সাবরাংয়ে হচ্ছে বিশ্বমানের পর্যটনকেন্দ্র

সাবরাং ট্যুরিজম পার্কে নির্মাণ হবে আধুনিক জেটি, সেখান থেকে মাত্র এক থেকে দুই ঘণ্টায় সেন্টমার্টিনে যাওয়ার পরিকল্পনা

আপডেট : ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:০০ এএম

দেশের পর্যটন খাতকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করতে কক্সবাজারের টেকনাফে নির্মাণাধীন ‘সাবরাং ট্যুরিজম পার্ক’ প্রকল্প পরিদর্শন করেছেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুল সাত্তার। শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৪টায় তিনি প্রকল্প এলাকায় পৌঁছালে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা) ও স্থানীয় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা তাঁকে স্বাগত জানান।

পরিদর্শনকালে মুখ্য সচিব সাবরাং ট্যুরিজম পার্কের চলমান অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং সাগরের ভাঙন রোধে প্রতিরক্ষামূলক বাঁধ নির্মাণকাজ ঘুরে দেখেন। পরে প্রকল্প কার্যালয়ে বেজার কর্মকর্তাদের সঙ্গে পার্কের বর্তমান অবস্থা, বাস্তবায়ন অগ্রগতি ও ভবিষ্যৎ মহাপরিকল্পনা নিয়ে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় এ বি এম আব্দুল সাত্তার বলেন, সাবরাং ট্যুরিজম পার্ককে দ্রুত বিশ্বমানের পূর্ণাঙ্গ পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে প্রয়োজনীয় কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এখানে দেশি-বিদেশি পর্যটকদের সর্বোচ্চ নিরাপত্তার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক মানের আধুনিক নাগরিক সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা হবে।

তিনি বলেন, এই মেগা প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে টেকনাফ অঞ্চলের পর্যটন সম্ভাবনা বহুগুণ বাড়বে এবং বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের সুযোগ তৈরি হবে।

সেন্টমার্টিনগামী পর্যটকদের যাতায়াত সহজ করতে যোগাযোগ ব্যবস্থার নতুন পরিকল্পনার কথাও জানান মুখ্য সচিব। তিনি বলেন, আগামী এক বছরের মধ্যে সাবরাং ট্যুরিজম পার্কের ঘড়ি ভাস্কর্যের পাশে একটি আধুনিক ও স্থায়ী জেটি নির্মাণের সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা রয়েছে।

এই জেটি নির্মাণ হলে পর্যটকেরা কক্সবাজার শহর থেকে দীর্ঘ পথ ঘুরে যাওয়ার পরিবর্তে সরাসরি ওই স্থান থেকে নৌপথে মাত্র এক থেকে দুই ঘণ্টায় সেন্টমার্টিনে যাতায়াত করতে পারবেন। এতে পর্যটকদের সময় ও অর্থের অপচয় উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে বলে জানান তিনি।

সভায় বেজার নির্বাহী সদস্য সালেহ আহমদ প্রকল্পের সার্বিক অগ্রগতি তুলে ধরেন। তিনি বলেন, আগামী ১০ বছরের কর্মপরিকল্পনায় সাবরাং পার্ককে বেজার পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।

তিনি জানান, পার্কে আন্তর্জাতিক মানের পাঁচ তারকা হোটেল, দৃষ্টিনন্দন ইকো-কটেজ, বিনোদনকেন্দ্র এবং পানির নিচে রেস্তোরাঁসহ বিভিন্ন আধুনিক আকর্ষণের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে পার্কের জমিতে হোটেল-রিসোর্ট নির্মাণের জন্য ২৮টি শীর্ষস্থানীয় বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানকে প্রায় ১২০ একর জমি বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠান থেকে প্রায় ৪৬ কোটি ডলারের বিনিয়োগ প্রস্তাব এসেছে।

সাবরাং ট্যুরিজম পার্ক প্রকল্পের সহকারী পরিচালক জুলহাজ আহমদ বলেন, আন্তর্জাতিক মানের এই পার্কে প্রতিদিন গড়ে ৩৯ থেকে ৪০ হাজার দেশি-বিদেশি পর্যটকের ধারণক্ষমতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে মাস্টারপ্ল্যান অনুযায়ী দ্রুত অবকাঠামো উন্নয়নের কাজ এগিয়ে চলছে।

মতবিনিময় সভায় কক্সবাজার জেলা ও টেকনাফ উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জেলা প্রশাসক আবদুল মান্নান এবং টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এসএম অনীক চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন। তাঁরা বলেন, দেশের প্রথম ও বৃহত্তম এই বিশেষায়িত এক্সক্লুসিভ ট্যুরিজম পার্কটি পুরোপুরি বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশের পর্যটন শিল্পে নতুন মাত্রা যোগ হবে।

তাঁরা আরও বলেন, প্রকল্পটি বিপুলসংখ্যক পর্যটক আকর্ষণের পাশাপাশি স্থানীয় অর্থনীতি চাঙা করবে। একই সঙ্গে প্রায় ৩৫ হাজার মানুষের জন্য সরাসরি কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে।

পরিদর্শনকালে আরও উপস্থিত ছিলেন বেজার উপসচিব ও প্রকল্প সমন্বয়ক মো. রফিকুল ইসলাম, টেকনাফ মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সাইফুল ইসলাম এবং স্থানীয় সরকারের বিভিন্ন দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত