ব্রাজিলে লালকার্ড দেখানোয় রেফারিকে গুতো, ভাঙল হাড়

আপডেট : ২৮ জুলাই ২০২৬, ০৫:০৭ পিএম

ব্রাজিলের সাও পওলোর ইটাপেতিনিঙ্গায় আয়োজিত অপেশাদার ফুটবল টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী ম্যাচে এক নজিরবিহীন ও নিন্দনীয় সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। প্রতিপক্ষ খেলোবরের সঙ্গে হাতাহাতি থামাতে গিয়ে খেলোয়াড়ের নৃশংস আক্রমণের শিকার হয়েছেন ৪১ বছর বয়সী অভিজ্ঞ রেফারি জুলিয়ানো আসিস দে সুজা।

লাল কার্ড দেখানোর পর 'প্রোজেতো আথেনাস' দলের খেলোয়াড় ফ্যাবিনহো সরাসরি রেফারির মুখে সজোরে মাথা দিয়ে আঘাত করেন। এই আঘাতে রেফারির মুখের হাড় ভেঙে গেছে এবং তাঁকে জরুরি অস্ত্রোপচারের (সার্জারি) জন্য হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

ইটাপেতিনিঙ্গা অপেশাদার চ্যাম্পিয়নশিপের প্রথম বিভাগে 'প্রোজেতো আথেনাস' ও 'সালভে কেব্রাদা'-র মধ্যকার ম্যাচের প্রথম ১০ মিনিটের মাথায় এই ঘটনা ঘটে। আথেনাস ১-০ গোলে এগিয়ে থাকা অবস্থায় দলের এক খেলোয়াড় প্রতিপক্ষের সাথে মারামারিতে লিপ্ত হতে গেলে রেফারি জুলিয়ানো তাকে শান্ত করার চেষ্টা করেন।

আক্রান্ত রেফারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় জানান, 'সে ফুটবল খেলতে আসেনি, এসেছিল মারামারি করতে। আমি তাকে শান্ত হতে বলি কারণ সে মানসিকভাবে খেলার মতো পরিস্থিতিতে ছিল না। আমি তাকে সতর্ক করে বলি যে শান্ত না হলে তাকে লাল কার্ড দিতে বাধ্য হব। এতে সে আমাকে গালাগালি করে লাল কার্ড দিতে বলে। আমি তাকে কার্ড দেখানোর মুহূর্তেই সে এসে আমার মুখে সজোরে হেডবাট করে।"

ঘটনাস্থলে কোনো পুলিশ সদস্য না থাকায় এবং অ্যাম্বুলেন্সে রেফারিকে জরুরি চিকিৎসার জন্য নিয়ে যাওয়ার সুযোগে অভিযুক্ত খেলোয়ার ফ্যাবিনহো মাঠ থেকে পালিয়ে যান।

ঘটনার পরপরই ইটাপেতিনিঙ্গার পৌর প্রশাসন, টুর্নামেন্ট আয়োজক ও ক্লাবগুলো জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক পদক্ষেপের ঘোষণা দিয়েছে। ফ্যাবিনহোকে ইটাপেতিনিঙ্গার যেকোনো ধরণের ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় আজীবন নিষিদ্ধ করা হয়েছে। প্রোজেতো আথেনাস' দলকে টুর্নামেন্ট থেকে সঙ্গে সঙ্গে বরখাস্ত করা হয়েছে এবং ক্রীড়া সচিবালয়ের অধীনস্থ যেকোনো আসর থেকে দুই বছরের জন্য নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত