স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বললেন

সরকার মানব পাচার ও অনলাইন স্ক্যাম প্রতিরোধে কঠোর

আপডেট : ৩১ জুলাই ২০২৬, ০৭:২৪ এএম

মানব পাচার ও অনলাইন স্ক্যাম প্রতিরোধে সরকার কঠোর বলে জানিয়েছেন জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, মানব পাচার ও প্রযুক্তিনির্ভর অপরাধ থেকে নাগরিকদের সুরক্ষা দিতে সরকার সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করছে। গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর একটি হোটেলে ‘বিশ্ব মানব পাচারবিরোধী দিবস ২০২৬’ উপলক্ষে উচ্চপর্যায়ের জাতীয় সংলাপে তিনি এ সব কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, মানব পাচারের ধরন পরিবর্তনশীল এবং জটিল। অপরাধী চক্রগুলো এখন কেবল প্রচলিত উপায়ে নয়, বরং ডিজিটাল মাধ্যম, ভুয়া অনলাইন নিয়োগ প্ল্যাটফর্ম ও বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যম ব্যবহার করে তরুণ সমাজ ও চাকরিপ্রার্থীদের ফাঁদে ফেলছে। আকর্ষণীয় কর্মসংস্থান ও উন্নত ভবিষ্যতের মিথ্যা আশ্বাস দিয়ে ভুক্তভোগীদের বিদেশে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে এবং পরবর্তী সময়ে তারা সাইবার স্ক্যাম সেন্টারে বন্দি হয়ে চরম নির্যাতন ও জোরপূর্বক অপরাধমূলক কর্মকা- পরিচালনা করতে বাধ্য হচ্ছে। মানব পাচারচক্র এখন বিভিন্ন ডিজিটাল প্রযুক্তি ব্যবহার করে অপরাধে যুক্ত হচ্ছে। এটি মোকাবিলায় আইনশৃঙ্খলার পাশাপাশি প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান, বেসরকারি খাত ও সচেতন সমাজকে শক্তিশালী প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।

মানব পাচার প্রতিরোধে বর্তমান সরকারের পদক্ষেপসমূহ তুলে ধরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, সরকার ‘মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালান (প্রতিরোধ ও দমন) আইন, ২০২৬’ প্রণয়ন করেছে। জাতিসংঘের ইউএনটিওসি এবং সংশ্লিষ্ট প্রটোকলসমূহের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে প্রণীত এই আইনে অনলাইন স্ক্যাম, প্রযুক্তিনির্ভর প্রলোভন ও জোরপূর্বক অপরাধে বাধ্য করার মতো আধুনিক অপরাধগুলোকে কঠোর শাস্তির আওতায় আনা হয়েছে। একই সঙ্গে বাস্তবায়ন প্রক্রিয়াকে বেগবান করতে ‘মানব পাচার প্রতিরোধ ও দমন বিধিমালা, ২০১৭’ যুগোপযোগী করার কাজ চলছে।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ড. জিয়াউদ্দিন আহমেদ। বিশ্ব মানব পাচারবিরোধী দিবসের প্রতিপাদ্যের ওপর আলোকপাত করেন ইউএনওডিসি প্রোগ্রাম অফিস বাংলাদেশের প্রধান শাহ মোহাম্মদ নাহিয়ান। উদ্বোধনী সেশনের পর একটি তথ্যভিত্তিক ভিডিওচিত্র প্রদর্শিত হয়। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের রাজনৈতিক-১ অধিশাখার যুগ্মসচিব রেবেকা খানের সঞ্চালনায় এতে অংশ নেন সিআইডি প্রধান ব্যারিস্টার মোহাম্মদ মোশাররফ হোছাইন, ঢাকাস্থ ইতালি দূতাবাসের ইতালিয়ান স্টেট পুলিশের প্রতিনিধি জুসেপ্পে দি জিওভানি, ব্র্যাকের মাইগ্রেশন প্রোগ্রাম ও ইউথ প্ল্যাটফর্মের সহযোগী পরিচালক শরিফুল হাসান ও কম্বোডিয়ার অনলাইন স্ক্যাম সেন্টার থেকে মুক্ত হয়ে আসা ভুক্তভোগী নাহিদ আরমান।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত