সাড়ে সাত বছরে সড়কে নিহত ৪৮ হাজারের সাত হাজারই শিক্ষার্থী

আপডেট : ২৯ জুলাই ২০২৬, ০৭:৩৭ এএম

গত সাড়ে সাত বছরে (২০১৯ সাল থেকে চলতি বছরের জুন) দেশে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন ৪৮ হাজার ৭১৩ জন। এর মধ্যে শিক্ষার্থী মারা গেছেন ৭ হাজার ৩৬৪ জন, যা এই সময়ে সড়ক দুর্ঘটনায় মোট নিহতের ১৫ দশমিক ১১ শতাংশ। গতকাল মঙ্গলবার ‘রোড সেফটি ফাউন্ডেশন’ এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য তুলে ধরে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ৫ থেকে ১৭ বছর বয়সী স্কুল ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থী নিহত হয়েছে ৩ হাজার ৩২৮ জন, যা মোট শিক্ষার্থী নিহতের ৪৫ দশমিক ১৯ শতাংশ। এ ছাড়া ১৮ থেকে ২৫ বছর বয়সী কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪ হাজার ৩৬ শিক্ষার্থী নিহত হয়েছেন, যা মোট শিক্ষার্থী নিহতের ৫৪ দশমিক ৮০ শতাংশ।

রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের সড়কভিত্তিক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, শিক্ষার্থীদের মধ্যে মহাসড়কে নিহত হয়েছে ১ হাজার ৪৮২ জন (২০ দশমিক ১২ শতাংশ)। আঞ্চলিক সড়কে ২ হাজার ১৪৯ জন (২৯ দশমিক ১৮ শতাংশ)। শহরের সড়কে ১ হাজার ৭৮৬ জন (২৪ দশমিক ২৫ শতাংশ)। গ্রামীণ সড়কে ১ হাজার ৯৪৭ জন (২৬ দশমিক ৪৩ শতাংশ)। পথচারী হিসেবে নিহত ১ হাজার ৯২৩ শিক্ষার্থীর মধ্যে জাতীয় মহাসড়কে নিহত ২৫১ জন (১৩ দশমিক ০৫ শতাংশ)। আঞ্চলিক সড়কে ৪০৯ জন (২১ দশমিক ২৬ শতাংশ)। শহরের সড়কে ৫৩৭ জন (২৭ দশমিক ৯২ শতাংশ)। গ্রামীণ সড়কে ৭২৬ জন (৩৭ দশমিক ৭৫ শতাংশ)। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ৫ থেকে ১২ বছর বয়সী শিক্ষার্থীরা স্কুলে যাওয়া-আসার পথে এবং বাড়ির আশপাশে খেলার সময় অটোরিকশা, মোটরসাইকেল ও পণ্যবাহী যানবাহনের ধাক্কা বা চাপায় বেশি নিহত হয়েছে এবং এ ধরনের দুর্ঘটনা গ্রামীণ সড়কে বেশি ঘটেছে। এ ছাড়া ১৩ থেকে ২৫ বছর বয়সী শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে মোটরসাইকেলের চালক ও আরোহী হিসেবে মৃত্যুর হার সবচেয়ে বেশি। আর এসব দুর্ঘটনা আঞ্চলিক সড়ক ও মহাসড়কে বেশি ঘটেছে। অটোরিকশার চাকায় ওড়না বা পোশাক পেঁচিয়ে দুর্ঘটনার জন্য ব্যক্তিগত অসতর্কতাকে দায়ী করেছে সংস্থাটি। সংস্থাটি জানিয়েছে, গত সাড়ে সাত বছরে অসাবধানে রেললাইন পারাপারের সময় এবং কানে হেডফোন ব্যবহার করে রেললাইন ধরে হাঁটার সময় ট্রেনে কাটা পড়ে আরও ১ হাজার ২৩৭ জন শিক্ষার্থী নিহত হয়েছে। রোড সেফটি ফাউন্ডেশন বলছে, ত্রুটিপূর্ণ সড়ক, অনিরাপদ যানবাহন, সচেতনতার ঘাটতি, সড়ক নিরাপত্তা প্রশিক্ষণের অভাব, বেপরোয়া মোটরসাইকেল চালানো ও ট্রাফিক আইন না মানার প্রবণতা শিক্ষার্থী মৃত্যুর অন্যতম কারণ। এ সমস্যা কমাতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিরাপত্তা ক্যাম্পেইন, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, পাঠ্যক্রমে সড়ক নিরাপত্তা অন্তর্ভুক্তি, অনিরাপদ যানবাহন বন্ধ এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আশপাশে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদারের সুপারিশ করেছে সংস্থাটি।

প্রতিবেদনে বলা হয়, সড়ক পরিবহন আইনের বাধাহীন প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে। পরিবহন খাতের স্বার্থবাদী গোষ্ঠী নিজেদের দুর্নীতি ও চাঁদাবাজির স্বার্থে সড়কে বিশৃঙ্খলা বজায় রাখছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত