মিয়ানমার থেকে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের বর্তমান পরিস্থিতি ও মানবিক সহায়তা কার্যক্রম সরেজমিনে পরিদর্শন করতে কক্সবাজারের উখিয়া রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শনে এসেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক বিশেষ দূত সার্জিও গোর। তার এই উচ্চপর্যায়ের সফরকে কেন্দ্র করে উখিয়ার বিভিন্ন ক্যাম্পে নাগরিক অধিকারসহ ‘নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসন’ নিশ্চিতের দাবিতে প্ল্যাকার্ড হাতে অবস্থান নিয়েছেন সাধারণ রোহিঙ্গারা।
শুক্রবার (৩১ জুলাই) দুপুরে প্রতিনিধি দল উখিয়ার ৪নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পে জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির (ডব্লিউএফপি) কার্যক্রম ও রোহিঙ্গাদের জীবনযাত্রা পর্যবেক্ষণ করেন।
এসময় মার্কিন বিশেষ দূত সার্জিও গোরের সঙ্গে বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি ক্রিস্টেনসেনসহ একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল ছিলেন।
এদিকে, মার্কিন প্রতিনিধি দলের এই আগমনকে ঘিরে সকাল থেকেই ৪নম্বর ও সংলগ্ন ৮ ওয়েস্ট (৮ডব্লিউ) ক্যাম্পে শত শত রোহিঙ্গা শরণার্থী রাস্তার দুই পাশে শান্তিপূর্ণ অবস্থান নেন। তাদের হাতে ছিল নিজেদের মাতৃভূমি মিয়ানমারে ফিরে যাওয়ার আকুল আবেদন সংবলিত বিভিন্ন প্ল্যাকার্ড। প্ল্যাকার্ডগুলোতে ইংরেজিতে লেখা ছিল ‘You Have Your Home! We Miss Our Home!’ (তোমাদের নিজস্ব বাড়ি আছে, আমরা আমাদের বাড়িকে মিস করছি), ‘No More Refugee Life, Returning Is Our Right’ (আর শরণার্থী জীবন নয়, নিজ দেশে ফেরাই আমাদের অধিকার) ও ‘Enough is Enough’ (আর নয় কষ্ট)।
অবস্থান কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া ৪ নম্বর ক্যাম্পের বাসিন্দা মো. জোবায়ের বলেন, আমরা এখানে যুগের পর যুগ শরণার্থীর মতো আশ্রিত হয়ে থাকতে চাই না। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বড় কর্মকর্তারা যখন ক্যাম্পে আসেন, তখন আমাদের মনে আশার আলো জাগে। আমরা তাদের স্পষ্ট জানাতে চাই আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উচিত কেবল ত্রাণ দেওয়া নয়, বরং আমাদের নাগরিক অধিকার ও নিরাপত্তার নিশ্চয়তা দিয়ে নিজ দেশ মায়ানমারে মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করা।
সফর ও সামগ্রিক বিষয়ে রিফিউজি রিলিফ অ্যান্ড রিপার্টরিয়েশন কমিশনের (আরআরআরসি) কার্যালয়ের কর্মকর্তারা জানায়, সাম্প্রতিক সময়ে রোহিঙ্গাদের জন্য আন্তর্জাতিক অর্থায়ন ও খাদ্য সহায়তা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। এই পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের মতো একটি প্রধান দাতা দেশের শীর্ষ কর্মকর্তার সফর অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। বিকেলে মার্কিন প্রতিনিধি দলের সঙ্গে কক্সবাজার কার্যালয়ে শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনারের একটি মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে, যেখানে প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া ও মানবিক সহায়তার বিষয়গুলো গুরুত্ব পাবে।
৮ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) অধিনায়ক রিয়াজ উদ্দিন আহমদ জানান, মার্কিন বিশেষ দূতের এই সফরকে কেন্দ্র করে পুরো উখিয়া ও ক্যাম্প এলাকায় নিচ্ছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। রোহিঙ্গাদের অবস্থান কর্মসূচি সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ ছিল এবং প্রতিনিধি দলের পরিদর্শন কার্যক্রম কোনো প্রকার বিঘ্ন ছাড়াই নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হয়েছে।
