দীর্ঘদিনের আইনি জটিলতার অবসান ঘটাতে পারবে।

বাদীপক্ষের আইনজীবীরাও এই সমঝোতাকে স্বাগত জানিয়েছেন। তারা এটিকে প্রায় এক দশক ধরে চলা আইনি লড়াইয়ের একটি গ্রহণযোগ্য সমাধান হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

তবে এই চুক্তির আওতায় যুক্তরাজ্যের মামলাগুলো অন্তর্ভুক্ত নয়। সেখানে জনসন অ্যান্ড জনসনের বিরুদ্ধে পণ্যের দায়বদ্ধতা নিয়ে দেশটির ইতিহাসের সবচেয়ে বড় মামলাগুলোর একটি চলছে। এতে ৭ হাজারের বেশি সম্ভাব্য দাবিদার রয়েছেন।

২০২৫ সালের অক্টোবরে দায়ের করা ওই মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, জনসন অ্যান্ড জনসন জানত যে তাদের ট্যালক পণ্য ডিম্বাশয়ের ক্যানসার ও মেসোথেলিওমাসহ বিভিন্ন ক্যানসারের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে, তবুও তারা পণ্য বিক্রি চালিয়ে গেছে। তবে কোম্পানিটি এই অভিযোগও অস্বীকার করেছে।

মামলাটি বর্তমানে যুক্তরাজ্যের হাইকোর্টে বিচারাধীন রয়েছে।

সূত্র: আল-জাজিরা

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত