যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় সান ডিয়েগোর মিরামার এয়ারবেসের কাছে মার্কিন মেরিন কোরের একটি অত্যাধুনিক এফ-৩৫বি (F-35B) স্টিলথ যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হয়েছে। শুক্রবার (৩১ জুলাই) স্থানীয় সময় সকালে এই দুর্ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনার মুহূর্তে পাইলট সফলভাবে বিমান থেকে বের হয়ে (ইজেক্ট করে) প্রাণে বেঁচে যান এবং বর্তমানে তিনি আশঙ্কামুক্ত অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
মেরিন কর্পস এক বিবৃতিতে জানায়, পাইলটকে স্থানীয় একটি হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। তিনি বর্তমানে স্থিতিশীল অবস্থায় রয়েছেন এবং তার আঘাতগুলো প্রাণঘাতী নয়।
একটি সংবাদ হেলিকপ্টার থেকে ধারণ করা আকাশপথের ভিডিওতে দুর্ঘটনাস্থল থেকে ঘন কালো ধোঁয়া উঠতে দেখা যায়। ঘটনাস্থলে একাধিক সামরিক ও দমকলের যানবাহন এবং উদ্ধারকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। আগুন নিয়ন্ত্রণে মাটিতে সাদা রঙের অগ্নিনির্বাপক রাসায়নিক ছিটিয়ে দেওয়া হয় এবং দমকলকর্মীদের আগুন নেভাতে কাজ করতে দেখা যায়।
সান ডিয়েগো ফায়ার বিভাগের মুখপাত্র ক্যান্ডেস হ্যাডলি জানান, বিমানটি বিধ্বস্ত হওয়ার পর আশপাশের এলাকায় ঝোপঝাড়ে আগুন লেগে যায়। সেই আগুন নিয়ন্ত্রণে দমকলকর্মীরা কাজ করেন। দুর্ঘটনা সম্পর্কে বিস্তারিত জানার জন্য তিনি মেরিন কর্পস এয়ার স্টেশন মিরামার কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগের পরামর্শ দেন।
মিরামার ঘাঁটিটি একসময় মার্কিন নৌবাহিনীর বিখ্যাত ফাইটার পাইলট প্রশিক্ষণ কেন্দ্র ছিল, যা ‘টপ গান’ চলচ্চিত্রে তুলে ধরা হয়েছিল। সে সময় এটি ‘ফাইটারটাউন ইউএসএ’ নামে পরিচিত ছিল। ১৯৯৬ সালে ঘাঁটিটির দায়িত্ব মেরিন কর্পসের কাছে হস্তান্তরের পর প্রশিক্ষণ কেন্দ্রটি নেভাডার নেভাল এয়ার স্টেশন ফ্যালনে স্থানান্তর করা হয়।
ফ্লাইট সেফটি ফাউন্ডেশনের এভিয়েশন সেফটি নেটওয়ার্ক-এর তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর যুক্তরাষ্ট্রে অন্তত সাতটি সামরিক বিমান দুর্ঘটনা ঘটেছে।
এর মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ দুর্ঘটনাটি ঘটে গত জুনে, যখন ক্যালিফোর্নিয়ার মোজাভি মরুভূমিতে উড্ডয়নের কিছুক্ষণ পর একটি বি-৫২ বোমারু বিমান বিধ্বস্ত হয়। ওই দুর্ঘটনায় বিমানে থাকা আটজনই নিহত হন।
এল নিনোর ভয়াবহ প্রভাব নিয়ে জাতিসংঘের সতর্কবার্তা